ঢাকা: প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেছেন, ‘২০০৮ সালে দেশের ৪৫ ভাগ এলাকা বিদ্যুতের আওতায় ছিল। বর্তমানে দেশের ৭০ ভাগেরও বেশী মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এসেছে। ২০২১ সালের মধ্যে দেশের সব মানুষ বিদ্যুৎ পাবে।’
শুক্রবার সকালে রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী ‘সেক্টর লিডারস ওয়ার্কশপ-২০১৫’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তবে গত ২০ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের অবর্তমানে জাতীয় সংসদে তার পক্ষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘দেশের ৬৮ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। তবে সরকার দেশের অবশিষ্ট জনগণকে দ্রুত বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনতে ২০১০ সালে প্রণীত পাওয়ার সিস্টেম মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী আগামী ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় ২০২১ সালে দেশের সব মানুষ বিদ্যুৎ পাবে বলে আশা করা যায়।’
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, ‘প্রতি মাসে দেড় লাখের মতো বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। এর অধিকাংশই গ্রাম এলাকায়। দেশে প্রতিনিয়ত বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। আমরা চেষ্টা করছি। আমাদের এখন ১১ হাজার মেগাওয়াটের মতো গ্রিড কানেক্টেড পাওয়ার রয়েছে। যদিও বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ১৩ হাজার মেগাওয়াটের মতো। যখন বেশী গরম পড়বে এবং সেচের চাহিদা বেড়ে ৮ হাজার সাড়ে ৮ হাজার হয়তো পৌঁছবে। আমরা চেষ্টা করছি চাহিদা মেটানোর জন্য।
বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুতের দাম তো আমরা বাড়াই না। এটা বিইআরসি করে। সেখানে বিভিন্ন কোম্পানির বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিইআরসি সেটা বিবেচনা করছে। তারা যেমন সংশ্লিষ্ট কোম্পানির লাভ-লোকসানের কথা চিন্তা করে আবার সাধারণ মানুষের কষ্টের কথাও চিন্তা করে। এ ব্যাপারে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চেয়ে আর কেউ বেশী সহনশীল না।
তৌফিক-ই-ইলাহী বলেন, ‘আগে দিনে ৫-৭ ঘণ্টা লোডশেডিং হতো। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এ খাতের উন্নয়ন হয়েছে। এখন আর এভাবে লোডশেডিং হয় না।
এর আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সেক্টরের কর্মকর্তাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘অনেকেই (দেশ-বিদেশ) আমাদের বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কথা বলেন। কিন্তু এক্ষেত্রে দেশের আর্থসামাজিক, রাজনৈতিকসহ পারিপার্শ্বিক অবস্থাও বিবেচনায় থাকতে হবে।’
বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এতে সভাপতিত্ব করেন। এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ। এছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ইশতিয়াক আহমেদ, বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান শাহীনুল ইসলাম খান, তাপস কুমার রায় প্রমুখ।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সেক্টরের কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এ কর্মশালার প্রথম দিনের শুরুতেই ‘সাসটেইনেবল এনার্জি সিকিউরিটি : অপশনস ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক কী নোট পেপার উপস্থাপন করেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মনোয়ার ইসলাম।
তবে দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালা শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল সোয়া ৫টায় শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর শনিবার সকাল ১০টায় দ্বিতীয় দিনের মতো এ কর্মশালা শুরু হবে। কর্মশালায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সেক্টেরের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র কর্মকর্তারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কী নোট পেপার উপস্থাপন করবেন।
প্রকাশক - ফারুক আহমেদ, যোগাযোগ : হাজী এম.এ গফুর স্কয়ার মার্কেট, দ্বিতীয় তলা , ষ্টাফ কোয়ার্টার, ডেমরা, ঢাকা- ১৩৬০। ফোন:০২ ৯৩৪৭৬৯, মোবাইল :০১৭৬১৮৮৫৯১৫,০১৯১২৭৭১০৫৪,০১৮১০১২৭২০৯, ইমেইল:banglarkhabar24@gmail.com, তথ্য মন্ত্রনালয় নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল, নিবন্ধন নম্বর: ৫৪.
বাংলার খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান