টঙ্গী : এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র না পেয়ে বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা। প্রবেশপত্রের জন্য সপ্তাহব্যাপী অপেক্ষার প্রহর শেষে আজ শনিবার সন্ধ্যায় টঙ্গীর মিলগেট এলাকার নিউ মুন্নু ফাইন কটন মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ের ১শ’ ৪৩ জন এসএসসি পরীক্ষার্থী বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। বিদ্যালয়ে ভাঙচুর চালানোর পর একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা চালায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আজ রাত সাড়ে ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলচিল।
বিদ্যালয়টির পরীক্ষার্থীরা জানায়, টঙ্গীর বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গত ২৩ জানুয়ারি থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। কিন্তু মুন্নু ফাইন কটন মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তার স্কুলের পরীক্ষার্থীদেরকে প্রবেশপত্র না দিয়ে আজ-না-কাল এভাবে অহেতুক কালক্ষেপন করতে থাকেন। সর্বশেষ আজ প্রবেশপত্র বিতরণের আশ্বাস দিয়েছিলেন প্রধান শিক্ষক। কিন্তু আজ প্রবেশপত্র আনতে গিয়ে পরীক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ে পাননি। দিনভর অপেক্ষার প্রহর শেষে সন্ধ্যায় হতাশাগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। প্রধান শিক্ষকও যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়ায় একপর্যায়ে পরীক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে চড়াও হয়। এসময় তারা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরে মহাসড়কে অবরোধ সৃষ্টি করতে গেলে পুলিশ এসে তাদেরকে নিবৃত্ত করে।
এ ব্যাপারে পরীক্ষার্থী মোর্শেদা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আজ শনিবার এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র দেয়ার শেষ দিন, কিন্তু সন্ধ্যা হয়ে গেলেও প্রধান শিক্ষক আবদুল হাই স্যারের দেখা না পেয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। অপর পরীক্ষার্থী রনি জানায়, গত ১০ বছর যাবত আমি এই স্কুলে পড়া লেখা করছি। সরকারিভাবে ফরম ফিলাপের জন্য ১ হাজার ৭৫০ টাকা নির্ধারিত ফি জমা দেয়ার নিয়ম থাকলেও আমার কাছ থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা নিয়েছে। তারপরও আমার রেজিষ্ট্রেশন হয়নি। প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির কারণে আমাদের জীবন আজ অনিশ্চয়তার পথে। আমরা কি করবো বুঝে উঠতে পারছি না।
জানা গেছে, এবারও আলোচিত মুন্নু স্কুলের নিয়মিত ২৩ জন পরীক্ষার্থীসহ বিভিন্ন স্কুলের মোট ১৪৩ জন পরীক্ষার্থী স্কুলটির মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। স্কুলটির প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ছাত্র ছাত্রীদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন ও ফরম ফিলাপ বাবদ মোটা অঙ্কের টাকা তসরুফের কারণে গত বছর স্কুলটির নিবন্ধন বাতিল করে মাউশি কর্তৃপক্ষ। ফলে এবার টঙ্গীর বনমালা রোডের ধূমকেতু স্কুলের মাধ্যমে মুন্নু স্কুলের মোট ১৪৩ জন পরীক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, গত দুই বছরে প্রধান শিক্ষক ও তার সহযোগীদের দুর্নীতির কারণে রেজিষ্ট্রেশন বন্ধ রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও চারিত্রিকগত সমস্যার কারণে বিদ্যালয়টির এই দশা হয়েছে।
এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল হাই মুঠোফোনে বলেন, প্রবেশপত্রের জন্য আজ শনিবার শিক্ষাবোর্ডে গিয়েছিলাম। আমি যাওয়ার একটু আগে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার অফিস থেকে বেরিয়ে যান। ফলে অল্পের জন্য প্রবেশপত্রগুলো সংগ্রহ করতে পারিনি।
এব্যাপারে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাউশিতে নিউ মুন্নু ফাইন কটন মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ের কোনো অস্তিত্ব নেই। দুর্নীতির কারণে গত বছর তাদের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। ধূমকেতু স্কুলের নামে পরীক্ষার্থীদের নিবন্ধন হয়েছে। আগামীকাল রোববার তাদের প্রবেশপত্র ইস্যু করা হবে।
প্রকাশক - ফারুক আহমেদ, যোগাযোগ : হাজী এম.এ গফুর স্কয়ার মার্কেট, দ্বিতীয় তলা , ষ্টাফ কোয়ার্টার, ডেমরা, ঢাকা- ১৩৬০। ফোন:০২ ৯৩৪৭৬৯, মোবাইল :০১৭৬১৮৮৫৯১৫,০১৯১২৭৭১০৫৪,০১৮১০১২৭২০৯, ইমেইল:banglarkhabar24@gmail.com, তথ্য মন্ত্রনালয় নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল, নিবন্ধন নম্বর: ৫৪.
বাংলার খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান