ডেস্ক : বাংলাদেশের সঙ্গে আরাকান আর্মির কোনো শত্রুতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন আরাকান আর্মির নেতা রানিন সো'র। তাদের যুদ্ধ মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তারা আরাকান রাজ্যের স্বাধীনতা চান।
বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেলের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গত ২৬ আগস্ট বান্দরবান সীমান্তে বিজিবির সাথে সংগঠনটির রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের দুদিন পর রাঙামাটির রাজস্থলীর যেই বাড়ি থেকে আরাকান আর্মির পোশাকসহ একজনকে আটক করা হয়। সেই বাড়িটির মালিক রানিন সো। মূলত এরপরই আলোচনায় আসেন আরাকার আর্মির এ নেতা। বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিচ্ছে, মিয়ানমারের এমন অভিযোগও উড়িয়ে দেন রানিন সো।
হঠাৎ আলোচনায় আরাকান আর্মি। কারা এই আরাকান আর্মি? কেনইবা তাদের সশস্ত্র উত্থান? সেজন্য একটু পেছনে ফিরে দেখতে হবে। ১৭৮৪ সালে তৎকালিন বার্মার কৌনবাং সাম্রাজ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত স্বাধীন ছিলো আরাকান রাজ্য। তখন থেকেই রাখাইনদের রাজ্যে শুরু হয় বার্মার শাসন। এরপর ১৮৮৬ সালে আরাকান রাজ্য চলে যায় ব্রিটিশদের হাতে। ১৯৪৮ সালে উপনিবেশ থেকে মুক্তি পেলেও সমস্যা রয়েই যায়। এরপর মিয়ানমারের শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার আকাংখা থেকেই তৈরী হয় আরাকান আর্মি।
সীমান্তের ওপারের এসব বিরোধের রেশ পড়েছে বাংলাদেশেও। ২৬ আগস্ট বড় মদক সীমান্তে বিজিবি-আরাকান আর্মির গোলাগুলির পরই শিরোনামে জনৈক রানিন সো। রাঙ্গামাটিতে যার তিনতলা বিলাসবহুল বাসভবন। বিভিন্ন খবরে যার পরিচয় আরাকান আর্মির নেতা হিসেবে।
রানিন সোকে না পেলেও তার বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে দুই কেয়ারটেকার, ল্যাপটপ, মোটরসাইকেল, পোশাক আর ঘোড়া। এই ঘোড়া নিয়েই বিজিবি-আরাকান আর্মির সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে খবরে প্রকাশ।
স্কাইপ কথোপকথনে রানিন সোয়ের জানান কেন তাদের এই স্বাধীনতার সংগ্রাম।
১৭৮৪ সাল পর্যন্ত এটা আরাকান কিংডম ছিলো। এখানে অনেক কিছুই হয়, সব নিয়ে যায় মিয়ানমারের সেনারা। তাই আমরা স্বাধীনতা চাই।
স্বাধীনতার সেই লক্ষ্যে পৌঁছুতেই বিদ্রোহী দলের হাতে উঠেছে অস্ত্র। ২০০৯ সালের ১০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা করে আরাকান আর্মি। যাদের সুস্পষ্ট যুদ্ধ মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে।
দিনে দিনে শক্তি সঞ্চয় করেছে আরাকান আর্মি। চলে প্রশিক্ষণ, আছে অত্যাধুনিক অস্ত্রের মজুদ।
বাংলাদেশ সরকার আরাকান আর্মিকে আশ্রয় দেয় মিয়ানমারের এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন খোদ রানিন সো। বাংলাদেশের সাথে তাদের কোনো শত্রুতা নেই বলেও মত তার।
এই রানিন সোর জন্ম বাংলা ভূখণ্ডে ১৯৬৯ সালে। তবে পরের বছরই চলে যান মিয়ানমার। সেখানেই বড় হওয়া, পড়াশোনা আর রাজনীতি। নিজেকে চিকিৎসক দাবি করে জানিয়েছেন নিজের আয় দিয়েই রাঙ্গামাটিতে তৈরি করেছেন বিলাসবহুল এই বাড়ি।
প্রকাশক - ফারুক আহমেদ, যোগাযোগ : হাজী এম.এ গফুর স্কয়ার মার্কেট, দ্বিতীয় তলা , ষ্টাফ কোয়ার্টার, ডেমরা, ঢাকা- ১৩৬০। ফোন:০২ ৯৩৪৭৬৯, মোবাইল :০১৭৬১৮৮৫৯১৫,০১৯১২৭৭১০৫৪,০১৮১০১২৭২০৯, ইমেইল:banglarkhabar24@gmail.com, তথ্য মন্ত্রনালয় নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল, নিবন্ধন নম্বর: ৫৪.
বাংলার খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান