ফারুক আহম্মেদ সুজন: দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে সমাজে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর উদ্যোগে বিআরটিএ অফিস এর অংশগ্রহনে এবার দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক ফলোআপ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে দুর্নীতি প্রতিরোধে গণসচেতনতা বাড়ানো, সততা ও নিষ্ঠাবোধ সৃষ্টি করা, সরকারি দফতরসমূহের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধে সবাইকে সচেষ্ট থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। দুদক
কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ওই গণশুনানি হয়।
গণশুনানির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিরাপদ সড়ক চাইর (নিসচা) প্রতিষ্ঠাতা জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন ও বিআরটিএর চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান বক্তব্য রাখেন। সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন দুদকের ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক নাসিম আনোয়ার। মঞ্চে বিআরটিএর ঢাকা মেট্রো সার্কেল ১,২,৩,এর ৬-৭ জন কর্মকর্তা ভুক্তভোগীদের অভিযোগের জবাব দেন। এর আগে বিআরটিএর সেবা কার্যক্রম নিয়ে ২০১৬ সালের ৯ মে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সোমবারই তারই ফলোআপ হয়।
দুদক কমিশনার নাসির উদ্দিন বলেন, দুই বছর আগের গণশুনানির ফল আশাব্যঞ্জক নয়। ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশনে সহজ পদ্ধতি বের করার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি বলেন, গোপনে দুর্নীতিবাজদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিআরটিএ কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আগামী ১৫ মের মধ্যে এবারের গণশুনানির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানাতে হবে।
ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকারকেই প্রধান দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ কাজে জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি সড়কে নছিমন, ভটভটি বন্ধ, চালকদের জন্য পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, চালকের মাদকাসক্তি কঠোর হস্তে বন্ধ, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা, হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো বন্ধ করা, চালকদের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, বিআরটিএ গাড়ির যে ফিটনেস সনদ দিচ্ছে তা মূলত কাগুজে। টাকা দিলেই কাগজ পাওয়া যায়। প্রযুক্তি দিয়ে ফিটনেস যাচাই করা হয় না।
বিআরটিএ চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান বলেন, দুর্নীতি অনেকাংশে কমে এসছে। দুর্নীতির মাত্রা আগের মতো নেই। অভিযোগকারীদের সব সমস্যা সমাধান করা হবে বলে জানান। শিগগির অটোমেটেড পদ্ধতিতে গাড়ির ফিটনেস সনদ দেওয়া হবে। কোনো গ্রাহক যাতে সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি, ভোগান্তির শিকার না হন সেদিকে নজরদারি জোরদার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে তাদের গ্রেফতার করা হবে।
গণশুনানি চলাকালে রাজধানীর ধানমণ্ডির সেবাগ্রহীতা রেহানা সালমা বলেন, গাড়ির মালিকানা হস্তান্তরের সমস্যা সমাধানের জন্য দুই বছর আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। এই সময়ে বহুবার ঘোরাঘুরি করার পরও কোনো কাজ হয়নি। এবারের ফলোআপ গণশুনানি সামনে রেখে মালিকানা হস্তান্তরের কাজটি সম্পন্ন করার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এফআর খান বলেন, টাকার বিনিময়ে অযোগ্য লোকদের লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে। যোগ্য লোকদের দেওয়া হচ্ছে না। অভিযোগ জানাতে এসে কেরানীগঞ্জের বেগম বেদৌরা বলেন, পাঁচশ' টাকা দিলেই লাইসেন্স পাওয়া যায়। টাকা না দিলে পাওয়া যায় না।
প্রকাশক - ফারুক আহমেদ, যোগাযোগ : হাজী এম.এ গফুর স্কয়ার মার্কেট, দ্বিতীয় তলা , ষ্টাফ কোয়ার্টার, ডেমরা, ঢাকা- ১৩৬০। ফোন:০২ ৯৩৪৭৬৯, মোবাইল :০১৭৬১৮৮৫৯১৫,০১৯১২৭৭১০৫৪,০১৮১০১২৭২০৯, ইমেইল:banglarkhabar24@gmail.com, তথ্য মন্ত্রনালয় নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল, নিবন্ধন নম্বর: ৫৪.
বাংলার খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান