পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন

ফ্লোরিডায় প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিলেন জেনারেল মইন

ডেক্স: দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে এলেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ। গত আট বছর আগে জরুরি অবস্থা জারির পর যিনি কার্যত বাংলাদেশের আলোচিত ব্যক্তি ছিলেন।

সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর পাঁচ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা মইন উ আহমেদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে গত ৪ ও ৫ এপ্রিল ফ্লোরিডায় চতুর্থ উত্তর আমেরিকা রবীন্দ্র সম্মেলনে। ক্যান্সারে আক্রান্ত মইন উ আহমেদকে সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি অতিথিদের সঙ্গে হাসিমুখে কুশল বিনিময় এবং অনেকের সঙ্গে ছবিও তুলতে দেখা গেছে। গত ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হলেও দৃশ্যত সেনাবাহিনীর প্রধান মইন উ আহমেদ ছিলেন সরকার পরিচালনায়। তখন দুই প্রধান রাজনৈতিক নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে বন্দি করা হয়। তাদেরকে হয়রানী করায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সমালোচনায় মুখর হন রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীরা। ২০০৮ সালে নির্বাচনের পর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের কিছু দিন পর অবসরেন যান জেনারেল মইন উ আহমেদ। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন, তখনকার প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীনও রয়েছেন একই দেশে। দেশে জরুরী অবস্থার সময়ে ছাত্র আন্দোলনের সময় দমন-পীড়নের তদন্তে তাদের দুজনকে নবম সংসদের সংসদীয় একটি কমিটি তলব করলেও তারা দেশে আসেননি। ২০০৯ সালের ১৪ জুন সস্ত্রীক ফ্লোরিডায় আসেন যান মঈন উ আহমেদ। সেখানে ছোট ভাই ও ছেলের কাছে থাকার সময় তার ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর থেকে তিনি নিউ ইয়র্কে থাকছেন। কয়েক বছর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি (গ্রিনকার্ড) পান। এর পর থেকেই নিউ ইয়র্কের একটি হাসপাতালে ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছেন।রবীন্দ্র সম্মেলনে তাকে দেখে অসুস্থ মনে হচ্ছিল না।গত পাঁচ বছরে তাকে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা গেলেও এই প্রথম তিনি কোনো অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিলেন। পামবিচ সিটির ওই অনুষ্ঠানের মঞ্চে মইন আহমেদকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয়।

মইন উ আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, রবীন্দ্রনাথ শুধু বাংলার কবি নন, সারাবিশ্বের কবি তিনি। তার কাব্য-সাহিত্যে ধ্বনিত হয়েছে মানবতার মুক্তির আহবান, সমাজ-সংস্কারের কথা। কলকাতায় রবীন্দ্রস্মৃতিবিজড়িত শান্তি নিকেতন এবং কবির বাড়ি দেখার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এই কবির বিশ্বজনীনতা অটুট রাখার স্বার্থে তার লেখা নতুন প্রজন্মেও ছড়িয়ে দিতে হবে। তিনি যে বাংলা ও বাঙালির অহংকার ছিলেন তা ধারণ করতে হবে সকলকে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এশিয়া-আমেরিকা ও প্যাসিফিক আইল্যান্ডার্স বিষয়ক উপদেষ্টা নীনা আহমেদ। আর রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও কাদেরী কিবরিয়া।

বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন অব ফ্লোরিডা আয়োজিত এই সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি আতিকুর রহমান, সদস্য সচিব নওশাদ চৌধুরী, ফোবানা চেয়ারম্যান ডিউক খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটের সাবেক ডিন মতলুব আলীসহ প্রমুখ।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

ফ্লোরিডায় প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিলেন জেনারেল মইন

আপডেট টাইম : ০২:২০:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০১৫

ডেক্স: দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে এলেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ। গত আট বছর আগে জরুরি অবস্থা জারির পর যিনি কার্যত বাংলাদেশের আলোচিত ব্যক্তি ছিলেন।

সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর পাঁচ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা মইন উ আহমেদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে গত ৪ ও ৫ এপ্রিল ফ্লোরিডায় চতুর্থ উত্তর আমেরিকা রবীন্দ্র সম্মেলনে। ক্যান্সারে আক্রান্ত মইন উ আহমেদকে সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি অতিথিদের সঙ্গে হাসিমুখে কুশল বিনিময় এবং অনেকের সঙ্গে ছবিও তুলতে দেখা গেছে। গত ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হলেও দৃশ্যত সেনাবাহিনীর প্রধান মইন উ আহমেদ ছিলেন সরকার পরিচালনায়। তখন দুই প্রধান রাজনৈতিক নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে বন্দি করা হয়। তাদেরকে হয়রানী করায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সমালোচনায় মুখর হন রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীরা। ২০০৮ সালে নির্বাচনের পর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের কিছু দিন পর অবসরেন যান জেনারেল মইন উ আহমেদ। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন, তখনকার প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীনও রয়েছেন একই দেশে। দেশে জরুরী অবস্থার সময়ে ছাত্র আন্দোলনের সময় দমন-পীড়নের তদন্তে তাদের দুজনকে নবম সংসদের সংসদীয় একটি কমিটি তলব করলেও তারা দেশে আসেননি। ২০০৯ সালের ১৪ জুন সস্ত্রীক ফ্লোরিডায় আসেন যান মঈন উ আহমেদ। সেখানে ছোট ভাই ও ছেলের কাছে থাকার সময় তার ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর থেকে তিনি নিউ ইয়র্কে থাকছেন। কয়েক বছর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি (গ্রিনকার্ড) পান। এর পর থেকেই নিউ ইয়র্কের একটি হাসপাতালে ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছেন।রবীন্দ্র সম্মেলনে তাকে দেখে অসুস্থ মনে হচ্ছিল না।গত পাঁচ বছরে তাকে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা গেলেও এই প্রথম তিনি কোনো অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিলেন। পামবিচ সিটির ওই অনুষ্ঠানের মঞ্চে মইন আহমেদকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয়।

মইন উ আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, রবীন্দ্রনাথ শুধু বাংলার কবি নন, সারাবিশ্বের কবি তিনি। তার কাব্য-সাহিত্যে ধ্বনিত হয়েছে মানবতার মুক্তির আহবান, সমাজ-সংস্কারের কথা। কলকাতায় রবীন্দ্রস্মৃতিবিজড়িত শান্তি নিকেতন এবং কবির বাড়ি দেখার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এই কবির বিশ্বজনীনতা অটুট রাখার স্বার্থে তার লেখা নতুন প্রজন্মেও ছড়িয়ে দিতে হবে। তিনি যে বাংলা ও বাঙালির অহংকার ছিলেন তা ধারণ করতে হবে সকলকে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এশিয়া-আমেরিকা ও প্যাসিফিক আইল্যান্ডার্স বিষয়ক উপদেষ্টা নীনা আহমেদ। আর রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও কাদেরী কিবরিয়া।

বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন অব ফ্লোরিডা আয়োজিত এই সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি আতিকুর রহমান, সদস্য সচিব নওশাদ চৌধুরী, ফোবানা চেয়ারম্যান ডিউক খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটের সাবেক ডিন মতলুব আলীসহ প্রমুখ।