পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন

দোয়ার অনুষ্ঠানে আটকদের ছাড়াতে গিয়ে ওলামালীগ নেতা আটক

সাতক্ষীরা: নাশকতার পরিকল্পনা হচ্ছিল দাবি করে সাতক্ষীরায় পারিবারিক দোয়ার অনুষ্ঠান থেকে ১৮ নারী-পুরুষকে আটক করেছে পুলিশ। আটকৃতদের মধ্যে ১৩ জন নারী ও পাঁচ জন পুরুষ। আটককৃত মহিলারা হলেন শহরের মাদ্রাসা পাড়ার ফজলুল হকের স্ত্রী তাহেরা খাতুন, কালিগঞ্জের রঘুনাথপুর গ্রামের আরশাদ আলির স্ত্রী জোবেদা খাতুন , সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের শহিদুলের স্ত্রী ফজিলা খাতুন , মাদ্রাসাপাড়ার ইলিয়াস আলির স্ত্রী সেলিনা খাতুন , রমজান আলির স্ত্রী রেশমা খাতুন , বাবুর স্ত্রী সানজিদা খাতুন , আবদুল জলিলের স্ত্রী সুফিয়া বেগম , টুটুলের স্ত্রী রেহেনা বেগম, মোকছেদ আলির স্ত্রী হাসিয়া খাতুন, আলাউদ্দিনের স্ত্রী সালমা বেগম ও আবদুল মতিনের স্ত্রী শাহিদা খাতুন । পুরুষদের মধ্যে রয়েছে বাড়ির মালিক আবুল হাসানের ভাই বাবলু, তাদের আত্মীয় কিয়ামুদ্দি ও লুৎফর রহমান। তাদেরকে আটকের পর ছাড়িয়ে আনতে থানায় তদবির করতে যান সাতক্ষীরা জেলা ওলামা লীগ নেতা, সাতক্ষীরা আলীয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি আখতারুজ্জামান এবং তার এক সঙ্গী। কিন্তু তদবির করতে যাওয়ায় তাদেরকে ও আটক করে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে শহরের পুরাতন সাতক্ষীরার আবুল হাসান গাজীর বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়।

এ বিষয়ে পুলিশ জানান, আটককৃতদের ছাড়িয়ে নিতে তিনি থানাকে চাপ প্রয়োগ করছিল।

বাড়ির মালিক আবুল হাসান জানান, প্রত্যেক বছরের ন্যায় এবারও রমজান মাসে তাদের আত্মীয় স্বজনের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বাড়িতে দোয়ার অনুষ্ঠান ছিল। সকাল থেকে পাড়ার কয়েকশ লোকজন দোয়ার অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। অনুষ্ঠান শেষে অনেকে চলে যায়। এসময় পুলিশ এসে বাড়ি ঘেরাও করে। পরে তাদের ১৬ আত্মীয় স্বজনকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ ।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক শেখ জানান, তারা নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন । তাদের কাছ থেকেই পাওয়া যায় ৪ টি ককটেল। এছাড়া সাংগঠনিক তৎপরতার কাগজপত্রও উদ্ধার করা হয় ।

তিনি আরো জানান, গোপন সূত্রে তার কাছে খবর আসে যে ‘মহিলা জামায়াতের একদল নারী কর্মী শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকার মাদ্রাসা পাড়ার ফজলুল হকের বাড়িতে গোপন মিটিংয়ে মিলিত হয়েছেন’।

তিনি জানান উপ-পরিদর্শক সেলিম রেজাসহ কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্যকে নিয়ে তিনি দ্রুত ওই বাড়ি ঘিরে ফেলেন । পরে তাদেরকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় জেলা ওলামালীগ নেতা সাতক্ষীরা আলীয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি আখতারুজ্জামান এর স্ত্রীসহ অর্ধশতাধিক নারী পুরুষের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মুফতি আখতারুজ্জামান বছর সাত পূর্বে জামায়াতের রোকন ছিলেন। পরে তিনি ওলামা লীগে যোগদান করেন। মাওলানা দেলওয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির দাবীতে রাজপথে মিছিল করেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মুফতি আখতারুজ্জামান জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।

এলাকাবাসী জানান, আবুল হাসানের বাড়ীতে ইফতার মাহফিল চলছিল। মাহফিল শেষ করে লোকজন চলে যাওয়ার সময় পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে , তবে সেখান থেকে ককটেল বা জামায়াতের কোন বইপত্র ছিল না। এসব পুলিশের আবিষ্কার।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

দোয়ার অনুষ্ঠানে আটকদের ছাড়াতে গিয়ে ওলামালীগ নেতা আটক

আপডেট টাইম : ০৪:৪৩:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০১৫

সাতক্ষীরা: নাশকতার পরিকল্পনা হচ্ছিল দাবি করে সাতক্ষীরায় পারিবারিক দোয়ার অনুষ্ঠান থেকে ১৮ নারী-পুরুষকে আটক করেছে পুলিশ। আটকৃতদের মধ্যে ১৩ জন নারী ও পাঁচ জন পুরুষ। আটককৃত মহিলারা হলেন শহরের মাদ্রাসা পাড়ার ফজলুল হকের স্ত্রী তাহেরা খাতুন, কালিগঞ্জের রঘুনাথপুর গ্রামের আরশাদ আলির স্ত্রী জোবেদা খাতুন , সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের শহিদুলের স্ত্রী ফজিলা খাতুন , মাদ্রাসাপাড়ার ইলিয়াস আলির স্ত্রী সেলিনা খাতুন , রমজান আলির স্ত্রী রেশমা খাতুন , বাবুর স্ত্রী সানজিদা খাতুন , আবদুল জলিলের স্ত্রী সুফিয়া বেগম , টুটুলের স্ত্রী রেহেনা বেগম, মোকছেদ আলির স্ত্রী হাসিয়া খাতুন, আলাউদ্দিনের স্ত্রী সালমা বেগম ও আবদুল মতিনের স্ত্রী শাহিদা খাতুন । পুরুষদের মধ্যে রয়েছে বাড়ির মালিক আবুল হাসানের ভাই বাবলু, তাদের আত্মীয় কিয়ামুদ্দি ও লুৎফর রহমান। তাদেরকে আটকের পর ছাড়িয়ে আনতে থানায় তদবির করতে যান সাতক্ষীরা জেলা ওলামা লীগ নেতা, সাতক্ষীরা আলীয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি আখতারুজ্জামান এবং তার এক সঙ্গী। কিন্তু তদবির করতে যাওয়ায় তাদেরকে ও আটক করে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে শহরের পুরাতন সাতক্ষীরার আবুল হাসান গাজীর বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়।

এ বিষয়ে পুলিশ জানান, আটককৃতদের ছাড়িয়ে নিতে তিনি থানাকে চাপ প্রয়োগ করছিল।

বাড়ির মালিক আবুল হাসান জানান, প্রত্যেক বছরের ন্যায় এবারও রমজান মাসে তাদের আত্মীয় স্বজনের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বাড়িতে দোয়ার অনুষ্ঠান ছিল। সকাল থেকে পাড়ার কয়েকশ লোকজন দোয়ার অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। অনুষ্ঠান শেষে অনেকে চলে যায়। এসময় পুলিশ এসে বাড়ি ঘেরাও করে। পরে তাদের ১৬ আত্মীয় স্বজনকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ ।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক শেখ জানান, তারা নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন । তাদের কাছ থেকেই পাওয়া যায় ৪ টি ককটেল। এছাড়া সাংগঠনিক তৎপরতার কাগজপত্রও উদ্ধার করা হয় ।

তিনি আরো জানান, গোপন সূত্রে তার কাছে খবর আসে যে ‘মহিলা জামায়াতের একদল নারী কর্মী শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকার মাদ্রাসা পাড়ার ফজলুল হকের বাড়িতে গোপন মিটিংয়ে মিলিত হয়েছেন’।

তিনি জানান উপ-পরিদর্শক সেলিম রেজাসহ কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্যকে নিয়ে তিনি দ্রুত ওই বাড়ি ঘিরে ফেলেন । পরে তাদেরকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় জেলা ওলামালীগ নেতা সাতক্ষীরা আলীয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি আখতারুজ্জামান এর স্ত্রীসহ অর্ধশতাধিক নারী পুরুষের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মুফতি আখতারুজ্জামান বছর সাত পূর্বে জামায়াতের রোকন ছিলেন। পরে তিনি ওলামা লীগে যোগদান করেন। মাওলানা দেলওয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির দাবীতে রাজপথে মিছিল করেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মুফতি আখতারুজ্জামান জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।

এলাকাবাসী জানান, আবুল হাসানের বাড়ীতে ইফতার মাহফিল চলছিল। মাহফিল শেষ করে লোকজন চলে যাওয়ার সময় পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে , তবে সেখান থেকে ককটেল বা জামায়াতের কোন বইপত্র ছিল না। এসব পুলিশের আবিষ্কার।