ডেস্ক : বখাটের ছুরিকাঘাতে নিহত উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশার হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মঙ্গলবারও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে তার সহপাঠীরা।
রিশার খুনিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে কাকরাইল মোড়ে বেলা সাড়ে ১১টায় অবস্থান নেয় স্কুলের শিক্ষার্থীরা ও অভিভাবকরা। এতে কাকরাইলসহ আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
সোমবারও একইস্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে রিশার সহপাঠীরা। উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলে রিশার মৃত্যুতে আয়োজিত শোক সভায় যোগ দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ রিশার খুনিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার দাবি জানান।
পরে পুলিশের পক্ষ থেকে ৪৮ঘণ্টার মধ্যে রিশার খুনি ওবায়দুলকে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীরা। তবে আগামীকাল বুধবার সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করে শিক্ষার্থীরা।
২৪ আগস্ট দুপুরে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের সামনের ফুট ওভারব্রিজের ওপর স্কুলটির অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশাকে ছুরিকাঘাত করে টেইলারিং শপের কাটিং মাস্টার ওবায়দুল খান। এরপর রিশা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় ভর্তি ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
রিশা হত্যার ঘটনায় ইতিমধ্যে ওবায়দুল রহমানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সে যেন পালাতে না পারে, এ জন্য ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে পুলিশ।
রমনা থানার উপকমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার জানিয়েছেন, গতকাল সোমবার এই চিঠি পাঠানো হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ওবায়দুলকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
বিক্ষোভে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, পুলিশ ৪৮ঘণ্টার মধ্যে খুনিকে গ্রেপ্তারের কথা বলেছে। এর ২৪ঘণ্টা পার হয়ে গেছে অথচ এখনো তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। যতক্ষণ না রিশার খুনিকে গ্রেপ্তার না করা হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
এসময় তারা খুনি ওবায়দুলের ফাঁসি দাবি করেন।
‘রিশা হত্যার বিচার চাই,ঘাতকের ফাঁসি চাই/ বিচার চাই, বিচার চাই’ এসব স্লোগান সম্বলিত ফেস্টুন নিয়ে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা।
এদিকে শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।
নবম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে আমরা স্কুলে আসতে পারবো না। আমরা কী তাহলে স্কুলে আসা বন্ধ করে দেবো?’
লায়লা খাতুন নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘আমার সন্তান এই স্কুলে পড়ে।এই ঘটনার পর থেকে আমরা সন্তানদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। কখন কী হয়।’
অবিলম্বে খুনিকে গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তিনি।
আরেক অভিভাবক বলেন, ‘রিশা হত্যার ঘটনা যেন সাগর-রুনির মতো চাপা পড়ে না যায়। প্রশাসনকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে হবে।
প্রকাশক - ফারুক আহমেদ, যোগাযোগ : হাজী এম.এ গফুর স্কয়ার মার্কেট, দ্বিতীয় তলা , ষ্টাফ কোয়ার্টার, ডেমরা, ঢাকা- ১৩৬০। ফোন:০২ ৯৩৪৭৬৯, মোবাইল :০১৭৬১৮৮৫৯১৫,০১৯১২৭৭১০৫৪,০১৮১০১২৭২০৯, ইমেইল:banglarkhabar24@gmail.com, তথ্য মন্ত্রনালয় নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল, নিবন্ধন নম্বর: ৫৪.
বাংলার খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান