
মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, নিজস্ব প্রতিবেদক
লালমনিরহাটে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এখানকার মানুষের জনজীবন। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না মানুষ। গরমে কাজ করতে না পেরে অনেকই স্থান নিয়েছে গাছ তলায়। লোডশেডিং এর কারণে বাসা বাড়িতে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে মানুষের। বিশেষ করে অতিরিক্ত লোডশেডিং হচ্ছে গ্রাম অঞ্চলগুলোতে তাই সেখানকার মানুষদের গাছের ছায়ার নিচে, বাঁশের ঝাড়ের নিচে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।
তীব্র গরম থেকে বাঁচতে কেউ টিউবওয়েল আবার কেউ শ্যালো মেশিনে ঘন ঘন গোসল করছেন কেউবা খাচ্ছেন আখের রস, আইসক্রিম সহ অন্যান্য কোলড্রিংস । তবে লালমনিরহাট জেলার কর্মরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তীব্র এই গরম থেকে পরিত্রাণে রঙিন কাপড় পড়া থেকে বিরত থাকা সহ ফলের রস বা তরল জাতীয় খাদ্য বেশি বেশি খেতে হবে।
গ্ৰাম অঞ্চল গুলো ঘুরে দেখা গেছে অনেকেই বড় গাছের ছায়া বাঁশ ঝাড়ের তলে বসে গল্প গুজবে মেতে বিশ্রামে নিচ্ছেন । ঘুরতে গিয়ে চোখে পড়লো এক পথচারী শ্যালো মেশিনের পানিতে চোখ মুখ ধুয়ে ফেলছেন আরেকজন পানিতে গোসল করছেন কিছুটা প্রশান্তি পাবে বলে এই আসায়।
আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের চর কুঠিবাড়ির একজন কৃষক বলেন, প্রতিদিন একাধিক বার কারেন্ট চলে যায় এর ফলে আমরা কেউ বাড়িতে না থেকে বাড়ির পাশের একটি বড়ো গাছের নিচে গামছা বিছিয়ে বসে থাকি,আর কিছুক্ষণ পর পর লেবুর শরবত খাই।
লোহা কুচি ইউনিয়নের একজন চাকরিজীবী রবিউল ইসলাম বলেন, অফিসের কাজ শেষ করে বাড়িতে এসে একটুও শান্তি পাচ্ছি না প্রচন্ড গরম বয়স্ক বাবা মা ও শিশু বাচ্চা বাড়িতে থাকায় তাদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ঘন ঘন লোডশেডিং যে কারণে শরীর জুড়ে নিতে বাইরে বের হয়ে গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিতে হচ্ছে মাঝে মধ্যে।
লালমনিরহাট সদরের চর ফলিমারীর একজন কৃষক মফিজুল ইসলাম বলেন, তীব্র রোদে কৃষি কাজ শেষ করে দুপুরে একটু বাড়িতে আরাম করতে আসি কিন্তু এত রোদ এবং গরম ঘরের উপরের টিনের চাল গরম হয়ে যায় ফ্যানের বাতাসও অনেক গরম তাই পাশের একটি বাঁশ ঝাড়ের নিচে শুয়ে শরীরটাকে জুড়ে নিতে হচ্ছে আর কিছুদিন এরকম তীব্র গরম থাকলে আমার পরিবারের লোকজন অসুস্থ হয়ে যেতে পারে।
ওয়েবসাইট থেকে নেয়া তথ্যঅনুযায়ী,লালমনিরহাটে আজ ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা চলছে। তীব্র গরমে মানুষের পাশাপাশি প্রাণিকুলও অস্থির হয়ে পড়েছে।
এ দিকে আবহাওয়াতে বায়ু দূষণ উচ্চ মাত্রায় পৌঁছে গেছে এবং সংবেদনশীল গোষ্ঠীর মানুষদের জন্য যা অস্বাস্থ্যকর, শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য রোগীদেরকে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা পরিবার পরিকল্পনার সহকারী পরিচালক ডাঃ শ্রাবন্তী চৌধুরী বলেন, তরল জাতীয় খাবার বেশি বেশি পরিমাণে পান করতে হবে, যতটুকু সম্ভব জরুরী কারণ ছাড়া রোদে বের না হওয়া, বের হতে হলে ছাতা নিয়ে বের হতে হবে, তৈলাক্ত জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হতে হবে।তীব্র তাপদাহের ফলে মানব দেহে শ্বাসকষ্ট, গা ঘেমে যাওয়া, মাথাব্যথা, শরীরে জ্বালাপোড়া, পানি তৃষ্ণা বেড়ে যাওয়া সেই সাথে প্রেসার কমে আসবে, শক্তি কমে যাবে জনজীবন অতিষ্ট হয়ে পড়তে পারে তাই প্রত্যেক কে শারীরিক ভাবে সচেতন থাকতে হবে।তিনি আরো বলেন, এ সমস্ত নিরাময়ে প্রচুর পরিমাণ তরল খাদ্য ফলের রস, ফলের জুস, ডাবের পানি ও ছায়াযুক্ত জায়গায় অবস্থান সেই সাথে রঙিন পোশাক পরিধান না করার পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রকাশক - ফারুক আহমেদ, যোগাযোগ : হাজী এম.এ গফুর স্কয়ার মার্কেট, দ্বিতীয় তলা , ষ্টাফ কোয়ার্টার, ডেমরা, ঢাকা- ১৩৬০। ফোন:০২ ৯৩৪৭৬৯, মোবাইল :০১৭৬১৮৮৫৯১৫,০১৯১২৭৭১০৫৪,০১৮১০১২৭২০৯, ইমেইল:banglarkhabar24@gmail.com, তথ্য মন্ত্রনালয় নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল, নিবন্ধন নম্বর: ৫৪.
বাংলার খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান