লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের কাজি মৌলভী তাফসির আহমদে এর বিরুদ্ধে ৪০ হাজার টাকা বিনিময়ে এক ব্যাক্তির নামে ২ টি কাবিন নামা তৈরি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় কাজী কে আগামী ২১ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি নোটিস আজ বুধবার দুপুরে পাঠানো হয়েছে বলে পরিষদের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
এ দিকে কাবিননামা নিয়ে জাল জালিয়াতির ঘটনায় মো: বাবলু বাদী হয়ে কাজির বিরুদ্ধে মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগে দায়ের করেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুশাখালী ইউনিয়নের মিঠারখিল গ্রামের আতরের জামানের পুত্র নাছির উদ্দিনের সাথে একই ইউনিয়নের মদনা গ্রামের আবুল কালামের মেয়ে শিপন অক্তারের সাথে গত ১২/১১/২০০৬ ইং তারিয়ে পারিবারিক ভাবে দেড় লাখ টাকা দেনমোহরের বিনিময়ে বিয়ে হয়।
বর্তমানে তাদের পরিবারে ৯ বছরের একটি ছেলে ও ৫ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। কিন্তু পারিবারিক ভাবে স্বামী-স্ত্রী মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।
পরে এ ঘটনায় শিপন আক্তার ৪০ হাজার টাকা বিনিময়ে সাড়ে ৩ লাখ টাকা দেনমোহরের উল্লেখিত অপর একটি কাবিননামা কপি সংযুক্ত করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো: নুরুল আমিন বিবাদী মো: নাছির উদ্দিন কে পরিষদে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়।
নির্দেশনা পাওয়ার নাছির উদ্দিন ১২/১১/২০০৬ ইং তারিখে কাবিন নামা একটি কপি নিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে হাজির হয়। পরে ইউপি চেয়ারম্যান একই ব্যাক্তির নামে ২ টি কাবিন নামা দেখে হতবাক হয়ে যান।
পরে দেখা যায় বিয়ে হয়েছে ২০০৬ সালে কাবিন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী শিপন আক্তার ৪০ হাজার টাকা বিনিময়ে একই ইউনিয়নের কাজী তাফসির আহমেদ এর মাধ্যমে সাড়ে ৩ লাখ মোহর রানা উল্লেখ নকল আরও একটি কাবিন নামা নিয়ে আসে।
কাবিন নামা নিয়ে জাল-জালিয়াতির ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান ইউনিয়নের কাজী তাফসির আহমেদকে আগামী ২১/১১/১৬ইং রোজ (সোমবার) সকাল ১১টায় পরিষদে হাজির হওয়ার জন্য নোটিস জারি করে।
এ দিকে বুধবার সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে জানা যায়, কাজী তাফসির আহমেদ বিভিন্ন সময়ে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে একাধিক কাবিন নামা তৈরি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয় বলে স্থানীয়রা অভিযোগে জানিয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, কাজী বাল্য বিবাহ, কাবিন নামা নকল সহ অনিয়মের সাথে জড়িত হয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
ইতিমধ্যে অবৈধ অর্থ দিয়ে কুশাখালী বাজারে ৩ টি দোকান ঘর তৈরি করে যার দাম ২০ লাখ টাকা। এ ছাড়া তার ২ ছেলে কে ২ টি নতুন বাড়ি তৈরি যার মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা। এ ছাড়া নিজেও একটি বাড়ি তৈরি করে যার দাম ২০ লাখ টাকা। শুধু কাজী ঘরে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে এ ঘটনায় নাছির উদ্দিনের ভাই মো: বাবলু বাদী হয়ে কাজী মৌলভী তাফছির আহমেদ এর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তার ভাই নাছির উদ্দিন নিকাহ নামা থাকার পরও অবৈধ অর্থের বিনিময়ে অপর একটি নিকাহ নামা তৈরি করে দেওয়ার তার ভাইকে পরিষদে মামলা দিয়ে তার ভায়ের স্ত্রী হয়রানি করে আসছে।
তার ভাইয়ের মতো বিভিন্ন লোককে ভূয়া নিকাহ নামা দিয়ে নানান ভাবে হয়রানি করার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে উক্ত কাজী। এমতাবস্থায় কাজীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবী জানান তিনি।
অভিযোগের ব্যাপারে কাজী তাফসির আহমদ এর সাথে যোগাযোগ করে তার মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে কুশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: নুরুল আমিন জানান, এই ইউনিয়নের কাজী মৌলভী তাফসির আহমদ এক ব্যাক্তির নামে ২টি কাবিন নামা তৈরি করে।
বিষয়টি আমার নজরে আসার পর আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় কে অবহিত করি। তবে এই কাজীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। আমি তদন্ত করে কিছু বিষয়ের সত্যতা পেয়েছি। আর একই ব্যাক্তির নামে ২টি নিকাহ নামা দেওয়ার ঘটনায় কাজী কে পরিষদে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশক - ফারুক আহমেদ, যোগাযোগ : হাজী এম.এ গফুর স্কয়ার মার্কেট, দ্বিতীয় তলা , ষ্টাফ কোয়ার্টার, ডেমরা, ঢাকা- ১৩৬০। ফোন:০২ ৯৩৪৭৬৯, মোবাইল :০১৭৬১৮৮৫৯১৫,০১৯১২৭৭১০৫৪,০১৮১০১২৭২০৯, ইমেইল:banglarkhabar24@gmail.com, তথ্য মন্ত্রনালয় নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল, নিবন্ধন নম্বর: ৫৪.
বাংলার খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান