পৃথক অভিযানে গাজীপুর ও টাঙ্গাইলে ১১ জঙ্গি নিহত হয়েছে। গাজীপুরে পুলিশের অভিযানে নিহত ৭ ‘জঙ্গি’ : গাজীপুরে যে স্থানটিতে র্যাবের অভিযানে সন্দেহভাজন দুই জঙ্গি নিহত হন, তার আধা কিলোমিটারের মধ্েয আরেকটি জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে নিহত হয়েছেন সাতজন। শনিবার প্রায় একই সময় গাজীপুরের দুটি স্থানে জঙ্গি আস্তানায় র্যাব-পুলিশের অভিযান চলে। একই সময়ে টাঙ্গাইলে র্যাবের আরেক অভিযানে সন্দেহভাজন দুই জঙ্গি নিহত হন। ভোরে গাজীপুর সিটি করপোরশন এলাকার হারিনালে র্যাবের অভিযানের পর বেলা পৌনে ১১টার দিকে নোয়াগাঁওয়ের আফারখোলা পাতারটেক এলাকার একটি দোতলা বাড়িতে অভিযান শুরু করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট, সঙ্গে ছিল সোয়াট। বিকালে অভিযান শেষে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ছানোয়ার হোসেন সেখানে সাতজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। তাদের বয়স ১৭ থেকে ২৫ বছরের মধ্েয বলে জানান ছানোয়ার। ঘটনাস্থলে থেকে বেশ কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধারের কথাও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান তদারক করেন। র্যাব ও পুলিশের দুই অভিযানের খবরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও গাজীপুরে যান। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোখলেসুর রহমান ও জাবেদ পাটোয়ারীও ছিলেন সেখানে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “এখানে যারা ছিল, সবাই জঙ্গি গ্রুপের সঙ্গে জড়িত। কিছু একটা করার জন্য তারা এখানে ছিল। এদের পরিচয় আমরা পরে জানাব।” আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান বরখাস্ত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হকের কোনো সন্ধান পাওয়া গেছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মেজর জিয়া বা লেফটেন্যৗন্ট জিয়া আমাদের কাছে ফ্যাক্টর না। কেউ পার পাবে না। আমরা সব ধরনের প্রচেষ্টা নিচ্ছি।” যে বাড়িতে পুলিশের অভিযান চলে, তার মালিক সৌদি প্রবাসী সোলেমান সরকারের। তার ভাই কালীগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আরবি শিক ওসমান গণি বাড়িটি দেখাশোনা করেন। তিন মাস আগে তার কাছ থেকে তিনজন বাড়িটির দোতলা ভাড়া নেয়। ওই তিনজন জঙ্গি বলে ধারণা পুলিশের। অভিযান শুরুর আগে ছানোয়ার বলেছিলেন, “নিউ জেএমবির ঢাকা বিভাগীয় কমান্ডার আকাশ অবস্থান করছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হচ্ছে।” অভিযান শুরুর পর জঙ্গিরা ভেতর থেকে পুলিশকে ল্য করে গুলি চালাতে শুরু করে বলে জানান কাউন্টার টেররিজমের প্রধান মনিরুল। তিনি দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, নিচতলায় থাকা বাড়ির সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পর দোতলায় থাকা জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছিল। “আত্মসমর্পণ করতে বললে জঙ্গিরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দিকে জানালা দিয়ে গুলি করছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও তখন পাল্টা গুলি করছে।” ঘটনাস্থলে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. হারুন-অর রশিদও ছিলেন। জয়দেবপুর থানার ওসি রেজাউল হাসান রেজা বলেন, আফারখোলা পাতারটেক এলাকার দোতলা বাড়িটিতে অভিযান শুরুর আগে এর আধা কিলোমিটার পশ্চিমে হারিনাল এলাকার একটি বাড়িতে র্যাব অভিযান চালায়। ভোরে হারিনাল পশ্চিমপাড়া লেবুবাজার এলাকার আতাউর রহমানের একতলা বাড়িতে পুলিশের সহায়তায় অভিযান শুরু হয় বলে র্যাব-১-এর উপ-অধিনায়ক কাজী মো. সোয়াইব জানান। সেখানে দুজন নিহত হওয়ার খবর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিশ্চিত করেন র্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান। তিনি বলেন, নিহতদের একজন রাশেদুল (২০) এবং অন্যজন তৌহিদুল ইসলাম (২২) বলে বাড়ির মালিক আতাউর জানিয়েছেন। তৌহিদ ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েটে) শিার্থী, রাশেদ এবার এইচএসসি পাস করেছে। ওই বাড়ি থেকে একটি একে-২২ রাইফেল, একটি পিস্তল, রাইফেলের ৭০ রাউন্ড গুলি, কিছু বিস্ফোরক ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। র্যাব-১ এর উপ-পরিচালক মহিউল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোরে এই জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শুরু করা হয়। গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার পর ঢাকা, নারায়ণগঞ্জে কয়েকটি জঙ্গি আস্তানায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বেশ কয়েকজন জঙ্গি নিহত হন। এরপর গাজীপুরে এক দিনে দুটি আস্তানায় অভিযান হল, যাতে নিহত হলেন নয়জন। টাঙ্গাইলে জঙ্গী আস্তানায় র্যাবের অভিযান, দুই জঙ্গী নিহত : টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, টাঙ্গাইলে র্যাবের সাথে বন্দুক যুদ্ধে দুই জঙ্গী নিহত হয়েছে। এ সময় র্যাবের দুই সদস্যও আহত হয় বলে দাবি করেছে র্যাব ১২ এর কমান্ডার ও এডিশনাল ডিআইজি শাহাবুদ্দিন খান। সকাল ১০টা থেকে শুরু করা এ অভিযান বিকেল তিনটার দিকে শেষ হয়। প্রায় চার ঘন্টার এ অভিযানের বিষয়ে বিকেল চারটার দিকে টাঙ্গাইল প্রেসকাবে প্রেসব্রিফিং করা হয় র্যাবের পক্ষ থেকে। এ সময় র্যাব-১২ এর কমান্ডার ও এডিশনাল ডিআইজি শাহাবুদ্দিন খান জানান, ওই ভবনের কক্ষ থেকে একটি পিস্তল, একটি রিভলবার, ১০টি চাপাতি, পাঁচ রাউন্ড গুলি, দুইটি ল্যাপটপ ও নগদ ৬৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এ দিকে এ ঘটনায় বাড়ির মালিক আজহারুল ইসলামকে জিঙ্গাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টার দিকে শহরের পৌর এলাকা কাগমারায় মির্জামাঠ এলাকায় তিনতলা একটি ভবনে র্যাব অভিযান চালালে জঙ্গীদের সাথে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই তিনতলা ওই ভবনটি আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ঘিরে রাখে। র্যাব জানান, ঢাকা থেকে বোমা ডিসপোজাল টিম আসার পর ভবনের তিনতলা ওই ভবনে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রবেশ করে। তবে নিহত জঙ্গীদের পরিচয় এখনো পর্যন্ত কেউ নিশ্চত করতে পারেনি। র্যাব জানায়, কাগমারা মির্জা মাঠের পাশে আজাহারুল ইসলামের বাড়িতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর জঙ্গীরা ছাত্র পরিচয় দিয়ে বাসা ভাড়া নেয়। সারাদেশ ব্যাপী জঙ্গী অভিযান চলমান থাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে ওই বাড়িতে জঙ্গী আস্তান গড়ে তুলে তাদের কার্যক্রম চলাচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে শনিবার সকাল ১০টার দিকে র্যাবের সদস্যরা সেখানে অভিযান চালায়। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে এসময় আল্লাহ আবকর ধ্বনী দিয়ে জঙ্গীরা র্যাবকে লক্ষ করে গুলি চালায়। র্যাবও পাল্টা গুলি চালালে দুই জঙ্গী নিহত হয়। এদিকে বাসার মালিক আজাহারু ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, প্রথমে তিনজন ছাত্র বাসা ভাযা নেয়। এ সময় তাদের কাছে পরিচয় পত্র চাইলে দুই-একদিনের মধ্যেই দেয়ার কথা বলে ওই ছাত্ররা। শনিবার এ ঘটনার পর তিনি জানতে পারেন তারা জঙ্গি কর্মকান্ডের সাথে জড়িত।
প্রকাশক - ফারুক আহমেদ, যোগাযোগ : হাজী এম.এ গফুর স্কয়ার মার্কেট, দ্বিতীয় তলা , ষ্টাফ কোয়ার্টার, ডেমরা, ঢাকা- ১৩৬০। ফোন:০২ ৯৩৪৭৬৯, মোবাইল :০১৭৬১৮৮৫৯১৫,০১৯১২৭৭১০৫৪,০১৮১০১২৭২০৯, ইমেইল:banglarkhabar24@gmail.com, তথ্য মন্ত্রনালয় নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল, নিবন্ধন নম্বর: ৫৪.
বাংলার খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান