ঢাকা : লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে নেয়ার কোন সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ, বন্দিবিনিময়, যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ সেন্ট্রাল লন্ডনের বেডফোর্ড রো’র চেম্বারস অব এনথনি বেরি কিউসির ব্যারিস্টার টবি ক্যাডম্যান।
তারেক রহমানের বিরুদ্ধে জারি করা ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ব্যাপারে জানতে চাইলে বসনিয়ান যুদ্ধাপরাধ চেম্বারের প্রধান প্রসিকিউটর আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান বলেন, শুধু রাজনৈতিক কারণে এ আদেশ জারি করা হয়েছে। তারেক রহমান এ দেশে বসবাস করছেন এটা সবাই জানেন, তাই রেড নোটিশ জারির যৌক্তিকতা ছিল বলে আমি মনে করি না।
ব্যারিস্টার টবি ক্যাডম্যান বলেন, ইন্টারপোল পুলিশের একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। ইন্টারপোলের ‘রেড নোটিশ’ কোন গ্রেফতারি পরোয়ানা নয়। এ সংস্থার গ্রেফতারের কোন ক্ষমতা নেই। অপরাধী গ্রেফতারে তাদের নিজস্ব কোন বাহিনীও নেই। কাউকে গ্রেফতারের জন্য এ সংস্থা কোন দেশকে চাপও দিতে পারে না।
তিনি বলেন, ইন্টারপোলোর সদস্যভুক্ত কোন রাষ্ট্র কাউকে বিচারের মুখোমুখি করলে বা কারও বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে ইন্টারপোল নোটিশের মাধ্যমে তা তার সব সদস্য রাষ্ট্রকে জানিয়ে দেয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় ও অবস্থান নিশ্চিত করতে সদস্য দেশগুলোর পুলিশ বাহিনীকে সহায়তা করে।
তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যে তারেক রহমানের স্ট্যাটাস সম্পর্কে মন্তব্য করা আমার উচিত হবে না; এটা তারেক রহমান ও বৃটিশ সরকারের বিষয়। তবে এক্সট্রাডিশন অ্যাক্ট-২০০৩ অনুযায়ী বৃটেন এমন কাউকে নিজ দেশে সাধারণত প্রত্যর্পণ করে না; যে দেশ থেকে সে এসাইলাম আবেদন করেছে। তিনি বলেন, বৃটেন তারেক রহমানকে প্রত্যর্পণ করতে পারবে না। তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেয়ার সুযোগ কম। তারেক রহমানকে ফিরিয়ে নিতে হলে বৃটেনের কাছে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যাবর্তনের জন্য অফিসিয়ালি আবেদন জানাতে হবে; যা এখনও বাংলাদেশ সরকার করেনি। আর বৃটেন চাইলেও কাউকে প্রত্যর্পণ করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে অনেক বাধা রয়েছে। কারণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আদালতের আশ্রয় নেয়ার সুযোগ রয়েছে।
এ আইনজীবী বলেন, এক্সট্রাডিশন অ্যাক্ট ২০০৩ অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারকে তারেক রহমানকে ফিরিয়ে নিতে হলে বৃটিশ সরকারের কাছে আবেদনের পাশাপাশি আবেদনের স্বপক্ষে প্রমাণপত্র উপস্থাপন করতে হবে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও গ্রেফতারি পরোয়ানার উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ জমা দিতে হবে।
টবি বলেন, এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়; সে বিষয়টি আদালতে প্রমাণ করতে হবে। কিন্তু তারেক রহমানের বিষয়টি যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এটা পরিষ্কার, তাই এ ক্ষেত্রে আদালত বিষয়টি বিবেচনা করবে।
বৃটিশ আদালত এমন কাউকে নিজ দেশে প্রত্যর্পণ করে না, যার নিজ দেশে নিরপেক্ষ বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা কম। এ ছাড়া সরকার আদালতকে নিশ্চিত করতে হবে যে প্রত্যর্পণের পর ওই ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড বা তার ওপর আনা অভিযোগ ছাড়া অন্য অভিযোগে সাজা দেয়া হবে না। সর্বোপরি অভিযুক্ত ব্যক্তির আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকবে। সবশেষে আদালত বৃটিশ ‘এক্সট্রাডিশন অ্যাক্ট ২০০৩’ এবং ‘ইউরোপীয় হিউম্যান রাইটস অ্যাক্ট ১৯৯৮’ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবে। এর পর আপিলের সুযোগ তো রয়েই গেল। সব দিক বিবেচনায় তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে নেয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে।
টবি ক্যাডম্যান বলেন, ইন্টারপোলের রেড এলার্ট বাংলাদেশ সরকারের একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ। বিএনপিকে চাপে রাখতেই এমনটি করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিরোধী দল মতের নেতাকর্মীদের দমনের যে মহোৎসব চলছে, তাতে ন্যায়বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এসব বিবেচনায় কোন বৃটিশ আদালত তারেক রহমানকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের আদেশ করবেন বলে আমি মনে করি না।
টবি আরো বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আদালতকে ব্যবহারের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। কিন্তু বৃটিশ আদালত স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা প্রদর্শন করেন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এর প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অনুমতি দেন না।
প্রকাশক - ফারুক আহমেদ, যোগাযোগ : হাজী এম.এ গফুর স্কয়ার মার্কেট, দ্বিতীয় তলা , ষ্টাফ কোয়ার্টার, ডেমরা, ঢাকা- ১৩৬০। ফোন:০২ ৯৩৪৭৬৯, মোবাইল :০১৭৬১৮৮৫৯১৫,০১৯১২৭৭১০৫৪,০১৮১০১২৭২০৯, ইমেইল:banglarkhabar24@gmail.com, তথ্য মন্ত্রনালয় নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল, নিবন্ধন নম্বর: ৫৪.
বাংলার খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান