ডেস্ক: বাংলাদেশে দুইজন বিদেশীসহ সাম্প্রতিক কিছু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ার পটভূমিতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বাইরেও, আবাসিক ভবনগুলোর বাসিন্দারাও নিজেদের নিরাপত্তায় নানা উদ্যোগ নিতে শুরু করেছে।
এর অংশ হিসাবে সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য অনেকেই ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বা সিসি ক্যামেরার প্রতি গুরুত্ব দিতে শুরু করেছেন।
ঢাকার কলাবাগানের একটি বহুতল ভবনে নিরাপত্তা রক্ষী থাকলেও, ভবনটির মালিকরা এখন থেকে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বা সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ভবনটির মালিকদের একজন, ইব্রাহিম মুন্সী বলছেন, নিজেদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই তারা সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ইব্রাহিম মুন্সী বলছেন, ‘‘সম্প্রতি সারাদেশে যেসব সহিংসতা, হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, সেসব দেখে আমরা মনে করছি, আমাদের ভবনের নিরাপত্তার জন্য কয়েকটি সিসি ক্যামেরা বসানো দরকার। তাহলে কেউ যদি এরকম কিছু করে, তাহলে আমরা তাদের শনাক্ত করতে পারব। এছাড়াও হয়তো সিসি ক্যামেরার ভয়ে দুষ্কৃতিকারীরা কোন অপরাধ করার আগে দুইবার চিন্তা করবে।’’
ঢাকায় বেশ কয়েকবছর ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভবন, সরকারি বেসরকারি অফিস বা ব্যাংকে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি আবাসিক ভবনগুলোর পাশাপাশি অনেক এলাকার সমিতিগুলোর উদ্যোগে রাস্তাতেও ক্যামেরা বসানো হচ্ছে।
তবে সিসি ক্যামেরা স্থাপনে নির্দিষ্ট কোন নিয়ম বা বিধি নেই। কয়েক বছর আগে সব বহুতল ভবনে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য পুলিশ নাগরিকদের অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে বিষয়টি পুরোপুরি ঐচ্ছিক রাখা হয়েছে।
এখন ঢাকায় কত ভবনে এরকম ক্যামেরা রয়েছে, সেই তথ্যও নেই কারো কাছে। এ জাতীয় সরঞ্জাম বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, গত কয়েক মাসে এ জাতীয় পণ্যের বিক্রি কয়েকগুণ বেড়েছে।
ঢাকার একটি ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বাজার, মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারে অনেক দোকানেই সিসি ক্যামেরা বিক্রি হয়।
শাহেদ হোসেন নামের একজন বিক্রেতা বলছেন, ‘‘আগের তুলনায় ইদানীং আমাদের বিক্রি ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার কারণে মানুষজন নিরাপত্তার বিষয়ে বেশ সচেতন হয়ে উঠেছে। আবার এ জাতীয় সরঞ্জামের দামও এখন অনেক কম। তাই অনেকেই নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা কিনছেন।’’
তিনি জানান, বাণিজ্যিক ভবন বা অফিসের বাইরেও, আবাসিক ভবনগুলোর জন্যও অনেক ক্যামেরা বিক্রি হচ্ছে। ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতেও এই প্রবণতা বাড়ছে। তাদের মোট ক্রেতাদের ৬০ শতাংশই ঢাকার বাইরের।
এসব ক্যামেরায় টানা তিনমাস পর্যন্ত ভিডিও সংরক্ষণ করা যায়। চাহিদা অনুযায়ী দাম ওঠানামা করলেও, তা খুব বেশি নয়।
কয়েকজন জানালেন, তাদের এলাকায় অনেক আগে ক্যামেরা বসানো হলেও, সেগুলো কাজ করছে কিনা, তা যাচাই করা হতো না। কিন্তু এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেগুলোর সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে।
কিন্তু এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হওয়ার ঝুঁকি কতটা?
ইব্রাহিম মুন্সী বলছিলেন, তিনি মনে করেন না, এর কারণে কারো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হবে। কারণ এগুলো কারো ঘরে তো বসানো হচ্ছে না, উন্মুক্ত স্থানেই থাকছে। তাছাড়া নিরাপত্তার বিষয়টি সবার আগে বলেই তিনি মনে করেন।
ঢাকার প্রধান সড়কগুলোর বিভিন্ন পয়েন্টে কয়েক বছর আগে, সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে মহানগর পুলিশ। যদিও পরে এর অনেক ক্যামেরা পরে বিকল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে সেগুলো এখন মেরামতের পর এখন আবার কাজ করছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সুত্র: বিবিসি
প্রকাশক - ফারুক আহমেদ, যোগাযোগ : হাজী এম.এ গফুর স্কয়ার মার্কেট, দ্বিতীয় তলা , ষ্টাফ কোয়ার্টার, ডেমরা, ঢাকা- ১৩৬০। ফোন:০২ ৯৩৪৭৬৯, মোবাইল :০১৭৬১৮৮৫৯১৫,০১৯১২৭৭১০৫৪,০১৮১০১২৭২০৯, ইমেইল:banglarkhabar24@gmail.com, তথ্য মন্ত্রনালয় নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল, নিবন্ধন নম্বর: ৫৪.
বাংলার খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান