পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

গর্ভের বাচ্চা কালো হওয়ার আশঙ্কায় গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যা

ঢাকা: অবশেষে অন্ত:সত্ত্বা গৃহবধূ পাপিয়া আক্তার (১৯) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিসাধীণ অবস্থায় মারা গেলেন।

গায়ের রং কালো ও তার পেটের সন্তান কালো হবে এ অশঙ্কায় তার গায়ে আগুনে পুড়িয়েছিল শ্বশুর বাড়ির লোকজন। মৃত্যুর আগে পাপিয়া ও তার পরিবার এমন অভিযোগ করেছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের সাধককালী গ্রামে। শ্বশুরবাড়িতে গত শনিবার সকালে পাপিয়ার শরীরে কোরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে শ্বশুর বাড়ির লোকজন। ঘটনার পর পাপিয়ার দেবরকে পুলিশ গ্রেফতার করে। আগুনের ঘটনায় পাপিয়ার শরীরের ৯০শতাংশ দগ্ধ হয়ে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শঙ্কর পাল তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পাপিয়ার বাবার নাম নজির মিয়া। কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার বাটিঘাগড়া গ্রামের তাদের বাড়ি।

পাপিয়ার বাবা নজির মিয়া জানান, গত শনিবার সকালে স্বামী আশিকুল হক, শ্বশুর আনোয়ারুল হক খোকন, শাশুড়ি পারুল বেগম, দেবর মাসিকুল হক ও ফুফু শাশুড়ি হাওয়া বেগম কেরোসিন ঢেলে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে তাকে প্রথমে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে ও পরে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরে গুরুতর দগ্ধ পাপিয়া আক্তার ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

তিনি আরো বলেন, বিয়ের পর গর্ভে থাকা অবস্থায় প্রথম সন্তানকে জোর করে স্বামী মেরে ফেলে। এরপর গর্ভে একটি সন্তান আসে। এই সন্তানটিও মেরে ফেলতে চাপ দেয়। তখন এর কারণ জানতে চাইলে স্বামী বলে, তোর গায়ের রং কালো। তোর গর্ভে যে ছেলে-মেয়ে হবে তাও কলো হবে। তুই এ বাড়ি ছেড়ে চলে যা। কিন্তু এতে অস্বীকার করলে শরীরে কোরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনার পরের দিন পাপিয়ার বড় ভাই সিরাজুল ইসলাম ৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। পালানোর চেষ্টাকালে প্রতিবেশীরা দেবর মাসিকুলকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেন।

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বজলুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

গর্ভের বাচ্চা কালো হওয়ার আশঙ্কায় গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যা

আপডেট টাইম : ০১:৩৬:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০১৫

ঢাকা: অবশেষে অন্ত:সত্ত্বা গৃহবধূ পাপিয়া আক্তার (১৯) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিসাধীণ অবস্থায় মারা গেলেন।

গায়ের রং কালো ও তার পেটের সন্তান কালো হবে এ অশঙ্কায় তার গায়ে আগুনে পুড়িয়েছিল শ্বশুর বাড়ির লোকজন। মৃত্যুর আগে পাপিয়া ও তার পরিবার এমন অভিযোগ করেছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের সাধককালী গ্রামে। শ্বশুরবাড়িতে গত শনিবার সকালে পাপিয়ার শরীরে কোরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে শ্বশুর বাড়ির লোকজন। ঘটনার পর পাপিয়ার দেবরকে পুলিশ গ্রেফতার করে। আগুনের ঘটনায় পাপিয়ার শরীরের ৯০শতাংশ দগ্ধ হয়ে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শঙ্কর পাল তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পাপিয়ার বাবার নাম নজির মিয়া। কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার বাটিঘাগড়া গ্রামের তাদের বাড়ি।

পাপিয়ার বাবা নজির মিয়া জানান, গত শনিবার সকালে স্বামী আশিকুল হক, শ্বশুর আনোয়ারুল হক খোকন, শাশুড়ি পারুল বেগম, দেবর মাসিকুল হক ও ফুফু শাশুড়ি হাওয়া বেগম কেরোসিন ঢেলে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে তাকে প্রথমে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে ও পরে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরে গুরুতর দগ্ধ পাপিয়া আক্তার ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

তিনি আরো বলেন, বিয়ের পর গর্ভে থাকা অবস্থায় প্রথম সন্তানকে জোর করে স্বামী মেরে ফেলে। এরপর গর্ভে একটি সন্তান আসে। এই সন্তানটিও মেরে ফেলতে চাপ দেয়। তখন এর কারণ জানতে চাইলে স্বামী বলে, তোর গায়ের রং কালো। তোর গর্ভে যে ছেলে-মেয়ে হবে তাও কলো হবে। তুই এ বাড়ি ছেড়ে চলে যা। কিন্তু এতে অস্বীকার করলে শরীরে কোরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনার পরের দিন পাপিয়ার বড় ভাই সিরাজুল ইসলাম ৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। পালানোর চেষ্টাকালে প্রতিবেশীরা দেবর মাসিকুলকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেন।

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বজলুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে।