
প্রতিনিধি, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
রূপগঞ্জ উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নে দুই শতাধিক মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি সুদের জমজমাট ব্যবসা ও অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ব্যাংকের আদলে গ্রাহক তৈরি করে তাদের নিকট থেকে বিভিন্ন কৌশলে উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আমানত গ্রহণ করছে তথাকথিত এসব মাল্টিপারপাস। একই সাথে চড়া সুদে ঋণ প্রদান করে ঋণের দিগুণ টাকা আদায় করছে বলে গ্রাহকদের অভিযোগ। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পূর্বগ্রাম যুব কল্যান ও আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্প, আরডিপি ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি, গ্রামীন সেবা শ্রমজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড, মায়েরছায়া শ্রমজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেড, আল সাহারা মাল্টিপারপাস, প্রত্যাশা মাল্টিপারপাসসহ অন্তত দুই শতাধিক মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি অফিস খোলা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান শুধু সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধন নিয়ে অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কোনটি আবার রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার উদ্দেশে এনজিও হিসেবে নিবন্ধন করালেও মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির অনুমোদন দেখাতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানগুলো মাঠ পর্যায়ে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা, অনিয়ম ও দুর্নীতি করে ১৬ শতাংশ হারে সুদ দেয়াসহ দশ মাসে দ্বিগুণ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ও বিভিন্ন প্রকল্পের ম্যাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আমানত গ্রহণ করেছে। এ সমস্ত প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক সঞ্চয় প্রকল্প। ১ লাখ টাকা জমা দিয়ে মাসিক ২ হাজার টাকা মুনাফা প্রদান প্রকল্প, ৫ বছরে দ্বিগুণ প্রকল্প, হজ ডিপোজিট, পেনশন ডিপোজিট, বিশেষ হাউজিং প্যাকেজ, হাউজিং ডিপিএস প্যাকেজ, সঞ্চয় প্রকল্প, সুপারশপ প্রকল্প নামে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে নিয়মিত গণমাধ্যমে অবৈধ ব্যাংকিংয়ের ব্যাপারে সর্তক থাকার জন্য বিজ্ঞাপন প্রচার করা হলেও থেমে নেই এদের কার্যক্রম। জানা গেছে, উপজেলার ঘরে ঘরে যেন গড়ে উঠছে মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি। অফিস কাম রেসিডেন্স টাইপের এসব প্রতিষ্ঠানে চলে নিয়মবহির্ভূত ব্যাংকিং কার্যক্রম, ঋণ প্রদান, কিস্তি আদায় ও সঞ্চয় গ্রহণ। অনেক গুলোর আবার অফিসও নেই। পকেটই সে গুলোর সব। এক ব্যক্তিই এক কো-অপারেটিভের মালিক, এমনও আছে ভূরি ভূরি। মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভে উচ্চমুনাফার লোভ দেখিয়ে সংগ্রহ করা হয় স্থায়ী আমানতও। আমানতের কোটি টাকা হাতিয়ে অফিসে তালা ঝুলিয়ে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যাওয়ার নজিরও আছে। ক্ষতিগ্রস্ত্য গ্রাহক ও স্থানীয়রা জানায়, সম্প্রতি উপজেলার দাউদপুর এলাকায় পদ্মা মাল্টিপারপাস নামে একটি সমবায় সমিতির পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা গ্রাহকদের আমানতের কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে অফিসে তালা ঝুলিয়ে রাতের অাঁধারে পালিয়ে গেছে। বর্তমানে পদ্মা মাল্টিপারপাসের গ্রাহকরা তাদের আমানতের টাকা ফেরত পেতে ও প্রতারক জাহাঙ্গীর আলম মোল্লার বিচারের দাবিতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। অপরদিকে, ভুলতা এলাকায় অবস্থিত আরডিপি ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির চেয়ারম্যান ও তার ৮ সহযোগী বর্তমানে সাতক্ষীরা শহরের টাইগার প্লাস এলাকা থেকে গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে রয়েছে। গ্রাহকদের জমানো প্রায় ৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় তারা গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে রয়েছেন। তাই ভুলতা এলাকার গ্রাহকরা আশংকা করছেন, আরডিপি ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির ভুলতাস্থ অফিস যে কোন মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, সমবায় অফিস থেকে রেজিস্ট্রেশন নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে চলছে জমজমাট দাদন ব্যবসা। তবু একের পর এক গড়ে উঠছে মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি। অনুসন্ধ্যানে জানা যায়, এসব কো-অপারেটিভ সোসাইটি থেকে দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক, অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক ভিত্তিতে গ্রাহকদের ঋণ দেয়া হয়।
প্রকাশক - ফারুক আহমেদ, যোগাযোগ : হাজী এম.এ গফুর স্কয়ার মার্কেট, দ্বিতীয় তলা , ষ্টাফ কোয়ার্টার, ডেমরা, ঢাকা- ১৩৬০। ফোন:০২ ৯৩৪৭৬৯, মোবাইল :০১৭৬১৮৮৫৯১৫,০১৯১২৭৭১০৫৪,০১৮১০১২৭২০৯, ইমেইল:banglarkhabar24@gmail.com, তথ্য মন্ত্রনালয় নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল, নিবন্ধন নম্বর: ৫৪.
বাংলার খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান