নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ও রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নে ‘জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের নামে অবৈধ বালু ভরাট, জোরপূর্বক তিন ফসলি কৃষি জমি ও পৈতৃক ভিটা দখলের প্রতিবাদে এবং ঐতিহাসিক ‘শহীদ জিয়া খাল ‘ উদ্ধারে করনীয় শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (শুক্রবার) বিকেল ৪টায় রূপগঞ্জের ইছাখালী তেমোড়া বালুর মাঠে ‘পৈতৃক ভিটা মাটি সংরক্ষণ পরিষদ’-এর আয়োজনে ‘জলসিঁড়ির অবৈধ কার্যক্রমে জমির মালিকদের দাবি আদায়ে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় ইছাখালী, মাঝিনা, মাইলাব, হরিনা, পশ্চিমগাঁও, বড়ালু, পাড়াগাঁও, উল্লাবো ও ছাতিয়ানসহ অন্তত ১০টি গ্রামের ভুক্তভোগী হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। চলমান এই সংকট ও দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে উপস্থিত এলাকাবাসী সর্বসম্মতিক্রমে স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দীপু (দীপু ভূঁইয়া)-র সরাসরি হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে ৯ দফা দাবির স্থায়ী সমাধান দাবি করেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন রূপগঞ্জ অফিসার্স এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা বিশিষ্ট ব্যাংকার আবু বকর সিদ্দিক, নরসিংদী জেলা কোর্টের সাবেক পেশকার মো. শামসুদ্দিন মিয়া, পাট শিল্পের সাবেক সভাপতি মো. হাসেন আলী বেপারী, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য সার্জেন্ট ইলিয়াস পারভেজ, দলিল লিখক গোলজার হোসেন, প্রভাষক নূর সালাম ও অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলামসহ অন্যান্য স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।
সভায় লিখিত বক্তব্যে বক্তারা জানান, ২০১০ সালে তৎকালীন সরকারের সময়ে কোনো ধরনের আইনি অধিগ্রহণ বা জমির মালিকদের সম্মতি ছাড়াই ১৭টি মৌজার প্রায় ৭,০০০ বিঘা কৃষি জমি ও পৈতৃক বসতভিটা দখলের অপচেষ্টা চালানো হয়। এর প্রতিবাদ করায় বিভিন্ন সময়ে স্থানীয়দের ওপর হামলা, মামলা ও গুলিবর্ষণের মতো নিপীড়নমূলক ঘটনা ঘটে।
অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক খননকৃত ঐতিহাসিক ‘ইছাখালী খাল’ (স্থানীয়ভাবে জিয়া খাল) অবৈধভাবে বালু দিয়ে ভরাট করে ফেলায় আশপাশের অন্তত ৫টি গ্রামের মানুষ বর্তমানে চরম পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এই খালটি নৌচলাচল, সেচ এবং স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জীবিকার একমাত্র প্রধান মাধ্যম ছিল।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, পৈতৃক সম্পত্তি ও খাল রক্ষার প্রতিকার চেয়ে ইতোমধ্যে রূপগঞ্জ থানায় শতাধিক লিখিত অভিযোগ, থানা অভিমুখে মানববন্ধন, ইউএনও ও ডিসি কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলন এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
এ সময় স্থানীয় জমি মালিকদের পক্ষে আহসান আলী মাস্টার ৯ দফা দাবী তুলে ধরেন। দাবীগুলো হলো, জমি ক্রয় না করে এবং মালিকদের সম্মতি ছাড়া অবৈধভাবে বালু ভরাট বা রাস্তাঘাট নির্মাণ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। যেকোনো আবাসন প্রকল্প অবশ্যই সাধারণ মানুষের বসতবাড়ির বাইরে স্থাপন করতে হবে।
অবিলম্বে আবাসন প্রকল্পের সীমানা নির্ধারণ ও প্রকাশ করতে হবে এবং প্রকল্প এলাকায় দৃশ্যমান ম্যাপ টাঙিয়ে রাখতে হবে। সীমানা এর ভেতরের অবিক্রিকৃত জমির পরিবর্তে আনুপাতিক হারে বিকল্প জমি বা প্লট প্রদান করতে হবে। সাধারণ মানুষের বসতবাড়ি থেকে কমপক্ষে ৩০০ মিটার দূরে আবাসন প্রকল্পের সীমানা নির্ধারণ করতে হবে। আবাসন প্রকল্পের কোনো রাস্তা বসতবাড়ির ওপর দিয়ে নেওয়া যাবে না; বিশেষ প্রয়োজনে নিতে হলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণসহ প্লট প্রদান করতে হবে। উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও সঠিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করার আগে কোনোভাবেই বাড়ি-ঘরের মালিকদের উচ্ছেদ করা যাবে না।
বসতবাড়ির চেয়ে উঁচু করে বালু ভরাট করে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত বিপর্যয় সৃষ্টি করা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। ঐতিহাসিক ‘জিয়া খাল ‘থেকে অবৈধ বালু অপসারণ করে খালটি পুনঃখনন এবং পূর্বের অবস্থায় চালু করতে হবে।
প্রকাশক - ফারুক আহমেদ, যোগাযোগ : হাজী এম.এ গফুর স্কয়ার মার্কেট, দ্বিতীয় তলা , ষ্টাফ কোয়ার্টার, ডেমরা, ঢাকা- ১৩৬০। ফোন:০২ ৯৩৪৭৬৯, মোবাইল :০১৭৬১৮৮৫৯১৫,০১৯১২৭৭১০৫৪,০১৮১০১২৭২০৯, ইমেইল:banglarkhabar24@gmail.com, তথ্য মন্ত্রনালয় নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল, নিবন্ধন নম্বর: ৫৪.
বাংলার খবর মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান