পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

রাজশাহীতে থামছে না পুলিশ-মাদক ব্যবসায়ী সম্পর্ক!

রাজশাহী : রাজশাহী নগরীতে বেশকিছু মাদকসেবী আটকের পরেও কিছুতেই থামছেনা মাদকের কারবার। গত ২০ নভেম্বর রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) নয়া কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন মো. শামসুদ্দিন।

এর পরপরই মাদকের স্পট ভেঙ্গে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এ নিয়ে তেমন কোন তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি পুলিশের। নগরীর মাদকরাজ্য খ্যাত রাজপাড়া ও মতিহার থানা এলাকায় বেশ কয়েকটি ফাঁড়ি পুলিশের সহায়তায় এখনো অবাধে চলছে মাদকের কারবার।

গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাতে গুড়িপাড়া এলাকা থেকে ১৭জন মাদকসেবীকে পুলিশ আটক করলেও মাদক বিক্রেতারা এখনো রয়েছে বহাল।

এরই মধ্যে পুলিশকে ম্যানেজ করে মাদকের ব্যবসা আরো জোরদার করেছেন কয়েকজন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী।

কয়েকজন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে একজন হলো, নগরীর গুড়িপাড়া এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে ফারুক হোসেন। নগরীর হড়গ্রাম নিউ মার্কেটে স্যান্ডেলের দোকান রয়েছে তার। স্থানীয়রা তাকে স্যান্ডেল ফারুক নামেই চেনে। ব্যবসার আড়ালে সে চালিয়ে যাচ্ছে ফেনসিডিল ও ইয়াবার পাইকারী ব্যবসা। তার মত ওই এলাকায় রয়েছে বেশ কয়েকজন মাদকের পাইকারী বিক্রেতা।

এছাড়া নগরীর টুলটুলিপাড়া বড়গির্জা এলাকার হেরোইন সম্রাজ্ঞী হাফিজা বেগম ও চামারপাড়া এলাকার জরিনা বেগম ওরফে ঢাকাইয়া ভাবী, শিরোইল হাজরাপাকুর এলাকার গাঁজা ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক ওরফে কানা খালেক ও খাইরুল ইসলাম ছোটবনগ্রাম এলাকায় হেরোইন ব্যবসায়ী মিন্টু এবং মতিহার থানা এলাকায় আলো এখনো পাইকারী মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে নগরীতে প্রতিদিন অন্তত অর্ধকোটি টাকার মাদকের কারবার হয়। ব্যবসা নির্বিঘœ করতে নগরজুড়ে তারা গড়ে তুলেছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক।

অভিযোগ রয়েছে, পুলিশকে ম্যানেজ করে এখনো তাদের এসব মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নগরীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আনিসুর রহমান।

তিনি বলেন, মাদক ঠেকাতে প্রায় প্রতিদিনই অভিযান চলছে। সর্বশেষ শুক্রবার রাতেও নগরীর গুড়িপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০ মাদকবেসীকে আটক করা হয়েছে। আরএমপি ধারায় দুপুরের দিকে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে নগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার জাহেদুল ইসলাম জানান, মাদক প্রতিরোধে আরএমপি ‘জিরো টলারেন্স’ এ। বর্তমানে তারা মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের তালিকা তৈরি করছেন। ওই তালিকা ধরে অভিযান চলছে। শনিবার মাদক সংক্রান্ত তিনটি মামলা হয়েছে। শীঘ্রই অভিযান জোরদার করা হবে।

এ বিষয়ে আরএমপি কমিশনার মো. শামসুদ্দিন বলেন, হাতেনাতে মাদকসহ না আটক করা গেলে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব নয়। তবে অভিযান চলছে।

মাদক ব্যবসায়ী ও পুলিশ সম্পর্কের প্রশ্ন আর থাকবেনা বলে জানান কমিশনার।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

রাজশাহীতে থামছে না পুলিশ-মাদক ব্যবসায়ী সম্পর্ক!

আপডেট টাইম : ০৬:৩৫:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০১৪

রাজশাহী : রাজশাহী নগরীতে বেশকিছু মাদকসেবী আটকের পরেও কিছুতেই থামছেনা মাদকের কারবার। গত ২০ নভেম্বর রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) নয়া কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন মো. শামসুদ্দিন।

এর পরপরই মাদকের স্পট ভেঙ্গে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এ নিয়ে তেমন কোন তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি পুলিশের। নগরীর মাদকরাজ্য খ্যাত রাজপাড়া ও মতিহার থানা এলাকায় বেশ কয়েকটি ফাঁড়ি পুলিশের সহায়তায় এখনো অবাধে চলছে মাদকের কারবার।

গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাতে গুড়িপাড়া এলাকা থেকে ১৭জন মাদকসেবীকে পুলিশ আটক করলেও মাদক বিক্রেতারা এখনো রয়েছে বহাল।

এরই মধ্যে পুলিশকে ম্যানেজ করে মাদকের ব্যবসা আরো জোরদার করেছেন কয়েকজন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী।

কয়েকজন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে একজন হলো, নগরীর গুড়িপাড়া এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে ফারুক হোসেন। নগরীর হড়গ্রাম নিউ মার্কেটে স্যান্ডেলের দোকান রয়েছে তার। স্থানীয়রা তাকে স্যান্ডেল ফারুক নামেই চেনে। ব্যবসার আড়ালে সে চালিয়ে যাচ্ছে ফেনসিডিল ও ইয়াবার পাইকারী ব্যবসা। তার মত ওই এলাকায় রয়েছে বেশ কয়েকজন মাদকের পাইকারী বিক্রেতা।

এছাড়া নগরীর টুলটুলিপাড়া বড়গির্জা এলাকার হেরোইন সম্রাজ্ঞী হাফিজা বেগম ও চামারপাড়া এলাকার জরিনা বেগম ওরফে ঢাকাইয়া ভাবী, শিরোইল হাজরাপাকুর এলাকার গাঁজা ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক ওরফে কানা খালেক ও খাইরুল ইসলাম ছোটবনগ্রাম এলাকায় হেরোইন ব্যবসায়ী মিন্টু এবং মতিহার থানা এলাকায় আলো এখনো পাইকারী মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে নগরীতে প্রতিদিন অন্তত অর্ধকোটি টাকার মাদকের কারবার হয়। ব্যবসা নির্বিঘœ করতে নগরজুড়ে তারা গড়ে তুলেছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক।

অভিযোগ রয়েছে, পুলিশকে ম্যানেজ করে এখনো তাদের এসব মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নগরীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আনিসুর রহমান।

তিনি বলেন, মাদক ঠেকাতে প্রায় প্রতিদিনই অভিযান চলছে। সর্বশেষ শুক্রবার রাতেও নগরীর গুড়িপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০ মাদকবেসীকে আটক করা হয়েছে। আরএমপি ধারায় দুপুরের দিকে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে নগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার জাহেদুল ইসলাম জানান, মাদক প্রতিরোধে আরএমপি ‘জিরো টলারেন্স’ এ। বর্তমানে তারা মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের তালিকা তৈরি করছেন। ওই তালিকা ধরে অভিযান চলছে। শনিবার মাদক সংক্রান্ত তিনটি মামলা হয়েছে। শীঘ্রই অভিযান জোরদার করা হবে।

এ বিষয়ে আরএমপি কমিশনার মো. শামসুদ্দিন বলেন, হাতেনাতে মাদকসহ না আটক করা গেলে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব নয়। তবে অভিযান চলছে।

মাদক ব্যবসায়ী ও পুলিশ সম্পর্কের প্রশ্ন আর থাকবেনা বলে জানান কমিশনার।