ফারুক আহমেদ সুজন :
পবিত্র ঈদুল আজহা ২০২৬-এর বাড়িফেরা মানুষের সার্বিক ঈদযাত্রা এবার বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ হয়েছে। দুর্ঘটনা কম হওয়ার উল্লেখযোগ্য কারণ সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, সড়ক পরিবহন সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক ও বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান এর কঠোর নির্দেশনায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর বিশেষ তদারকি, কঠোর নজরদারি এবং সময়োপযোগী উন্নত সড়ক ব্যবস্থাপনার কারণে এবার ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। লাখ লাখ মানুষের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানো নিশ্চিত করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন যাত্রীসাধারণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। 
### কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও সার্বক্ষণিক সিসিটিভি মনিটরিং
ঈদযাত্রাকে সুশৃঙ্খল করতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের নির্দেশনায় বিআরটিএ সদর কার্যালয়ে একটি শক্তিশালী ‘কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ’ স্থাপন করা হয়। দেশের প্রধান প্রধান মহাসড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং যানজটপ্রবণ পয়েন্টগুলোকে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরা ও টেলিভিশন ফিডের মাধ্যমে ডিজিটাল মনিটরিংয়ের আওতায় রাখা হয়। কোথাও কোনো প্রতিবন্ধকতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 
### হাইওয়েতে মোবাইল কোর্টের বিশেষ অভিযান
ঈদের ছুটিতে ফিটনেসবিহীন ও ত্রুটিপূর্ণ যান চলাচল বন্ধ করতে বিআরটিএ, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশের যৌথ উদ্যোগে দেশব্যাপী ব্যাপক মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে এবং লাইসেন্সবিহীন ও নিয়ম ভঙ্গকারী চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বাস কাউন্টারগুলোতে বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা ঝুলিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক করার কারণে যাত্রীদের হয়রানিও কমেছে। 
### সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসের মূল কারণসমূহ
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এবার দুর্ঘটনা কমে আসার পেছনে সরকারের বেশ কিছু সমন্বিত উদ্যোগ কাজ করেছে:
ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও ওভারলোডিং নিয়ন্ত্রণ: মহাসড়কে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছিল।
ঝুঁকিপূর্ণ ইউটার্ন সংস্কার: মহাসড়কের বিপজ্জনক ‘ব্ল্যাক স্পট’ ও ইউটার্নগুলো সংস্কার করায় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
চালকদের সচেতনতা: দূরপাল্লার চালকদের একটানা গাড়ি চালানো থেকে বিরত রাখতে সচেতনতামূলক দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
স্বস্তির ঈদযাত্রা নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া
ঢাকায় কর্মরত বেসরকারি চাকুরিজীবী কামরুল হাসান বলেন, “বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার ঈদুল আজহার যাতায়াত ছিল অনেক বেশি সুশৃঙ্খল। মহাসড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জটলা ছিল না, আর বড় কোনো দুর্ঘটনার খবর না থাকায় আমরা সপরিবারে বেশ শান্তিতেই বাড়ি ফিরতে পেরেছি।” 
বিআরটিএ ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, ডিজিটাল নজরদারি বৃদ্ধি এবং মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণেই এবার ২০২৬ সালের ঈদুল আজহায় একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা উপহার দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যৎ ঈদগুলোতেও যাতায়াত আরও নিরাপদ করতে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। 
যানবাহন পরিচালনা পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন শেষ করে কর্মস্থলে মানুষের নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে আসার জন্য বিআরটিএ কর্তৃক বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে :
(১) বিআরটিএর কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম চলমান রয়েছে
(২) বিআরটিএর ৬১টি মোবাইল কোর্ট চলমান রয়েছে,
(৩) ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার চারটি টার্মিনালে এবং দেশের প্রত্যেকটি জেলার টার্মিনালে বিআরটিএ জেলা প্রশাসন পুলিশ বিভাগ মালিক শ্রমিক নেতৃবৃন্দ সমন্বয়ে ডিজিলেন্স টিম চলমান রয়েছে
(৪) অতিরিক্ত গতি এবং ওভারটেকিং নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বিআরটির প্রতিটি সার্কেল হতে বিভিন্ন টার্মিনাল এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মাইকিং করা হচ্ছে 
(৫) জেলা প্রশাসন পুলিশ বিভাগ বিআরটিএ এবং মালিক শ্রমিক নেতৃবৃন্দ কর্তৃক টার্মিনাল হতে গাড়ি ছাড়ার পূর্বে চালকদেরকে অতিরিক্ত গতি এবং ওভার ওভার টেকিং নিয়ন্ত্রণের জন্য সচেতনতামূলক ব্রিফিং করা হচ্ছে।
বিআরটিএ (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ) ঢাকা বিভাগের পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন আমাদের মাননীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম,প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, সড়ক পরিবহন সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক ও বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান স্যারের নির্দেশনায় সারা বাংলাদেশের বি আর টি এর ম্যাজিস্ট্রেট,কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দিন রাত সড়কে কাজ করে যাচ্ছে ও সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে ও সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে যাত্রায়াত করতে পারে সেইভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এবং প্রতিবারের মতো বিআরটিএর কর্মকর্তা কর্মচারীদের ঈদের ছুটি ও বাতিল করা হয়েছে।
প্রকাশক - ফারুক আহমেদ, যোগাযোগ : হাজী এম.এ গফুর স্কয়ার মার্কেট, দ্বিতীয় তলা , ষ্টাফ কোয়ার্টার, ডেমরা, ঢাকা- ১৩৬০। ফোন:০২ ৯৩৪৭৬৯, মোবাইল :০১৭৬১৮৮৫৯১৫,০১৯১২৭৭১০৫৪,০১৮১০১২৭২০৯, ইমেইল:banglarkhabar24@gmail.com, তথ্য মন্ত্রনালয় নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল, নিবন্ধন নম্বর: ৫৪.
বাংলার খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান