পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক

ডেমরায় স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে করছে বালুর ব্যবসা, হুমকির মুখে সুলতানা কামাল সেতু

ফারুক আহমেদ সুজন : শীতলক্ষ্যা নদীর কাঁচপুর ব্রিজ এলাকা অবৈধ দখলমুক্ত হলেও মুক্ত হয়নি ডেমরা সুলতানা কামাল সেতু। একসময় নরসিংদী, রূপগঞ্জ, সেনারগাঁও গাউছিয়া, মাধবদী, আড়াইহাজারসহ বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার শ্রমিক ডেমরা ঘাট পার হয়ে বাওয়ানী জুট মিলে চাকরি করত। বর্তমানে ডেমরা সুলতানা কামাল সেতু হওয়ায় ডেমরা ঘাট এলাকায় তেমন কোনো যাত্রী না থাকায় ঘাটটি অবৈধ দখলদাররা দখল করে ইট, বালুসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায় করছে। জানা যায়, ডেমরা ঘাট এলাকায় সুলতানা কামাল ব্রিজের নিচে শীতলক্ষ্যা নদী ভরাট ও দখল করে অবৈধভাবে চলছে বালুর ব্যবসা। এতে হুমকিতে রয়েছে সুলতানা কামাল সেতু।
শীতল্যা নদী ও বালু নদীর মোহনা ভরাট করে সুলতানা কামাল সেতুর নিচ অবৈধ দখল করে মেশিন বসিয়ে চলছে বালু ওঠানোর কাজ। বালু বোঝাই ট্রাকগুলো দিন-রাত সেতুর নিচে ওঠানো নামানোর ফলে সেতুর পিলার রা বেষ্টনী ভেঙে মাটি সরে যাচ্ছে। ফলে সেতুটি হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। অন্য দিকে শীতলক্ষ্যা নদী ভরাট করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা ৮-১০টি গদি বসিয়ে ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছে। ডেমরা ঘাট অবৈধভাবে দখল করে জমজমাট ইট, বালু, পাথর ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছে। বিআইডব্লিউটির কর্মকর্তা এসব দেখেও না দেখার ভান করছেন।
২০১২ সালে হাইকোটের নির্দেশে বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্যোগে অবৈধ বালু ও পাথর ব্যবসায় বন্ধে বহুবার শীতলক্ষ্যা নদীর দুই পাড়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও কোনো কাজ না হওয়ায় হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০১২ সালের জুন মাসে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্যোগে শীতলক্ষ্যা নদী রা, অবৈধ পাথর ও বালুর ব্যবসায় ঠেকানো, সৌন্দর্য বৃদ্ধি, লোকজন চলাচল ও নির্মল বাতাস উপভোগ করার জন্য ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মিত ওয়াকওয়ে (হাঁটাচলার রাস্তাটি) ২০১৪ সালের জুন মাসে উদ্বোধন করেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। শীতলক্ষ্যা নদীকে অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে রার উদ্দেশ্যে তীররা বাঁধ ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হলেও এখনো পুরো শীতল্যা নদী দখল মুক্ত হয়নি বলে জানান, শীতলক্ষ্যা তীরের ডেমরা এলাকার বাসিন্দারা। এ দিকে ওয়াকওয়েটি শীতলক্ষ্যা নদীর তীর নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের বাজার ঘাট থেকে ডেমরা থানার ডেমরা ঘাট পর্যন্ত ৪ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীর তীরে নির্মাণ করার কথা থাকলেও অদৃশ্য কারণে তা ডেমরা বাজার পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়নি।
এ দিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ হাইকোটের নির্দেশ সত্ত্বেও শীতলক্ষ্যা নদীর ডেমরা সুলতানা কামাল সেতু এলাকা উচ্ছেদ করে ওয়াকওয়ে (হাঁটাচলা রাস্তা) নির্মাণ করা হচ্ছে না। নারায়ণগঞ্জ থেকে ডেমরা করিম জুট মিল হয়ে ডেমরা বাজার পর্যন্ত শীতলক্ষ্যা নদীর পাড় পর্যন্ত অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে নদীর পাড়ে ওয়াকওয়ে রাস্তা নির্মাণ করা কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে ডেমরা করিম জুটমিলের কওমি মাদরাসা পর্যন্ত ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হলে সুলতানা কামাল সেতুর দণি পাশ হয়ে ডেমরা বাজার শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর মোহনা পর্যন্ত অবৈধ দখলে রয়েছে। বর্তমানে ডেমরা সুলতানা কামাল সেতুর নিচে ডেমরা খেয়াঘাট এলাকা দখল করে নামে বেনামে একাধিক প্রতিষ্ঠান গদি বসিয়ে বালু ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছে। এসব দখলদার কোনো নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে এখানে জমজমাট বালু ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছে। ব্রিজের নিচে ভারী মেশিন দিয়ে বালু সরবরাহ করার কারণে এক দিকে যেমন ব্রিজের তি হচ্ছে অন্য দিকে শীতলক্ষ্যা নদী ভরাট করে বালু রাখার কারণে নদীর গতিপথ পাল্টে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক আরিফ উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, চলতি বছরে বাজেট শেষ হয়ে যাওয়ায় ডেমরা সুলতানা কামাল সেতু এলাকাসহ ডেমরা বাজার এলাকা দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়নি। নতুন বাজেটের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বাজেট পাওয়া গেলে শীতলক্ষ্যা নদীর ডেমরা অংশ দখলমুক্ত করে ওয়াকওয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হবে।

Tag :

সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো

ডেমরায় স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে করছে বালুর ব্যবসা, হুমকির মুখে সুলতানা কামাল সেতু

আপডেট টাইম : ০২:৪৬:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০১৫

ফারুক আহমেদ সুজন : শীতলক্ষ্যা নদীর কাঁচপুর ব্রিজ এলাকা অবৈধ দখলমুক্ত হলেও মুক্ত হয়নি ডেমরা সুলতানা কামাল সেতু। একসময় নরসিংদী, রূপগঞ্জ, সেনারগাঁও গাউছিয়া, মাধবদী, আড়াইহাজারসহ বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার শ্রমিক ডেমরা ঘাট পার হয়ে বাওয়ানী জুট মিলে চাকরি করত। বর্তমানে ডেমরা সুলতানা কামাল সেতু হওয়ায় ডেমরা ঘাট এলাকায় তেমন কোনো যাত্রী না থাকায় ঘাটটি অবৈধ দখলদাররা দখল করে ইট, বালুসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায় করছে। জানা যায়, ডেমরা ঘাট এলাকায় সুলতানা কামাল ব্রিজের নিচে শীতলক্ষ্যা নদী ভরাট ও দখল করে অবৈধভাবে চলছে বালুর ব্যবসা। এতে হুমকিতে রয়েছে সুলতানা কামাল সেতু।
শীতল্যা নদী ও বালু নদীর মোহনা ভরাট করে সুলতানা কামাল সেতুর নিচ অবৈধ দখল করে মেশিন বসিয়ে চলছে বালু ওঠানোর কাজ। বালু বোঝাই ট্রাকগুলো দিন-রাত সেতুর নিচে ওঠানো নামানোর ফলে সেতুর পিলার রা বেষ্টনী ভেঙে মাটি সরে যাচ্ছে। ফলে সেতুটি হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। অন্য দিকে শীতলক্ষ্যা নদী ভরাট করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা ৮-১০টি গদি বসিয়ে ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছে। ডেমরা ঘাট অবৈধভাবে দখল করে জমজমাট ইট, বালু, পাথর ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছে। বিআইডব্লিউটির কর্মকর্তা এসব দেখেও না দেখার ভান করছেন।
২০১২ সালে হাইকোটের নির্দেশে বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্যোগে অবৈধ বালু ও পাথর ব্যবসায় বন্ধে বহুবার শীতলক্ষ্যা নদীর দুই পাড়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও কোনো কাজ না হওয়ায় হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০১২ সালের জুন মাসে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্যোগে শীতলক্ষ্যা নদী রা, অবৈধ পাথর ও বালুর ব্যবসায় ঠেকানো, সৌন্দর্য বৃদ্ধি, লোকজন চলাচল ও নির্মল বাতাস উপভোগ করার জন্য ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মিত ওয়াকওয়ে (হাঁটাচলার রাস্তাটি) ২০১৪ সালের জুন মাসে উদ্বোধন করেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। শীতলক্ষ্যা নদীকে অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে রার উদ্দেশ্যে তীররা বাঁধ ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হলেও এখনো পুরো শীতল্যা নদী দখল মুক্ত হয়নি বলে জানান, শীতলক্ষ্যা তীরের ডেমরা এলাকার বাসিন্দারা। এ দিকে ওয়াকওয়েটি শীতলক্ষ্যা নদীর তীর নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের বাজার ঘাট থেকে ডেমরা থানার ডেমরা ঘাট পর্যন্ত ৪ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীর তীরে নির্মাণ করার কথা থাকলেও অদৃশ্য কারণে তা ডেমরা বাজার পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়নি।
এ দিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ হাইকোটের নির্দেশ সত্ত্বেও শীতলক্ষ্যা নদীর ডেমরা সুলতানা কামাল সেতু এলাকা উচ্ছেদ করে ওয়াকওয়ে (হাঁটাচলা রাস্তা) নির্মাণ করা হচ্ছে না। নারায়ণগঞ্জ থেকে ডেমরা করিম জুট মিল হয়ে ডেমরা বাজার পর্যন্ত শীতলক্ষ্যা নদীর পাড় পর্যন্ত অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে নদীর পাড়ে ওয়াকওয়ে রাস্তা নির্মাণ করা কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে ডেমরা করিম জুটমিলের কওমি মাদরাসা পর্যন্ত ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হলে সুলতানা কামাল সেতুর দণি পাশ হয়ে ডেমরা বাজার শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর মোহনা পর্যন্ত অবৈধ দখলে রয়েছে। বর্তমানে ডেমরা সুলতানা কামাল সেতুর নিচে ডেমরা খেয়াঘাট এলাকা দখল করে নামে বেনামে একাধিক প্রতিষ্ঠান গদি বসিয়ে বালু ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছে। এসব দখলদার কোনো নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে এখানে জমজমাট বালু ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছে। ব্রিজের নিচে ভারী মেশিন দিয়ে বালু সরবরাহ করার কারণে এক দিকে যেমন ব্রিজের তি হচ্ছে অন্য দিকে শীতলক্ষ্যা নদী ভরাট করে বালু রাখার কারণে নদীর গতিপথ পাল্টে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক আরিফ উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, চলতি বছরে বাজেট শেষ হয়ে যাওয়ায় ডেমরা সুলতানা কামাল সেতু এলাকাসহ ডেমরা বাজার এলাকা দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়নি। নতুন বাজেটের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বাজেট পাওয়া গেলে শীতলক্ষ্যা নদীর ডেমরা অংশ দখলমুক্ত করে ওয়াকওয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হবে।