
নিজস্ব সংবাদদাতা
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর-লালমনিরহাট মহাসড়কের আন্তজেলা মোড়ে মারপিটে নিহতের ঘটনার বিচারের দাবিতে এক যুবকের লাশ রেখে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা। এ সময় সড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকে থাকে।
সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত অবরোধ চলে।
জানা গেছে, পাটগ্রাম পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের বানিয়াপাড়া এলাকার ফিরোজ হোসেন ও বড় ভাই ফেরদৌস হোসেনের সাথে জমি বিক্রয়ের বিষয় নিয়ে কয়েকদিন হতে বিরোধ দেখা দেয়। এরমধ্যে গত ১ আগস্ট শনিবার বিকেল সাড়ে ৩ টায় বাড়ীর পাশের একটি গাছ কাঁটাকে কেন্দ্র করে ফেরদৌস হোসেনের সাথে বিতণ্ডার সৃষ্টি হয় ছোট ভাই ফিরোজের।
স্থানীয় একটি পক্ষের দাবি, সালিশ বৈঠকে ফিরোজকে পৌর ৫ নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সামলু ইসলাম ধমক দিয়ে মারপিট করেন। এতে ফিরোজ অপমানিত বোধ করে বাড়িতে চলে যান। মারধরের শিকার ফিরোজ অপমান সহ্য করতে না পেরে ঘরে এসে বিষপান করে। পরে তাকে স্থানীয় হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ফিরোজ।
তবে, পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছে, প্রায় ৩ ঘন্টা পর ফিরোজ হোসেনের বাড়িতে গিয়ে আবারও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সামলু, সামলুর ভাই ৫ নং পৌর পতিত স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা শাহিন শাই, শাহিন শাইয়ের ছেলে তুহিন ইসলামসহ কয়েকজন ফিরোজকে বেধড়ক মারপিট করেন। এতে ফিরোজের অবস্থা বেগতিক হওয়ায় তাকে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে ওই দিন রাত সাড়ে ১১ টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় স্বজনেরা। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ আগস্ট বিকেলে মারা যায় ফিরোজ।
লাশ সোমবার সন্ধ্যায় বাড়িতে নিয়ে আসলে এ ঘটনার বিচার দাবি করে ফিরোজের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসি বুড়িমারী স্থলবন্দর-লালমনিরহাট মহাসড়কের আন্তজেলা মোড়ে লাশ রেখে সড়ক অবরোধ করে। এতে বিএনপি ও জামায়াতের উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরাও অংশ নেন। এ সময় মহাসড়করে উভয় পাশে ও বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে দূরপাল্লার নৈশ কোচ, বাস, মাইক্রোবাস, পণ্যবাহী শত শত যানবাহন আটকে যায়। পরে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দোষিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয় স্থানীয়রা।
পরে রাত ৯টায় ফিরোজের বড় ভাই বাদী হয়ে ৩ জনের নামে মামলা দায়ের করেন।
পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ দেবব্রত রায় বলেন, ‘হাসপাতালে শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬ টায় ভর্তি করা হয়। তাঁর (ফিরোজ) বিষ খাওয়ার পরিমাণ বেশি ছিল। প্রথম থেকেই অবস্থা ভালো ছিলনা। আমরা রংপুরে নিতে বলেছি, ফিরোজের স্বজনেরা নিয়ে যায়নি। পরে রাতে সাড়ে ১১ টার পর অবস্থা বেশি খারাপ হলে রংপুরে হাসপাতালে নিয়ে যায় সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।’
এ ব্যাপারে পৌর বিএনপির সভাপতি মোস্তফা সালাউজ্জামান ওপেল বলেন, ‘দুষ্কৃতিকারী হোক, অপরাধী হোক সে যে দলেরই হোক তার কোনো ছাড় নাই। আমার দলের কাউরো যদি নাম আসে তাকেও ছাড় দেওয়া হবেনা।’
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, ‘গত রোববার কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি, নিহতের পরিবারের লোকজন কথা বলতে এসেছিল। অভিযোগসহ আসতে চেয়ে পরে আসেনি। আজ (সোমবার) রাতে অভিযোগ পেয়েছি। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
প্রকাশক - ফারুক আহমেদ, যোগাযোগ : হাজী এম.এ গফুর স্কয়ার মার্কেট, দ্বিতীয় তলা , ষ্টাফ কোয়ার্টার, ডেমরা, ঢাকা- ১৩৬০। ফোন:০২ ৯৩৪৭৬৯, মোবাইল :০১৭৬১৮৮৫৯১৫,০১৯১২৭৭১০৫৪,০১৮১০১২৭২০৯, ইমেইল:banglarkhabar24@gmail.com, তথ্য মন্ত্রনালয় নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল, নিবন্ধন নম্বর: ৫৪.
বাংলার খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান