নারায়ণগঞ্জ: শহরের বাবুরাইলে শিশুসহ একই পরিবারের পাঁচজনের হত্যা মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রোববার রাতে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ মামলাটি ডিবিতে পাঠিয়ে দেয়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) আবদুল মালেক মামলা হস্তান্তরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে ডিবির ওসি মামুনুর রশিদ মণ্ডল জানিয়েছেন, তারা আনুষ্ঠানিক নথি পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাজ শুরু করবেন।
এর আগে সকালে নিহত তাসলিমা বেগমের স্বামী মো. শফিকুল ইসলাম বাদি হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় শফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, তার স্ত্রী তাসলিমা (২৮), মেয়ে সুমাইয়া (৪), ছেলে শান্ত (১০), ছোট ভাই শরীফ (২২), শরীফের স্ত্রী লামিয়া (২০) ও শ্যালক মোর্শেদুল ওরফে মোশাররফ নারায়ণগঞ্জ শহরের বাবুরাইলে ইসমাইল হোসেনের বাড়ির নিচ তলার ফ্ল্যাটে বসবাস করে আসছিলেন।
মামলায় আরও বলা হয়, ১০ বছর ধরে ঢাকার জনৈক জিয়ারুল হাসানের গাড়ির চালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন শফিকুল ইসলাম। প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার তিনি শহরের বাবুরাইলের বাসায় আসতেন। তবে ১৬ জানুয়ারি রাত ৮টা ৪০ মিনিটে তার ছোট ভাই শরীফ মোবাইল ফোনে তাকে জানায় কে বা কারা তাদের বাবুরাইলের ফ্ল্যাটে তালা মেরে পালিয়ে গেছে। পরে তারা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দুটি রুমের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় তাসলিমা বেগম, ছেলে শান্ত (১০), মেয়ে সুমাইয়া (৫), শ্যালক মোরশেদুল (২৫) ও ছোট ভাই শরীফের স্ত্রী লামিয়ার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, তার স্ত্রী তাসলিমার কাছে ঢাকার কলাবাগানের নাজমা ও শাহাজাহান নামের একাধিক ব্যক্তি প্রায় ১২ লাখ টাকা পেত যা মাসিক চক্রবৃদ্ধি সুদে নেওয়া ছিল। ওই টাকা সময় মতো পরিশোধ করতে না পারায় পাওনাদাররা প্রায় সময় টাকা পরিশোধের জন্য হুমকি দিতেন। এমনকি নাজমাও মাঝে মধ্যে তার পরিবার সন্তানদের দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেবে বলে হুমকি প্রদান করতেন। তার শ্যালক মোর্শেদুলের কাছেও টাকা পেত তারা। টাকা-পয়সা পাওয়ার সুবাধে পাওনাদার ব্যক্তিরা তার বাসায় যাওয়া আসা করতেন এবং এ ব্যাপারে চাপ প্রয়োগ করতেন।
এ ছাড়া তার ভাগিনা মাহফুজ তার ছোট ভাই শরীফের স্ত্রী লামিয়ার সঙ্গে ঢাকায় বসবসাসের সময়ে ‘যৌন আবেদন’ করলে পরবর্তীতে মাহফুজকে ঢাকায় রেখে নারায়ণগঞ্জ চলে আসেন তারা। মাহফুজ পুনরায় নারায়ণগঞ্জের বাসায় এসে লায়ির সঙ্গে একই ধরনের আচরণ করে। এতে লামিয়া অসন্তুষ্ট হয়। তার স্ত্রী তাসলিমা ও ছোট ভাই শরীফের কাছে লামিয়া বিষয়টি প্রকাশ করে। এ কারণে মাহফুজসহ অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীরা একই উদ্দেশ্যে পরস্পর যোগসাজশে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে শনিবার রাত ৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত যে কোনো সময় শক্ত কোনো ভোতা অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম ও গলায় ফাঁস লাগিয়ে পাঁচজনকে হত্যা করেছে।
প্রকাশক - ফারুক আহমেদ, যোগাযোগ : হাজী এম.এ গফুর স্কয়ার মার্কেট, দ্বিতীয় তলা , ষ্টাফ কোয়ার্টার, ডেমরা, ঢাকা- ১৩৬০। ফোন:০২ ৯৩৪৭৬৯, মোবাইল :০১৭৬১৮৮৫৯১৫,০১৯১২৭৭১০৫৪,০১৮১০১২৭২০৯, ইমেইল:banglarkhabar24@gmail.com, তথ্য মন্ত্রনালয় নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল, নিবন্ধন নম্বর: ৫৪.
বাংলার খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান