কলকাতা: আদালতে চলা বেআইনি অনুপ্রবেশ মামলা প্রত্যাহারের পর ‘পুশ-ব্যাক’ ফর্মুলায় সাত খুনের মূল আসামি নূর হোসেনকে ফিরিয়ে দেবে বলে জানিয়েছে ভারত।
দিল্লি-ঢাকা বোঝাপড়ার জেরে শিগগিরই যে নূর হোসেনকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেয়া হবে বলে স্বীকার করেছেন বিধাননগর কমিশনারেটের গোয়েন্দা প্রধান কঙ্করপ্রসাদ বারুই।
প্রসঙ্গত, গত বছর ১৪ জুন বিধাননগর কমিশনারেটের অধীন বাগুইআটি থানা এলাকার একটি বহুতল ফ্ল্যাট থেকে নূর হোসেন ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। নূর হোসেনকে না পাওয়ায় মামলাটি কাক্সিক্ষত গতি পাচ্ছে না।
দিন কয়েক আগে বাংলাদেশের তরফে চিঠি পাঠিয়ে ভারত সরকারের কাছে নূর হোসেনকে ফিরিয়ে দিতে ফের অনুরোধ করা হয়েছে। সেই চিঠির ভিত্তিতে গত সপ্তাহেই সিবিআই নূর হোসেনকে নিয়ে একটি রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে কলকাতার বিধাননগর সিটি পুলিশের কাছে। ইতিমধ্যে সেই চিঠির উত্তর সিবিআইয়ের কাছে পাঠিয়েও দিয়েছে বিধাননগর সিটি পুলিশ।
জানা গেছে, নূর হোসেনকে ধরার জন্য ‘লুক আউট নোটিশ’ জারি করেছিল বাংলাদেশের সরকার। সেই ‘লুক আউট নোটিশ’ ইন্টারপোলের কাছেও পাঠানো হয়েছিল। ভারতে ইন্টারপোলের নোডাল সংস্থা হল সিবিআই। সেই সূত্রে ইন্টারপোলের তরফে চিঠি আসার পরই নূরের সম্পর্কে বিশদ জানতে তৎপর হয়ে ওঠে সিবিআই। সিবিআইয়ের মাধ্যমে সেই চিঠির উত্তরও ইতিমধ্যেই ভারতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে জানিয়েও দেয়া হয়েছে।
বিধাননগর সিটি পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই নূর হোসেনকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এই বিষয় নিয়ে পুলিশের কোনো কর্মকর্তা অবশ্য মুখ খুলতে চাননি।
সূত্র থেকে জানা গেছে, ইতিমধ্যেই বারাসতের প্রথম অতিরিক্ত জেলা জজের এজলাসে নূর হোসেনের মামলা তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করেছে পুলিশ। যদি মামলা তুলে নেয়ার ক্ষেত্রে আদালত সম্মতি দেয়, সে ক্ষেত্রে বাংলাদশের সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে একটি দিন ঠিক করা হবে। সেই নির্দিষ্ট দিনে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তেই নূর হোসেনকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেয়া হতে পারে। তবে তা পুরোটাই নির্ভর করছে আদালতের নির্দেশের ওপর।
উল্লেখ্য, গত বছর ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ মোট সাতজনকে অপহরণ করা হয়। ৩০ এপ্রিল অপহৃতদের দেহ ভাসতে দেখা গিয়েছিল শীতলক্ষ্যা নদীতে। নূর হোসেনই এই সাতটি খুনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ ছিল। দিন কয়েক আগে বারাসত আদালতে মামলা উঠলেও জামিনে থাকা খান সুমন হাজির না হওয়ায় চার্জ গঠন করা সম্ভব হয়নি। ফলে মামলার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়ছিল। কিন্তু এবার পুশ-ব্যাক পদ্ধতিতে ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ায় এই মামলাটি আর চালানোর প্রয়োজন হচ্ছে না।
প্রকাশক - ফারুক আহমেদ, যোগাযোগ : হাজী এম.এ গফুর স্কয়ার মার্কেট, দ্বিতীয় তলা , ষ্টাফ কোয়ার্টার, ডেমরা, ঢাকা- ১৩৬০। ফোন:০২ ৯৩৪৭৬৯, মোবাইল :০১৭৬১৮৮৫৯১৫,০১৯১২৭৭১০৫৪,০১৮১০১২৭২০৯, ইমেইল:banglarkhabar24@gmail.com, তথ্য মন্ত্রনালয় নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল, নিবন্ধন নম্বর: ৫৪.
বাংলার খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান