অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

মাথার ওপর দণ্ড নিয়ে এমপি থাকা যায় না

ঢাকা: বাংলাদেশের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরি আদৌ আর সংসদ এবং মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন কিনা তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী খুরশিদ আলম বলেছেন, একটি দুর্নীতির মামলায় যেহেতু তাঁর বিরুদ্ধে সাজা বহাল রয়েছে, তাই তিনি আর সংসদ সদস্য থাকতে পারেন না।

উল্লেখ্য বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী নৈতিক স্খলন জনিত অপরাধে কেউ সাজা পেলে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা হারান।

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরির বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির মামলা ঘিরে এই বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা দায়ের করা হয় বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে।

অবৈধভাবে ছয় কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের এই মামলায় তাঁকে ২০০৮ সালে ১৩ বছরের দন্ড দেয়া হয়। হাইকোর্ট ২০১০ সালে রায়টি বাতিল করে। কিন্তু দুর্নীতি দমন কমিশনের এক আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ই জুন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় খারিজ করে দেয় এবং হাইকোর্টকে আপিলের পুনঃশুনানির নির্দেশ দেয়।

দুপক্ষের আইনজীবীরা এই রায়ের দুরকমের ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী খুরশিদ আলম বলছেন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরি যে আর সংসদ সদস্য থাকতে পারেন না, তা নিয়ে অস্পষ্টতার কোন অবকাশ নেই।

“বর্তমানে তিনি একটি ফৌজদারি আপিল মামলার জামিনপ্রাপ্ত আসামি, যার মাথার ওপর একটি দণ্ড ঝুলছে। কাজেই সেই অবস্থায় আমি মনে করি উনার সদস্যপদ আর থাকে না সংবিধানের ৬৬ (২) ঘ ধারা অনুযায়ী।”

কিন্তু এর সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করছেন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরির আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার। তিনি বলেন, “নৈতিকতার প্রশ্ন ভিন্ন। আমি এটিকে আইনের বিচারে দেখতে চাই। আপিল বিভাগ মামলাটিকে বিচার করে আবার পুনর্বিচারের জন্য পাঠিয়েছেন। বিচারিক আদালত তাঁকে যে সাজা দিয়েছিলেন সেই সাজা এখন পুনর্বিচার করা হচ্ছে। সুতরাং এটার চূড়ান্ত মীমাংসা এখনো হয়নি। তাই জনপ্রতিনিধি হিসেবে বা মন্ত্রী হিসেবে তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে না।”।

সরকার দলীয় চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজও এই একই মত সমর্থন করে বলছেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংসদ বলতে পারবে না যে তাঁর সংসদ সদস্যপদ নেই। কাজেই আইনি লড়াই শেষ হওয়ার পরই কেবল এর সিদ্ধান্ত দেয়া যেতে পারে।

আ স ম ফিরোজ বলেন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরি এখনও সংসদ সদস্য আছেন এবং মন্ত্রীসভাতেও আছেন।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

মাথার ওপর দণ্ড নিয়ে এমপি থাকা যায় না

আপডেট টাইম : ০৩:০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০১৫

ঢাকা: বাংলাদেশের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরি আদৌ আর সংসদ এবং মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন কিনা তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী খুরশিদ আলম বলেছেন, একটি দুর্নীতির মামলায় যেহেতু তাঁর বিরুদ্ধে সাজা বহাল রয়েছে, তাই তিনি আর সংসদ সদস্য থাকতে পারেন না।

উল্লেখ্য বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী নৈতিক স্খলন জনিত অপরাধে কেউ সাজা পেলে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা হারান।

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরির বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির মামলা ঘিরে এই বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা দায়ের করা হয় বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে।

অবৈধভাবে ছয় কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের এই মামলায় তাঁকে ২০০৮ সালে ১৩ বছরের দন্ড দেয়া হয়। হাইকোর্ট ২০১০ সালে রায়টি বাতিল করে। কিন্তু দুর্নীতি দমন কমিশনের এক আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ই জুন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় খারিজ করে দেয় এবং হাইকোর্টকে আপিলের পুনঃশুনানির নির্দেশ দেয়।

দুপক্ষের আইনজীবীরা এই রায়ের দুরকমের ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী খুরশিদ আলম বলছেন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরি যে আর সংসদ সদস্য থাকতে পারেন না, তা নিয়ে অস্পষ্টতার কোন অবকাশ নেই।

“বর্তমানে তিনি একটি ফৌজদারি আপিল মামলার জামিনপ্রাপ্ত আসামি, যার মাথার ওপর একটি দণ্ড ঝুলছে। কাজেই সেই অবস্থায় আমি মনে করি উনার সদস্যপদ আর থাকে না সংবিধানের ৬৬ (২) ঘ ধারা অনুযায়ী।”

কিন্তু এর সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করছেন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরির আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার। তিনি বলেন, “নৈতিকতার প্রশ্ন ভিন্ন। আমি এটিকে আইনের বিচারে দেখতে চাই। আপিল বিভাগ মামলাটিকে বিচার করে আবার পুনর্বিচারের জন্য পাঠিয়েছেন। বিচারিক আদালত তাঁকে যে সাজা দিয়েছিলেন সেই সাজা এখন পুনর্বিচার করা হচ্ছে। সুতরাং এটার চূড়ান্ত মীমাংসা এখনো হয়নি। তাই জনপ্রতিনিধি হিসেবে বা মন্ত্রী হিসেবে তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে না।”।

সরকার দলীয় চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজও এই একই মত সমর্থন করে বলছেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংসদ বলতে পারবে না যে তাঁর সংসদ সদস্যপদ নেই। কাজেই আইনি লড়াই শেষ হওয়ার পরই কেবল এর সিদ্ধান্ত দেয়া যেতে পারে।

আ স ম ফিরোজ বলেন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরি এখনও সংসদ সদস্য আছেন এবং মন্ত্রীসভাতেও আছেন।