ঢাকা : রাজধানীর ইস্কাটনে গভীর রাতে সরকার দলীয় এমপি পুত্রের এলোপাথাড়ি গুলিতে জোড়া খুনের ঘটনার ঘাতককে মাদকাসক্ত পরিচয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আইনজ্ঞরা বলছেন, হত্যাকাণ্ডের মামলায় মাদকাসক্ত প্রমাণ করে আইনের ফাঁকফোকরে প্রকৃত খুনের সাজা থেকে রেহাই পাওয়ার চেষ্টা করবেন এই মামলার আসামি।
ঘটনার প্রায় এক মাস পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তাকে রিমান্ডে নিলেও বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত আসনের এমপি পিনু খান প্রভাব খাটিয়ে তার পুত্র বখতিয়ার আলম রনিকে নেশাগ্রস্থ ছিলো বলে প্রচার করে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। এমন অভিযোগে করছেন ভুক্তভোগিরা। তারা বলছেন, বখতিয়ার আলম রনির নামে লাইসেন্সকৃত পিস্তলের গুলিতে নিরীহ দুইটি হত্যাকাণ্ড ঘটলেও তাকে ক্ষমতার প্রভাবে নানা কায়দায় বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
চাঞ্চল্যকর এই জোড়া খুনের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত বখতিয়ার আলম রনির গাড়ি চালকের আদালতে স্বীকারোক্তি ও প্রমাণাদি থাকার পরও তাকে গ্রেফতার করতে গড়িমসি করেছিল রমনা থানা পুলিশ।
একপর্যায়ে তাকে গ্রেফতার করা হলেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নিতে পুলিশের হিমসিম খেতে হয়েছে। আদালত তাকে রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিলেও নানা কায়দায় চাপ প্রয়োগ করে আইনি প্রক্রিয়া থেকে দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গোয়েন্দা পুলিশ আদালতের নির্দেশে তাকে ডিবি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। কিন্তু নিহত দুই রিকশা চালকের পরিবার নিজেদের জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে তাদের প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন।
সূত্র জানায়, গত ১৩ এপ্রিল রাত পৌনে দুইটার দিকে নেশাগ্রস্ত ও মাতাল হয়ে রাজধানীর ইস্কাটনস্থ দিলু রোর্ডের মাথায় যানজটের কবলে পড়ে বখতিয়ার আলম রনির গাড়ি। এসময় তার লাইসেন্সকৃত পিস্তুল দিয়ে গাড়ির জানালা দিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়েন তিনি। এতে একটি দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিকদের বহনকারী সিএনজি অটোরিকশার চালক ইয়াকুব ও পাশের এক রিকশা চালক হাকিম গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।
পরে তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীণ অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় নিহত হাকিমের মা রমনা থানায় মামলা দায়ের করেন।
রমনা থানা পুলিশ তদন্ত করে খুনিকে সনাক্ত করলেও সরকারি দলের প্রভাবের কারণে আসামি বখতিয়ার আলম ওরফে রনিকে গ্রেফতারের ধারে কাছেও যেতে পারেনি। পরে মামলাটি ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়। এরপর জোড়া খুনের মামলার স্বাক্ষ্য প্রমাণাদি ও প্রত্যক্ষদর্শীর আদালতে স্বীকারোক্তির পর গোয়েন্দা পুলিশ রনিকে গ্রেফতার করে। এরপর আদালতের মাধ্যমে তাকে রিমান্ডে নেয়।
মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত বখতিয়ার রনি জোড়া খুনে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, গত ১৩ এপ্রিল রাতে তার এক বন্ধুকে মগবাজার মোড়ে নামিয়ে দিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে বাংলামোটরের দিকে যাচ্ছিলেন। দিলু রোডের মাথায় ময়লার ডাস্টবিন ও নির্মাণাধীন এলএমজি টাওয়ারের সামনে যানজটে তার গাড়িটি আটকা পড়েন। এতে তিনি বিরক্ত হয়ে গাড়ির জানালা খুলে তার লাইসেন্সকৃত পিস্তল দিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি করেন।
তিনি সু-চতুরতার সাথে এখন পুলিশের কাছে বলছেন, গুলি বর্ষণ করার সময় তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন। তার পিস্তলের গুলিতে দু’জন মারা যাওয়ার খবর তিনি জানতেন না বলে তদন্ত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। তবে লাইসেন্সকৃত পিস্তল দিয়ে গুলি চালানো ভুল ছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
সুত্র জানায়, গ্রেফতারকৃত বখতিয়ারের গাড়িচালক গত ১ জুন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। গাড়ি চালকের স্বীকারোক্তির পর এমপি পিনু খানের পুত্র বখতিয়ারকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ সিদ্ধান্ত নেয় এবং ওইদিনই তাকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত রনি ১১দিন আগে গ্রেফতার হলেও সংসদ সদস্যের পুত্র হওয়ার কারণে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেনি। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি অসুস্থতার ভান করেছেন বলেও জানা গেছে। ঘটনার সময় দুই খুনের ঘাতক রনির গাড়িতে আরো ৩ যুবক ছিলো। তাদেরকেও সনাক্ত করার জন্য গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৩ এপ্রিল রাতে পৃথক দু’টি আড্ডায় অংশ নেয়ার পর রনির গাড়িতে চড়েন তিন যুবক। তাদের মধ্যে জাহাঙ্গীর এবং টাইগার কামাল নামে ২জনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।
তারা বাংলামটরের ‘শ্যালে-২’ নামক একটি বারে যান। এরপর হোটেল সোনারগাঁওয়ে যান। সেখান থেকে রনি তার গাড়িযোগে মগবাজার মোড়ে জাহাঙ্গীর নামে এক যুবককে নামিয়ে দেন। এরপর গাড়ি ঘুরিয়ে বাংলামটর হয়ে হাতিরপুলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হন। রাত ১টা ৪৩ মিনিটের দিকে ইস্কাটনে যানজটে পড়ে গুলি ছোড়েন রনি। তখন তিনি চালকের পাশের আসনে বসা ছিলেন। আর পেছনের আসনে ছিলেন টাইগার কামাল। এরপর হাতিরপুলের বাসার সামনে কামালকে নামিয়ে দিয়ে বাসায় যান রনি।
সূত্র জানায়, বখতিয়ার আলম রনির দুই স্ত্রী। তার বেপরোয়া জীবনের কারণে এক স্ত্রী অন্যের হাত ধরে চলে গেছেন। তার সঙ্গে ‘যাত্রাগানের’ লোকদের ওঠাবসা। তার পরিবারের কোনো এক সদস্য যাত্রাপালার সঙ্গে জড়িত ছিল। দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় রনি স্ত্রীকে নিয়ে ধানমন্ডির ৪ নম্বর রোডের ২৫ নম্বর বাড়িতে থাকেন। তার মা এমপি পিনু খান পরিবার নিয়ে নাখালপাড়ার এমপি হোস্টেলে থাকেন। তদন্তকারীরা রনির অতীত জীবনের অপরাধ খতিয়ে দেখছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, প্রথমে গত ১ জুন বখতিয়ার রনিকে রিমান্ডে নেয়া হয়। এসময় তিনি অসুস্থতার কথা বলে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে রাজারবাগ হাসপাতালসহ তিনটি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সময় ক্ষেপণ করেন তিনি। আর এসব হাসপাতালের চিকিৎসকরা বখতিয়ারের কোনো রোগ পাননি বলে জানা গেছে।
গোয়েন্দা পুলিশের এক সূত্র জানায়, নেশাগ্রস্থ আওয়ামী লীগ নেত্রীর পুত্রের ওই রাতের গুলিতে অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী ও রিকশাচালক আবদুল হাকিম প্রথমে গুরুতর আহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাকিম ১৫ এপ্রিল বিকেলে এবং ২৩ এপ্রিল ইয়াকুব মারা যান।
নিহত ইয়াকুব দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার অটোরিকশাচালক। তিনি রাতের ডিউটি করা সাংবাদিকদের বাসায় পৌঁছে দিতেন। এ ঘটনায় রিকশা চালক হাকিমের মা ১৫ এপ্রিল রাতে রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহারে তিনি গাড়ি থেকে একজন ব্যক্তি গুলি চালিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
তবে গুলিবর্ষণকারীর নাম ঠিকানা বা গাড়ির বর্ণনা উল্লেখ করতে পারেননি। বখতিয়ার ধানমন্ডির বাসায় থাকেন এবং শেয়ার ব্যবসা করেন বলে জানা গেছে।
গোয়েন্দা পুলিশের সূত্রটি আরো জানায়, মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে রমনা থানার পুলিশ। থানার পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ছায়া তদন্ত শুরু করে। ডিবির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ও আশপাশের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা গুলিবর্ষণকারী ও তার গাড়ির বর্ণনা পান। গত ২৪ মে মামলার তদন্তভার ডিবি পায়। এরপর ডিবি পুরোপুরি মাঠে নামে গোয়েন্দারা। তদন্তকারীরা গুলিবর্ষণকারী ও তার গাড়ি শনাক্ত করতে তথ্যদাতা নিয়োগ করেন।
এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বখতিয়ারের প্রাডো গাড়িটি শনাক্ত করেন এবং গাড়িটির চালকের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হন। এরপর গত ৩১ মে দুপুরে ধানমন্ডিতে বখতিয়ারের বাসার কাছ থেকে গাড়ির চালক ইমরান ফকিরকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ঘটনার প্রত্যক্ষ বর্ণনা দিয়ে তথ্য দেন।
তিনি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বলেন, গত ১৩ এপ্রিল রাতে নেশাগ্রস্থ বখতিয়ার তার লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়েছিলেন। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ধানমন্ডির বাসা থেকে বখতিয়ারকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করে। এসময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তল, পিস্তলের ২১টি গুলি ও দুটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়। এরপর উদ্ধারকৃত পিস্তলটির ব্যালাস্টিক পরীক্ষার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের(সিআইডি) পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। আর বখতিয়ারের প্রাডো গাড়িটি জব্দ করার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়।
গোয়েন্দা পুলিশের অপর এক সূত্র জানায়, গত ১ জুন বখতিয়ার আলম রনির গাড়ি চালক ইমরান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির দেয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ওই দিন বখতিয়ার আলম রনিকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করা হয়। আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেয়ার পর ১ জুন সন্ধ্যায় তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করার কথা জানান।
প্রথমে তাকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। এরপর সেখান থেকে ৩ জুন পাঠানো হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। গত ৬ জুন তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। পরে আদালতে নেয়া হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে বখতিয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কারাগার থেকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) দীপক কুমার দাস আদালতে দেয়া প্রতিবেদনে বলেন, বখতিয়ারের বিরুদ্ধে জোড়া খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার যথেষ্ট স্বাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি ও তার গাড়িচালক দু’জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছেন। বখতিয়ার অসুস্থতা ও মাদকাসক্তের ভান করে হত্যাকাণ্ডের দায় এড়াতে চাচ্ছেন। হাসপাতালে পরীক্ষা করে তার কোনো রোগ পাওয়া যায়নি বলে চিকিৎসকগণ জানিয়েছেন।
তবে তিনি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় জামিনে মুক্ত হলে মামলার বাদী ও স্বাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে, চাপ সৃষ্টি করে তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন বলে আদালতে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
নিহত হাকিমের মা ও মামলার বাদী মনোয়ারা বেগম রমনা থানাধীন মধুবাগ ঝিলপাড়ের বস্তিতে থাকেন। তার ছেলে মারা যাওয়ার পর এখন তিনি ঝিয়ের কাজ করছেন। আর প্রতি মুহুর্তে ছেলের জন্য কাঁদছেন বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছে।
মামলার বাদি মনোয়ারা বেগম বলেন, টাকা পয়সা কিছুই চাই না। শুধু ছেলে হত্যার বিচার চাই। খুনিরা প্রভাবশালী হওয়ায় বিচারের চাইতে নিজেদের জীবন নিয় নিরাপত্তাহীন অবস্থায় আছেন তারা।
এব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার (অপরাধ) কৃষ্ণপদ রায় শীর্ষ নিউজকে বলেন, এ বিষয়টি এখন গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছেন। তাই তাদেরকে ডিবিতে যোগাযোগ করতে বলেন।
প্রকাশক - ফারুক আহমেদ, যোগাযোগ : হাজী এম.এ গফুর স্কয়ার মার্কেট, দ্বিতীয় তলা , ষ্টাফ কোয়ার্টার, ডেমরা, ঢাকা- ১৩৬০। ফোন:০২ ৯৩৪৭৬৯, মোবাইল :০১৭৬১৮৮৫৯১৫,০১৯১২৭৭১০৫৪,০১৮১০১২৭২০৯, ইমেইল:banglarkhabar24@gmail.com, তথ্য মন্ত্রনালয় নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল, নিবন্ধন নম্বর: ৫৪.
বাংলার খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান