ঢাকা: ‘পুলিশের দায়িত্বহীনতার’ কারণে ছাত্রশিবির জয়পুরহাট জেলা সভাপতি আবু যর গিফরী, সেক্রেটারি ওমর আলী এবং শিবির নেতা আল আমিনকে চিরদিনের জন্য পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতারা।’
সোমবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল ইয়াছিন আরাফত এ অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে গুরুতর আহত তিন শিবির নেতাকে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা ও মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বিবৃতিতে শিবির নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, গত ৮ ডিসেম্বর ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় আসার পথে রাজধানীর আব্দুল্লাহপুরে বাস থেকে নামিয়ে ছাত্রশিবির জয়পুরহাট জেলা সভাপতি আবু যর গিফরী ও সেক্রেটারি ওমর আলীকে আটক করে আইনশৃংখলা বাহিনী। ৯ দিন পর ১৭ ডিসেম্বর নিখোঁজ দুই নেতাকে আটক করার কথা জানায় র্যাব। র্যাব-৫ এর পক্ষ থেকে বলা হয়, শিবিরের এই ২ নেতাসহ আরো একজনকে ভোররাতে জয়পুরহাটের পাচবিবি উপজেলার কদমতলী থেকে আটক করা হয়। এর সঙ্গে কথিত অস্ত্র উদ্ধারের নাটকও সাজায় র্যাব। ওই দিন দুই ছাত্রনেতাকেই সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির করা হয়। তারা তখন তারা স্বাভাবিকভাবে হেটে সকলের সামনে আসেন। র্যাব তাদের আটকের কথা জানানোর পরই পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পুলিশ তাদের পাওয়ার পরই কথিত বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে তাদের পায়ে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে। পরে আশংকাজনক অবস্থায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে। আহতদের প্রথমে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে, পরে বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, এরপর তাদের ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু তাদের পায়ের অবস্থা খারাপ হতে থাকে। পরে তাদের তিনজনেরই গুলিবিদ্ধ পা হাটু থেকে কেটে ফেলতে হয়েছে।
তারা বলেন, পুলিশের নৃশংস অমানবিক বর্বরতায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এভাবে আর কত নিরাপরাধ ছাত্রজনতা পঙ্গু হবে? কত সম্ভাবনা এভাবে অকালে ঝরে পড়বে? স্বজনদের প্রশ্ন আইন শৃংখলা বাহিনী এভাবে নিজেরাই আইন হাতে তুলে নিলে মানুষ কোথায় যাবে? কেউ অপরাধ করলে তাকে আইনের আওয়াতায় আনা যেতে পারে। যেখানে তার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকবে। কিন্তু আটক করেই পরিকল্পিত ভাবে মানুষকে চিরদিনের জন্য পঙ্গু করে দেয়া মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। কোনভাবেই তা সমর্থন যোগ্য হতে পারে না।
বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, পুলিশের এই নৃশংসতায় জাতি হতবাক। দেশ ও জনগণের প্রতি তাদের ওয়াদার কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে একের পর এক বর্বরতা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর বেআইনি ভাবে হাজির না করা এবং রাতের আধাঁরে গুলি করা কোন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব হতে পারেনা। এই নৃশংসতা পুলিশের মহান পেশার সম্পূর্ণ বিপরীত ও প্রতারণা। তাদের কিছু বর্বর কর্মকা- বার বার পুলিশের পবিত্র অবস্থানে কলঙ্ক লেপন করছে। পুলিশের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন অমানবিক কর্মকা-ে তাদের প্রতি জনগণের আস্থা শুন্যের কোটায় নেমে এসেছে। আমরা এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এই ঘটনার মাধ্যমে আবারো প্রমাণিত হয়েছে যে, দেশে আইনের শাসন ও মানবাধিকার আজ শুন্যের কোঠায়।
প্রকাশক - ফারুক আহমেদ, যোগাযোগ : হাজী এম.এ গফুর স্কয়ার মার্কেট, দ্বিতীয় তলা , ষ্টাফ কোয়ার্টার, ডেমরা, ঢাকা- ১৩৬০। ফোন:০২ ৯৩৪৭৬৯, মোবাইল :০১৭৬১৮৮৫৯১৫,০১৯১২৭৭১০৫৪,০১৮১০১২৭২০৯, ইমেইল:banglarkhabar24@gmail.com, তথ্য মন্ত্রনালয় নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল, নিবন্ধন নম্বর: ৫৪.
বাংলার খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান