অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল

বিদ্যুতের পরে ভারতের গ্যাস লাইনে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ

ডেস্ক: বিদ্যুতের পর এবার ভারতের গ্যাস গ্রিডের লাইনে যুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

গোটা পূর্ব ভারত জুড়ে যে গ্যাস গ্রিড নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ডাক দিয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাতে প্রতিবেশী বাংলাদেশও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে তাদের ক্রমবর্ধমান জ্বালানির চাহিদা মেটাতে চাইছে।

মিয়ানমার থেকে ভারতে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে বাংলাদেশেও যাতে তার একটা অংশ যেতে পারে, কিংবা পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের কাছের সমুদ্রে এলএনজি টার্মিনাল গড়ে উঠলে বাংলাদেশের খুলনাও যাতে সেখান থেকে গ্যাস পেতে পারে – এই সব প্রস্তাব নিয়ে ইতিমধ্যেই দুদেশের মধ্যে কথাবার্তা অনেকদূর এগিয়ে গেছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে বিবিসি।

গোটা ভারতের মধ্যে শিল্পে লগ্নি আর উৎপাদনের ক্ষেত্রে দেশের পূর্বাঞ্চলই সবচেয়ে পিছিয়ে আছে – আর সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সে দেশের সরকার পুরো পূর্ব ভারত ব্যাপী একটি গ্যাস-গ্রিড গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে।

দিনকয়েক আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই গ্যাস-গ্রিডের পরিকল্পনা ঘোষণা করে বলেছিলেন, ‘পূর্ব ভারতের শিল্প-সম্ভাবনা বিকশিত করতে হলে সেখানে গ্যাস-গ্রিড নেটওয়ার্ক বা জ্বালানির প্রয়োজন হবেই।’

তিনি বলেন, ‘বিহারের পাটনা বা অন্য যে কোনও শহরে, কিংবা আসাম-পশ্চিমবঙ্গে যেখানেই গ্যাস পাইপলাইন বসবে, সেখানেই শিল্প আসতে বাধ্য। আর এ কারণেই আমরা গ্যাস-গ্রিড বা পাইপলাইনের এক সুবিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

আমরাও এই গ্যাস-গ্রিডে আসতে চাই। যেমন ধরুন, ভবিষ্যতে মিয়ানমার থেকে ভারতে যদি গ্যাস সরবরাহ করা হয় – বাংলাদেশও তার একটা শেয়ার নিতে পারে।

মোদী যখন দিল্লিতে একটি এনার্জি কনফারেন্সে এই ঘোষণা করছেন, তখন সেই মঞ্চে একমাত্র বিদেশি প্রতিনিধি ছিলেন বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

মি হামিদ সেই সফরেই ভারতের পেট্রলিয়াম মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের সঙ্গে দুদেশের জ্বালানি-সহযোগিতা নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেন, তার কথা হয় প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গেও।

পরে হামিদ বিবিসিকে বলেন, ‘বলতে পারেন আমরাও এই গ্যাস-গ্রিডে আসতে চাই। যেমন ধরুন, ভবিষ্যতে মিয়ানমার থেকে ভারতে যদি গ্যাস সরবরাহ করা হয় – বাংলাদেশও তার একটা শেয়ার নিতে পারে।’

তিনি আরও জানান, রিলায়েন্স বা আদানির মতো ভারতের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীগুলিও বাংলাদেশের এনার্জি সেক্টরে বিনিয়োগ করতে চাইছে। আদানি যেমন কয়লা-খাতে একটি কোল টার্মিনাল গড়তে চাইছে, রিলায়েন্স চাইছে এলএনজি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে।

হামিদ আরও বলছিলেন, বাংলাদেশের খুলনা অঞ্চলে গ্যাসের চাহিদা মেটাতে তারা ভারতের হিরানন্দানি শিল্পগোষ্ঠীর একটি প্রকল্পের দিকে তাকিয়ে আছেন – যেটি পশ্চিমবঙ্গের দীঘা উপকূলের কাছের সমুদ্রে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল হিসেবে গড়ে তোলার কথা।

এই টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশের খুলনা অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ করে তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কিংবা বাংলাদেশের জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সেটিকে সংযুক্ত করার কথাও ভাবা হচ্ছে।

তবে এই সব টার্মিনাল বা পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতের গ্যাস-গ্রিডে যুক্ত হলেও বাংলাদেশ যে শুধু গ্যাস আমদানিই করবে – রফতানির কোনও সম্ভাবনা এই মুহুর্তে একেবারেই নেই – সেটাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

Tag :

নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ

বিদ্যুতের পরে ভারতের গ্যাস লাইনে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ

আপডেট টাইম : ০২:১৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০১৫

ডেস্ক: বিদ্যুতের পর এবার ভারতের গ্যাস গ্রিডের লাইনে যুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

গোটা পূর্ব ভারত জুড়ে যে গ্যাস গ্রিড নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ডাক দিয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাতে প্রতিবেশী বাংলাদেশও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে তাদের ক্রমবর্ধমান জ্বালানির চাহিদা মেটাতে চাইছে।

মিয়ানমার থেকে ভারতে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে বাংলাদেশেও যাতে তার একটা অংশ যেতে পারে, কিংবা পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের কাছের সমুদ্রে এলএনজি টার্মিনাল গড়ে উঠলে বাংলাদেশের খুলনাও যাতে সেখান থেকে গ্যাস পেতে পারে – এই সব প্রস্তাব নিয়ে ইতিমধ্যেই দুদেশের মধ্যে কথাবার্তা অনেকদূর এগিয়ে গেছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে বিবিসি।

গোটা ভারতের মধ্যে শিল্পে লগ্নি আর উৎপাদনের ক্ষেত্রে দেশের পূর্বাঞ্চলই সবচেয়ে পিছিয়ে আছে – আর সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সে দেশের সরকার পুরো পূর্ব ভারত ব্যাপী একটি গ্যাস-গ্রিড গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে।

দিনকয়েক আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই গ্যাস-গ্রিডের পরিকল্পনা ঘোষণা করে বলেছিলেন, ‘পূর্ব ভারতের শিল্প-সম্ভাবনা বিকশিত করতে হলে সেখানে গ্যাস-গ্রিড নেটওয়ার্ক বা জ্বালানির প্রয়োজন হবেই।’

তিনি বলেন, ‘বিহারের পাটনা বা অন্য যে কোনও শহরে, কিংবা আসাম-পশ্চিমবঙ্গে যেখানেই গ্যাস পাইপলাইন বসবে, সেখানেই শিল্প আসতে বাধ্য। আর এ কারণেই আমরা গ্যাস-গ্রিড বা পাইপলাইনের এক সুবিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

আমরাও এই গ্যাস-গ্রিডে আসতে চাই। যেমন ধরুন, ভবিষ্যতে মিয়ানমার থেকে ভারতে যদি গ্যাস সরবরাহ করা হয় – বাংলাদেশও তার একটা শেয়ার নিতে পারে।

মোদী যখন দিল্লিতে একটি এনার্জি কনফারেন্সে এই ঘোষণা করছেন, তখন সেই মঞ্চে একমাত্র বিদেশি প্রতিনিধি ছিলেন বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

মি হামিদ সেই সফরেই ভারতের পেট্রলিয়াম মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের সঙ্গে দুদেশের জ্বালানি-সহযোগিতা নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেন, তার কথা হয় প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গেও।

পরে হামিদ বিবিসিকে বলেন, ‘বলতে পারেন আমরাও এই গ্যাস-গ্রিডে আসতে চাই। যেমন ধরুন, ভবিষ্যতে মিয়ানমার থেকে ভারতে যদি গ্যাস সরবরাহ করা হয় – বাংলাদেশও তার একটা শেয়ার নিতে পারে।’

তিনি আরও জানান, রিলায়েন্স বা আদানির মতো ভারতের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীগুলিও বাংলাদেশের এনার্জি সেক্টরে বিনিয়োগ করতে চাইছে। আদানি যেমন কয়লা-খাতে একটি কোল টার্মিনাল গড়তে চাইছে, রিলায়েন্স চাইছে এলএনজি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে।

হামিদ আরও বলছিলেন, বাংলাদেশের খুলনা অঞ্চলে গ্যাসের চাহিদা মেটাতে তারা ভারতের হিরানন্দানি শিল্পগোষ্ঠীর একটি প্রকল্পের দিকে তাকিয়ে আছেন – যেটি পশ্চিমবঙ্গের দীঘা উপকূলের কাছের সমুদ্রে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল হিসেবে গড়ে তোলার কথা।

এই টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশের খুলনা অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ করে তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কিংবা বাংলাদেশের জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সেটিকে সংযুক্ত করার কথাও ভাবা হচ্ছে।

তবে এই সব টার্মিনাল বা পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতের গ্যাস-গ্রিডে যুক্ত হলেও বাংলাদেশ যে শুধু গ্যাস আমদানিই করবে – রফতানির কোনও সম্ভাবনা এই মুহুর্তে একেবারেই নেই – সেটাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।