ঢাকা: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার অপরাধে শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন আলোচিত ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব কেএম আলী আজম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তাকে তিরষ্কার সূচক লঘুদন্ড প্রদান করে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো: সারওয়ার আলম গত ৮ মার্চ তার ফেইসবুক আইডিতে ‘চাকুরী জীবনে যেসব কর্মকর্তা কর্মচারী অন্যায়, অনিয়মের বিরুদ্ধে লড়েছেন তাদের বেশিরভাগই চাকুরী জীবনে পদে পদে বঞ্চিত ও নিগৃহীত হয়েছেন এবং এদেশে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াটাই অন্যায়’ বলে মন্তব্য করেন এবং একজন সরকারি কর্মচারী হয়ে সরকার ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এ ধরনের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করার মাধ্যমে অকর্মকর্তাসুলভ আচরণ করেছে এবং এতে জনপ্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রজু করে ৩০ জুন অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী প্রেরণ কওে কৈফিয়ত তলব করা হয়।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা নির্ধারিত বা বর্ধিত সময়ের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থনে কোন লিখিত বক্তব্য দাখিল না করায় এবং অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সারওয়ার আলম এর বিরুদ্ধে তার ফেইসবুক আইডিতে যে মন্তব্যের কারনে অকর্মকর্তাসুলভ আচরণ এবং জনপ্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের অভিযোগ আনা হয়েছে, তিনি তার ফেইসবুক আইডিতে সে মন্তব্যটি করেছেন মর্মে স্বীকার করেছেন এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা ২০১৮ এর ৩ (খ) বিধি মোতাবেক ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগ অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সেহেতু তার বিরুদ্ধে উক্ত বিধিমালার ৪ (২) (ক) বিধি অনুযায়ী ‘তিরষ্কার’ সুচক লঘুদন্ড প্রদান করা হলো।
উল্লেখ্য, এই স্ট্যাটাস দেওয়ার আগের দিন ৭ মার্চ প্রশাসনে উপসচিব পদে ৩৫৮ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। কিন্তু বহুল আলোচিত র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার আলমের পদোন্নতি মেলেনি।
বিসিএস ২৭তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডার হিসেবে ২০০৮ সালের নভেম্বরে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন সারোয়ার আলম। ২০১৪ সালের ১ জুন সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি। সে অনুযায়ী এ পদে প্রায় সাত বছরসহ মোট ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন তিনি, যা পদোন্নতির শর্ত পূরণ করে।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় অভিযোগ নেই। বরং নানা সাহসী অভিযানের কারণে বিভিন্ন সময় প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই কর্মকর্তা।
সারোয়ার আলমের সাফল্যের জন্য ২০১৯ সালের ১২ মে তার মাকে ‘গরবিনী মা’ পদক পরিয়ে দেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
অসাধারণভাবে কাজ করে চলা সারোয়ার আলমকে ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আলিয়া মেহের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়।
প্রকাশক - ফারুক আহমেদ, যোগাযোগ : হাজী এম.এ গফুর স্কয়ার মার্কেট, দ্বিতীয় তলা , ষ্টাফ কোয়ার্টার, ডেমরা, ঢাকা- ১৩৬০। ফোন:০২ ৯৩৪৭৬৯, মোবাইল :০১৭৬১৮৮৫৯১৫,০১৯১২৭৭১০৫৪,০১৮১০১২৭২০৯, ইমেইল:banglarkhabar24@gmail.com, তথ্য মন্ত্রনালয় নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল, নিবন্ধন নম্বর: ৫৪.
বাংলার খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান