
নিজস্ব সংবাদদাতা
কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টার শিকার ৯ জন নারী, পুরুষ ও শিশু এখনও শুন্য রেখার কাছে অবস্থান করছেন। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকেও কোনো সমাধান না হওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
রবিবার (১৪ জুন)দুপুরে বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে ওই ৯ ব্যক্তি ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার পাশেই শুন্য রেখায় অবস্থান করছেন। এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিজিবি সুত্র জানায়, পরিস্থিতি মোকাবিলায় রবিবার দুপুরে সীমান্তে উভয় দেশের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের দাঁতভাঙ্গা বিওপি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ঠান্ডু মিয়া বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন। অন্যদিকে ভারতের ১৮৩ বিএসএফ ঝালোড়চর ক্যাম্পের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ইন্সপেক্টর প্রদীপ কুমার।
এলাকাবাসী ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, রবিবার ভোরে রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬০ নম্বর মেইন পিলারের ১ নম্বর সাব-পিলার এলাকা দিয়ে ভারতের ঝালোড়চর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা ১ জন নারী, ৩ জন পুরুষ ও ২ জন শিশুসহ মোট ৬ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায়। তবে বিজিবি সদস্য ও স্থানীয়দের বাধার মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
এ দিকে একই সময়ে উপজেলার ভন্দুরচর সীমান্তের ১০৬৫ নম্বর পিলার এলাকা দিয়েও আরও ৩ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। ফলে দুই সীমান্ত এলাকায় মোট ৯ জন পুশইনের শিকার হন। এদিকে, ঘটনাটিকে ঘিরে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে বিজিবি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
গয়টাপাড়া সীমান্তের বাসিন্দা আওলাদ হোসেন (৫৫) জানান, বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোন সমাধান হয়নি। সীমান্তে আনা নারী ও শিশুরা ভোর থেকে সীমান্তের জিরোলাইনে রয়েছেন। দিনভর তাপপ্রবাহ ছিলো। প্রচন্ড তাপপ্রবাহে তারা খুবই কষ্টে ছিলেন। রাতেও তাদেরকে সীমান্তের জিরোলাইনে কাটাতে হবে। এটা খুবই অমানবিক।
জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। সীমান্তে নিয়ে আসা ব্যক্তিরা বর্তমানে ভারতের অভ্যন্তরেই অবস্থান করছেন।’ ‘বিএসএফ কর্তৃক অবৈধ পুশইন ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় লোকজন বিজিবি সদস্যদের সহযোগিতা করছেন,’ তিনি বলেন।
প্রকাশক - ফারুক আহমেদ, যোগাযোগ : হাজী এম.এ গফুর স্কয়ার মার্কেট, দ্বিতীয় তলা , ষ্টাফ কোয়ার্টার, ডেমরা, ঢাকা- ১৩৬০। ফোন:০২ ৯৩৪৭৬৯, মোবাইল :০১৭৬১৮৮৫৯১৫,০১৯১২৭৭১০৫৪,০১৮১০১২৭২০৯, ইমেইল:banglarkhabar24@gmail.com, তথ্য মন্ত্রনালয় নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল, নিবন্ধন নম্বর: ৫৪.
বাংলার খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান