অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

তিস্তা ব্যারেজে ফাটল : ভারী যান চলাচল বন্ধ

লালমনিরহাট : অতিরিক্ত মালামাল পরিবহনের ফলে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারেজের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ ফাটল দেখা দেয়ায় ভারী যানবাহন চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে মেইন গেট বন্ধ করে দিয়েছেন ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার ভোর থেকে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় মন্ত্রাণালয়ের নির্দেশে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক এ নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হওয়ায় মেইন গেট বন্ধ করে দেয়া হয়।

ফলে আজ (মঙ্গলবার) ভোর হতে ভারী যানবাহন চলাচল উপর টোল আদায় বন্ধ হয়ে গেছে। তবে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, রিকশা ও বাইসাইকেলসহ হালকা যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ নেই। বিনা টোলে চলাচল করতে পারবে এসব হালকা যানবাহন।

এদিকে একটি পক্ষ ব্যবসায়ীক স্বার্থে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যারেজের উপর দিয়ে ভারী পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলে বিভিন্ন পায়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠছে।

জানা গেছে, ১৯৭৯ সালের ১২ ডিসেম্বর লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানী এলাকায় তিস্তা নদীর ওপর প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে তিস্তা সেচ প্রকল্প হিসেবে ‘তিস্তা ব্যারেজ’ নির্মাণ করা হয়। ১৯৯১ সালে মূল ব্যারাজের নির্মাণ কাজ শেষ হয় এবং ক্যানেলসহ অন্যান্য কাজ শেষ হয় ১৯৯৮ সালের জুন মাসে। এই অবস্থায় ২০০১ সালে ব্যারাজের উপর দিয়ে যানবাহন চলাচলের জন্য ইজারা সিস্টেম চালু করেন তৎকালীন সরকার।

সেই থেকে তিস্তা ব্যারেজের উপর দিয়ে বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে পাথর, বালু ও মালামাল পরিবহনে ১০ চাকার অতিরিক্ত মালবোঝাই ট্রাক চলাচল শুরু করে। ফলে ভারী যানবাহন চলাচলের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে। শর্ত থাকে ব্যারাজের উপর দিয়ে ২০ মেট্রিক টনের অধিক কোনো মালবাহী ট্রাক চলাচল করতে পারবে না। এমন নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন।

আর এ জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের যান্ত্রিক বিভাগের পক্ষ থেকে সেখানে পরিমাপ যন্ত্র স্থাপন করা হয়। এর পরেও দায়িত্বরত পুলিশ, আনসার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কতিপয় কর্মচারী এবং সিবিএ নেতারা ২৫ থেকে ৩০ মেট্রিক টনের বেশি মালবাহী ট্রাক চলাচল অব্যাহত রাখে।

প্রতিদিন ব্যারেজের উপর দিয়ে কমপক্ষ দুই শতাধিক ৩০ মেট্রিকটন ওজনের মালবোঝাই ট্রাক চলাচল করায় ব্যারেজের বিভিন্ন স্থানে ফাঁটল দেখা দেয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশেনের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, ব্যারেজের স্থায়িত্ব রক্ষার্থে মন্ত্রাণালয়ের নির্দেশে এই আদেশ জারি করা হয়। আর কর্তৃপক্ষর নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী তিস্তার মূল গেটের সঙ্গে ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে।

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

তিস্তা ব্যারেজে ফাটল : ভারী যান চলাচল বন্ধ

আপডেট টাইম : ১১:১২:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৪

লালমনিরহাট : অতিরিক্ত মালামাল পরিবহনের ফলে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারেজের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ ফাটল দেখা দেয়ায় ভারী যানবাহন চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে মেইন গেট বন্ধ করে দিয়েছেন ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার ভোর থেকে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় মন্ত্রাণালয়ের নির্দেশে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক এ নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হওয়ায় মেইন গেট বন্ধ করে দেয়া হয়।

ফলে আজ (মঙ্গলবার) ভোর হতে ভারী যানবাহন চলাচল উপর টোল আদায় বন্ধ হয়ে গেছে। তবে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, রিকশা ও বাইসাইকেলসহ হালকা যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ নেই। বিনা টোলে চলাচল করতে পারবে এসব হালকা যানবাহন।

এদিকে একটি পক্ষ ব্যবসায়ীক স্বার্থে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যারেজের উপর দিয়ে ভারী পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলে বিভিন্ন পায়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠছে।

জানা গেছে, ১৯৭৯ সালের ১২ ডিসেম্বর লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানী এলাকায় তিস্তা নদীর ওপর প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে তিস্তা সেচ প্রকল্প হিসেবে ‘তিস্তা ব্যারেজ’ নির্মাণ করা হয়। ১৯৯১ সালে মূল ব্যারাজের নির্মাণ কাজ শেষ হয় এবং ক্যানেলসহ অন্যান্য কাজ শেষ হয় ১৯৯৮ সালের জুন মাসে। এই অবস্থায় ২০০১ সালে ব্যারাজের উপর দিয়ে যানবাহন চলাচলের জন্য ইজারা সিস্টেম চালু করেন তৎকালীন সরকার।

সেই থেকে তিস্তা ব্যারেজের উপর দিয়ে বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে পাথর, বালু ও মালামাল পরিবহনে ১০ চাকার অতিরিক্ত মালবোঝাই ট্রাক চলাচল শুরু করে। ফলে ভারী যানবাহন চলাচলের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে। শর্ত থাকে ব্যারাজের উপর দিয়ে ২০ মেট্রিক টনের অধিক কোনো মালবাহী ট্রাক চলাচল করতে পারবে না। এমন নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন।

আর এ জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের যান্ত্রিক বিভাগের পক্ষ থেকে সেখানে পরিমাপ যন্ত্র স্থাপন করা হয়। এর পরেও দায়িত্বরত পুলিশ, আনসার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কতিপয় কর্মচারী এবং সিবিএ নেতারা ২৫ থেকে ৩০ মেট্রিক টনের বেশি মালবাহী ট্রাক চলাচল অব্যাহত রাখে।

প্রতিদিন ব্যারেজের উপর দিয়ে কমপক্ষ দুই শতাধিক ৩০ মেট্রিকটন ওজনের মালবোঝাই ট্রাক চলাচল করায় ব্যারেজের বিভিন্ন স্থানে ফাঁটল দেখা দেয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশেনের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, ব্যারেজের স্থায়িত্ব রক্ষার্থে মন্ত্রাণালয়ের নির্দেশে এই আদেশ জারি করা হয়। আর কর্তৃপক্ষর নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী তিস্তার মূল গেটের সঙ্গে ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে।