রূপগঞ্জ, : নেই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। মানবাধিকারের দায়িত্ব সম্পর্কেও ধারণা নেই তাদের। তবে তাদের কাছে রয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার আইডি কার্ড। এরা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে বেড়াচ্ছে। সহাস্রাধিক মানবাধিকার কর্মী ও কয়েকটি আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এখানকার সাংবাদিকদের প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে। এরা মানবাধিকার কর্মী হয়ে কিভাবে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দেয় এ নিয়ে প্রবীণ সাংবাদিকরাও হতাশ।
দৈনিক সংবাদ পত্রিকার সাব-এডিটর আলম হোসেন জানান, একজন সংবাদকর্মী মানবাধিককর্মী হতে পারে। একজন মানবাধিকার কর্মী কখনোই সাংবাদিক নয়। সাংবাদিকরা ইচ্ছে করলেই মানবাধিকার সংগঠনে যুক্ত হতে পারেন। কিন্তু একজন মানবাধিকারকর্মী কি করে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দেয়। তাদের কাজ কি, এ সম্পর্কেও ধারণা নেই।
ইদানিং কিছু মানবাধিকার কর্মী নিজেদের প্রথম শ্রেণীর পত্রিকার পরিচয় দিয়ে এরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে। ওইসব জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকদের সঙ্গেও নাকি তাদের যোগাযোগ আছে।
জানা গেছে, স¤প্রতি কাঠ মিস্ত্রি, মোটর মেকানিক, সেলুনের কারিগর, কবিরাজ, জমির দালাল, টেম্পু চালক, মাদক ব্যবসায়ী, জুয়াড়ি এমনকি ছিনতাইকারীর কাছেও রয়েছে মানবাধিকার সংস্থার আইডি কার্ড। এরা এখন রূপগঞ্জের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। কেউ কেউ পুলিশের সঙ্গে সম্পর্ক করে জুয়া ও মাদকের স্পট থেকে মাসোহারাও আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই ইতোমধ্যে মোটরসাইকেল কিংবা প্রাইভেটকারে সাংবাদিক, সংবাদপত্র, প্রেস, ঢাকা প্রেসক্লাব, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব নামে স্টিকার লাগিয়ে থানা, উপজেলা ও বিভিন্ন শিল্পকারখানায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
জুয়েল নামে একজন মানবাধিকার কর্মী নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ ও আইনী সহায়তা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে জুলেখা নামের একজন ভিক্ষুকের কাছ থেকেও টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় সাংবাদিকদের চাপের মুখে ওই মানবাধিকারকর্মী ভিক্ষুকের টাকা ফেরত দেন।
রূপগঞ্জের কোনো ব্যক্তি বা লোক মানবাধিকার কর্মীদের দ্বারা উপকৃত হয়েছেন এমন সংবাদ পাওয়া যায়নি। বরং মানবাধিকার কর্মীরা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে অনেক সময় সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এমন সংবাদ রয়েছে। এদের যন্ত্রণায় সাধারণ মানুষ নয়, প্রকৃত সাংবাদিকরা এখন অতিষ্ঠ। রূপগঞ্জের দাউদপুর, ভোলাব, মুড়াপাড়া, ভুলতা, গোলাকান্দাইল, তারাবো, কাঞ্চন, রূপগঞ্জ, চনপাড়া, কায়েতপাড়া এলাকায় সহস্রাধিক ব্যক্তি মানবাধিকার সংস্থার কার্ড নিয়ে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আসছে।
অভিযোগ রয়েছে, রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় সময় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। আর এসব ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহার করছে নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল। ছিনতাইয়ের কবলে পড়া মাঝিপাড়া এলাকার আজিজুল হক জানান, ছিনতাইকারীদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের পেছনে ঢাকা প্রেসক্লাব লেখা ছিল। ছুরিকাঘাত করে ৬ হাজার টাকা নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালেও সাংবাদিক ভেবে বিষয়টি আমলে নেননি।
অভিযোগ রয়েছে, মানবাধিকার সংস্থার একাধিক কর্মী একাধিক বিয়ে করেছেন। স্ত্রী একাধিক থাকলেও বরণ পোষণ করেন না। মানবাধিকারকর্মীর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলা রয়েছে। নিজ স্ত্রীর অধিকার পূরণ করতে না পারলেও তিনি মানবাধিকার কর্মী। ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকায় মিলছে মানবাধিকার সংস্থার আইডি কার্ড। আর এ কার্ড ব্যবহার করেই এলাকায় নানা অপরাধমূলক কর্মকা- চালিয়ে আসছে। উপজেলার হোড়গাঁও এলাকার একজন মানবাধিকারকর্মী নেশাগ্রস্ত থাকেন সব সময়। তিনি তার মোটরসাইকেলে ঢাকা প্রেসক্লাব লিখে রেখেছেন। তার এক ভাই পেশাধার জুয়াড়ি। গোলাকান্দাইল ইউনিয়নে নয়, পুরো রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারে ওই জুয়াড়ির পরিচিতি রয়েছে।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের ঢাকা বিভাগীয় মহাসচিব মনির হোসেন মনু বলেন, মানবাধিকারকর্মীরা কখনোই সাংবাদিক পরিচয় দিতে পারবেন না। তাদের কাজ সাংবাদিকতা নয়। শিক্ষিক ব্যক্তি ছাড়া একজন মানবাধিককর্মী হওয়া যায় না। এখন টাকার বিনিময়ে কিছু মানবাধিকার সংস্থার কার্ড পাওয়া যায় শুনেনি। তবে ওইসব সংগঠনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া উচিত। রূপগঞ্জে একটি দৈনিক পত্রিকার অর্ধ শতাধিক সাংবাদিক রয়েছে বলেও তিনি শুনেছেন।
ডেমরা থানা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক ও বাংলার খবর২৪.কমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাংবাদিক ফারুক আহাম্মেদ সুজন বলেন, মানবাধিকারকর্মীরা সাংবাদিক নয়। যারা সাংবাদিক পরিচয় দেয়, তাদের পুলিশে সোর্পদ করার আহবান জানান তিনি। রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুল ইসলাম বলেন, মানবাধিকার নামে একটি চক্র রূপগঞ্জ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ ইেন। ইতিমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রকাশক - ফারুক আহমেদ, যোগাযোগ : হাজী এম.এ গফুর স্কয়ার মার্কেট, দ্বিতীয় তলা , ষ্টাফ কোয়ার্টার, ডেমরা, ঢাকা- ১৩৬০। ফোন:০২ ৯৩৪৭৬৯, মোবাইল :০১৭৬১৮৮৫৯১৫,০১৯১২৭৭১০৫৪,০১৮১০১২৭২০৯, ইমেইল:banglarkhabar24@gmail.com, তথ্য মন্ত্রনালয় নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল, নিবন্ধন নম্বর: ৫৪.
বাংলার খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান