ডেস্ক: ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয় হত্যার দ্রুত তদন্ত এবং জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয় সংস্থা ইউনেস্কো।
বুধবার সংস্থার বিবৃতিতে এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দাও জানানো হয়।
ওই বিবৃতিতে নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয়কে ‘নিলয় চক্রবর্তী’ নামে উল্লেখ করেছে ইউনেস্কো।
সংস্থার মহাপরিচালক ইরিনো বোকোভা বলেন, “আমি নিলয় চক্রবর্তীকে হত্যা এবং বাংলাদেশের সাংবাদিকদের হুমকির নিন্দা জানাই।”
শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর পূর্ব গোড়ানের বাসায় ঢুকে নিলয়কে কুপিয়ে হত্যা করে কয়েক যুবক।
বিবৃতিতে ইউনেস্কো প্রধান বলেন, “সন্ত্রাস এবং সহিংসতা তথ্যের অবাধ প্রবাহে বাধা হতে পারে না। সাংবাদকর্মীদের সব ধরনের হয়রানিমুক্ত হয়ে নিরাপদ কাজ করার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
“আমি এ ধরনের নৃশংস ঘটনার দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছি।”
২৭ বছর বয়সী নিলয় রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কালেকটিভ নামে একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। ব্লগে ‘নিলয় নীল’ নামে সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে লেখালেখিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি।
খুন হওয়ার আড়াই মাস আগেই নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে জিডি করতে গেলেও সংশ্লিষ্ট থানা তা নেয়নি বলে ফেইসবুক পোস্টে জানিয়েছিলেন নিলয়।
হত্যাকাণ্ডের পর দায় স্বীকার করে আল কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশের (একিউআইএস) বাংলাদেশ শাখা, আনসার আল ইসলামের নামে গণমাধ্যমে ই-মেইল বার্তা পাঠানো হয়েছিল।
ব্লগার হত্যা ‘অগ্রহণযোগ্য’: আবাসিক সমন্বয়ক
এদিকে বাংলাদেশে একের পর এক ব্লগার খুন হওয়াকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি রবার্ট ওয়াটকিন্স।
বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি কর্মশালায় অংশ নিয়ে ওয়াটকিন্স বলেন, সবারই স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের অধিকার থাকা উচিত।
তিনি বলেন, “তারা (জনগণ) আইন ভঙ্গ করলে সেটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু হত্যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”
একের পর এক ব্লগার হত্যার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি এসব ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানায় জাতিসংঘ।
এসব হত্যাকা- সম্পর্কে ওয়াটকিন্স বলেন, “একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রই শুধু মুক্তচিন্তা এবং মতপ্রকাশের সুযোগ করে দিতে পারে।”
বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে আয়োজিত দুইদিনের কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হকও বক্তব্য দেন।
সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা কর্মশালায় অংশ নিচ্ছেন।
জাতিসংঘের সমন্বয়ক বলেন, “বাংলাদেশের সৌভাগ্য যে এখনো সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দেয়নি। তারপরও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মোকাবেলার বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে কর্মকর্তারা এই কর্মশালার মাধ্যমে জানতে পারবেন।”
পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক তার বক্তব্যে বলেন, বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী হুমকি এবং তা মোকাবেলার উপায় সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতেই এই কর্মশালা।
প্রকাশক - ফারুক আহমেদ, যোগাযোগ : হাজী এম.এ গফুর স্কয়ার মার্কেট, দ্বিতীয় তলা , ষ্টাফ কোয়ার্টার, ডেমরা, ঢাকা- ১৩৬০। ফোন:০২ ৯৩৪৭৬৯, মোবাইল :০১৭৬১৮৮৫৯১৫,০১৯১২৭৭১০৫৪,০১৮১০১২৭২০৯, ইমেইল:banglarkhabar24@gmail.com, তথ্য মন্ত্রনালয় নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল, নিবন্ধন নম্বর: ৫৪.
বাংলার খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান