পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

মারাত্মক দূষন আর দখলের কবলে ডিএনডি’র ১১৩ কিমি খাল

নারায়ণগঞ্জ: আমাগো কপালের দু:খ আর যাইবো না । আর কয় দিন পরেই বৃষ্টি (বর্ষাকাল) শুরু হইবো। ক্যানেল গুলো (খাল) ময়লা আবর্জনা ভইরা গেছে পরিস্কার করার কোন খবর নাই। বাসা বাড়ি কল কারখানার ময়লা যে যেভাবে পারতাছে ক্যানেলে ফেলতাছে।

এবার আর নিস্তার নাই। বৃষ্টি শুরু হইলে ঘর বাড়ি ডুইবা যাইবো। আমাগো কষ্ট দেখার তো আর কেউ নাই।
ডিএনডি’র দেলপাড়া টাওয়ারপাড় এলাকার বাসিন্দা সিদ্দিক উল্লাহ (৬৫) গতকাল এভাবেই মনের আক্ষেপ প্রকাশ করলেন। সিদ্দিক উল্লার মতো ক্ষোভ প্রকাশ করে ডিএনডি এলাকার বাসিন্দা সাবেক ইউপি মেম্বার আফজাল হোসেন বলেন, ৩৩/৩৪ বছরেও ডিএনডি এলাকা মানুষের দু:খ দুর হয়নি। প্রতিবছর বর্ষাকাল আসে অভিশাপ হয়ে। ঘরবাড়ি রাস্তা ঘাট ডুবে যায় পানিতে। নিদারুন কষ্টের মধ্যে মানুষকে বর্ষা মওসুম পার করতে হয়।
খোজ নিয়ে জানা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) খালটি অযতœ-অবহেলা ও পরিচর্যার অভাবে এখন ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। এতে ডিএনডি খালের আশপাশের লোকজন নানাবিধ সমস্যায় পড়ছে। ডিএনডি খালের এ দুরাবস্থার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। হাজারো অভিযোগ ডিএনডিবাসী। সমাধান হয় না তাই অনেকে সমস্যার কথাও বলতে চান না। তবে বর্ষা মওসুম এলেই শুরু হয়ে যায় দুর্ভোগ আর দুর্দশা।
খোজ নিয়ে জানা যায়, ডিএনডি এলাকায় প্রায় ২০ লাখ মানুষের বসবাস। ডিএনডি বাঁধ এলাকার মোট আয়তন ৩২ দশমিক ৮ বর্গকিলোমিটার। ইরি ধান চাষাবাদের জন্য ১৯৬৫ সালে ডিএনডি বাঁধ নির্মাণ শুরু করা হয়। তখন ডিএনডির ভেতর সেচ প্রকল্প ছিল পাঁচ হাজার ৬৪ হেক্টর।
সূত্র জানায়, ডিএনডি বাঁধের ভেতর কংস নদ এবং মলখালী খালের মতো ৯টি খাল ছিল। ডিএনডির ইরিগেশন প্রজেক্টে সেগুলোকে সেচখাল হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এসব খালের ছিল আরও ৯টি শাখা খাল। এছাড়াও ছিল ২১০টি আউটলেট, ১০টি নিষ্কাশন খাল। এসব খালের সর্বমোট দৈর্ঘ্য ১৮৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে নিষ্কাশন খালের দৈর্ঘ্য ৪৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার। ইরিগেশন খালের দৈর্ঘ্য ৫১ দশমিক ২০ কিলোমিটার। ১৯৬৫ সালে শুরু হয়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হয় ১৯৬৮ সালের শেষ দিকে।
সূত্র জানায়,আশির দশকের পর থেকে লোকজন ডিএনডি বাঁধের ভেতর জমি কিনে অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর, ইটের ভাটা, ছোট-বড় শিল্প-কারখানা নির্মাণ করে।অপরিকল্পিত আবাসিক ও কল-কারখানা নির্মাণের কারণে ডিএনডি বাঁধ এলাকায় প্রতিবছরই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এ নিয়ে এলাকাসী দীর্ঘদিন আন্দোলন করে । কিন্ত নিয়ম নীতি না থাকার কারনে খালগুলোতে ময়লা আবজর্না ফেলা হচ্ছে । এছাড়া খালের দু’পাশ দখল করে দোকান ঘর বাড়ি কালভার্ট নির্মান করা হয়। এমনি পানি নিস্কাসনের পথ রুদ্ধ করে মাছ চাষ করা হয় অনেক স্থানে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের মতে,আবাসিক ও শিল্প বর্জ্য ফেলার কারণে ডিএনডির নিষ্কাশন খালগুলোর কার্যকারিতা কমে গেছে। বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধতা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু ক্যানেল নেটওয়ার্ক এবং পাম্প সচল থাকায় বর্তমানে ডিএনডি এলাকার জলাবদ্ধতা সমস্যা সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে বলে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি হলেও বাস্তবে সেটি হচ্ছে না।
পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সূত্রে জানা যায়, ঢাকা নারায়নগঞ্জ ডেমরা (ডিএনডি) এলাকার জলবদ্ধতা ও নিস্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে ১১৩ কিমি খালের বর্জ্য অপসারনে জন্য সরকার জরুরী ভিত্তিতে ৩কোটি৫৯লাখ টাকা ব্যায় করে ২০১২সালের ৩০ জুন প্রকল্প কাজ শেষ করা হয়। পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের গৃহীত প্রকল্পের অগ্রগতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনের তালিকায় ডিএনডি এলাকার খালের বর্জ্য অপসারন সম্পন্ন করার কাজটি ১নং তালিকাভুক্তি করে গত ২৮এপ্রিল মন্ত্রানালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
২০১০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘ডিএনডি’ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও বাঁধে পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা জন্য ‘ড্রেনেজ ইমপ্রুভমেন্ট অফ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা প্রজেক্ট’ তৈরি করা হয়।
অথচ গত কয়েকদিন ডিএনডির দেলপাড়া ভুইগড়, জালকুড়ি,পাগলা নয়ামাটি সিদ্ধিরগঞ্জ, মাতুয়াইল, শানিআখড়া, নামা শ্যামপুর,তুষারধারাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে প্রায় খাল ময়লা আবর্জনায় ভরে গেছে। পানি পচে দুর্গন্ধ ছাড়াচ্ছে। খালগুলোর দু’পাশ দখল করে নিয়েছে অবৈধ দখলদাররা। অনেক নিচু এলাকায় খালের ময়লা পানি বাড়িতে ও ফসলী জমিতে শিল্প বর্জ্যরে পানি ড়–কে পড়েছে।
এদিকে রাজধানীর ডিএনডি বাঁধ এলাকার ক্যানাল খনন করা, ড্রেনগুলো পরিস্কার করা, জলাবদ্ধতা দূর করা ও পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবিতে প্রতিবাদী হয়ে উঠছে মানুষ।
সম্পতি শনির আখড়া এলাকায় এক মানববন্ধন আয়োজন করে স্থানায় লোকজন জানান, অনেক বছর যাবত এ এলাকা বর্ষার সময় পানিতে নিমজ্জিত হয়ে যায়। কিন্তু এই ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের দীর্ঘস্থায়ী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না। বরং এইসব কাজের জন্য যতটুকু বরাদ্দ আসে সেগুলো নিজেদের মধ্যেই ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়।
সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলের ডিএনডি পাম্পহাউজের একজন কর্মকর্তার জানান, বৃষ্টিতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোন কারণ নেই। প্রধান নিষ্কাশন খালগুলো দিয়ে স্বাভাবিকভাবে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ওই খালগুলোর পথগুলোও পরিষ্কার রয়েছে। কিন্তু শাখা খালগুলো ময়লা আবর্জনায় সয়লাব ও দখলের কারণে ডিএনডির প্রধান খাল পর্যন্ত পানি যেতে পারছে না।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

মারাত্মক দূষন আর দখলের কবলে ডিএনডি’র ১১৩ কিমি খাল

আপডেট টাইম : ০৩:৩২:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০১৫

নারায়ণগঞ্জ: আমাগো কপালের দু:খ আর যাইবো না । আর কয় দিন পরেই বৃষ্টি (বর্ষাকাল) শুরু হইবো। ক্যানেল গুলো (খাল) ময়লা আবর্জনা ভইরা গেছে পরিস্কার করার কোন খবর নাই। বাসা বাড়ি কল কারখানার ময়লা যে যেভাবে পারতাছে ক্যানেলে ফেলতাছে।

এবার আর নিস্তার নাই। বৃষ্টি শুরু হইলে ঘর বাড়ি ডুইবা যাইবো। আমাগো কষ্ট দেখার তো আর কেউ নাই।
ডিএনডি’র দেলপাড়া টাওয়ারপাড় এলাকার বাসিন্দা সিদ্দিক উল্লাহ (৬৫) গতকাল এভাবেই মনের আক্ষেপ প্রকাশ করলেন। সিদ্দিক উল্লার মতো ক্ষোভ প্রকাশ করে ডিএনডি এলাকার বাসিন্দা সাবেক ইউপি মেম্বার আফজাল হোসেন বলেন, ৩৩/৩৪ বছরেও ডিএনডি এলাকা মানুষের দু:খ দুর হয়নি। প্রতিবছর বর্ষাকাল আসে অভিশাপ হয়ে। ঘরবাড়ি রাস্তা ঘাট ডুবে যায় পানিতে। নিদারুন কষ্টের মধ্যে মানুষকে বর্ষা মওসুম পার করতে হয়।
খোজ নিয়ে জানা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) খালটি অযতœ-অবহেলা ও পরিচর্যার অভাবে এখন ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। এতে ডিএনডি খালের আশপাশের লোকজন নানাবিধ সমস্যায় পড়ছে। ডিএনডি খালের এ দুরাবস্থার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। হাজারো অভিযোগ ডিএনডিবাসী। সমাধান হয় না তাই অনেকে সমস্যার কথাও বলতে চান না। তবে বর্ষা মওসুম এলেই শুরু হয়ে যায় দুর্ভোগ আর দুর্দশা।
খোজ নিয়ে জানা যায়, ডিএনডি এলাকায় প্রায় ২০ লাখ মানুষের বসবাস। ডিএনডি বাঁধ এলাকার মোট আয়তন ৩২ দশমিক ৮ বর্গকিলোমিটার। ইরি ধান চাষাবাদের জন্য ১৯৬৫ সালে ডিএনডি বাঁধ নির্মাণ শুরু করা হয়। তখন ডিএনডির ভেতর সেচ প্রকল্প ছিল পাঁচ হাজার ৬৪ হেক্টর।
সূত্র জানায়, ডিএনডি বাঁধের ভেতর কংস নদ এবং মলখালী খালের মতো ৯টি খাল ছিল। ডিএনডির ইরিগেশন প্রজেক্টে সেগুলোকে সেচখাল হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এসব খালের ছিল আরও ৯টি শাখা খাল। এছাড়াও ছিল ২১০টি আউটলেট, ১০টি নিষ্কাশন খাল। এসব খালের সর্বমোট দৈর্ঘ্য ১৮৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে নিষ্কাশন খালের দৈর্ঘ্য ৪৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার। ইরিগেশন খালের দৈর্ঘ্য ৫১ দশমিক ২০ কিলোমিটার। ১৯৬৫ সালে শুরু হয়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হয় ১৯৬৮ সালের শেষ দিকে।
সূত্র জানায়,আশির দশকের পর থেকে লোকজন ডিএনডি বাঁধের ভেতর জমি কিনে অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর, ইটের ভাটা, ছোট-বড় শিল্প-কারখানা নির্মাণ করে।অপরিকল্পিত আবাসিক ও কল-কারখানা নির্মাণের কারণে ডিএনডি বাঁধ এলাকায় প্রতিবছরই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এ নিয়ে এলাকাসী দীর্ঘদিন আন্দোলন করে । কিন্ত নিয়ম নীতি না থাকার কারনে খালগুলোতে ময়লা আবজর্না ফেলা হচ্ছে । এছাড়া খালের দু’পাশ দখল করে দোকান ঘর বাড়ি কালভার্ট নির্মান করা হয়। এমনি পানি নিস্কাসনের পথ রুদ্ধ করে মাছ চাষ করা হয় অনেক স্থানে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের মতে,আবাসিক ও শিল্প বর্জ্য ফেলার কারণে ডিএনডির নিষ্কাশন খালগুলোর কার্যকারিতা কমে গেছে। বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধতা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু ক্যানেল নেটওয়ার্ক এবং পাম্প সচল থাকায় বর্তমানে ডিএনডি এলাকার জলাবদ্ধতা সমস্যা সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে বলে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি হলেও বাস্তবে সেটি হচ্ছে না।
পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সূত্রে জানা যায়, ঢাকা নারায়নগঞ্জ ডেমরা (ডিএনডি) এলাকার জলবদ্ধতা ও নিস্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে ১১৩ কিমি খালের বর্জ্য অপসারনে জন্য সরকার জরুরী ভিত্তিতে ৩কোটি৫৯লাখ টাকা ব্যায় করে ২০১২সালের ৩০ জুন প্রকল্প কাজ শেষ করা হয়। পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের গৃহীত প্রকল্পের অগ্রগতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনের তালিকায় ডিএনডি এলাকার খালের বর্জ্য অপসারন সম্পন্ন করার কাজটি ১নং তালিকাভুক্তি করে গত ২৮এপ্রিল মন্ত্রানালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
২০১০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘ডিএনডি’ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও বাঁধে পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা জন্য ‘ড্রেনেজ ইমপ্রুভমেন্ট অফ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা প্রজেক্ট’ তৈরি করা হয়।
অথচ গত কয়েকদিন ডিএনডির দেলপাড়া ভুইগড়, জালকুড়ি,পাগলা নয়ামাটি সিদ্ধিরগঞ্জ, মাতুয়াইল, শানিআখড়া, নামা শ্যামপুর,তুষারধারাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে প্রায় খাল ময়লা আবর্জনায় ভরে গেছে। পানি পচে দুর্গন্ধ ছাড়াচ্ছে। খালগুলোর দু’পাশ দখল করে নিয়েছে অবৈধ দখলদাররা। অনেক নিচু এলাকায় খালের ময়লা পানি বাড়িতে ও ফসলী জমিতে শিল্প বর্জ্যরে পানি ড়–কে পড়েছে।
এদিকে রাজধানীর ডিএনডি বাঁধ এলাকার ক্যানাল খনন করা, ড্রেনগুলো পরিস্কার করা, জলাবদ্ধতা দূর করা ও পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবিতে প্রতিবাদী হয়ে উঠছে মানুষ।
সম্পতি শনির আখড়া এলাকায় এক মানববন্ধন আয়োজন করে স্থানায় লোকজন জানান, অনেক বছর যাবত এ এলাকা বর্ষার সময় পানিতে নিমজ্জিত হয়ে যায়। কিন্তু এই ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের দীর্ঘস্থায়ী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না। বরং এইসব কাজের জন্য যতটুকু বরাদ্দ আসে সেগুলো নিজেদের মধ্যেই ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়।
সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলের ডিএনডি পাম্পহাউজের একজন কর্মকর্তার জানান, বৃষ্টিতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোন কারণ নেই। প্রধান নিষ্কাশন খালগুলো দিয়ে স্বাভাবিকভাবে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ওই খালগুলোর পথগুলোও পরিষ্কার রয়েছে। কিন্তু শাখা খালগুলো ময়লা আবর্জনায় সয়লাব ও দখলের কারণে ডিএনডির প্রধান খাল পর্যন্ত পানি যেতে পারছে না।