পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

সুনামগঞ্জের সুরমা সেতু: ‘জলে গেলো’ সরকারের ৮ কোটি টাকা!

সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের শিল্পনগরী খ্যাত ছাতক পৌরসভা অধীনস্থ সুরমা নদীর উপর সেতু নির্মাণকাজ থেমে গেছে অনেক আগেই। ২০০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে উপজেলাবাসীর স্বপ্নের এই সেতুর নির্মাণকাজ তিন বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

জানা গেছে, প্রথম বছরে ধুম ধারাক্কাভাবে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুর চারটি পিলার নির্মাণকাজ শেষেই অদৃশ্য কারণে বন্ধ হয়ে পড়ে। যা দীর্ঘ ৮ বছর পরেও আর শুরু হয়নি। নির্মিত এই চারটি পিলার মানুষের কোনো কাজে না আসায় কেবল জলে গেলো ৮ কোটি টাকা। এ যেনো সরকারি মাল, দরিয়ামে ঢাল। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্মাণকাজ শেষ করতে ৫১ কোটি টাকার একটি সংশোধিত প্রকল্প যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। অনুমোদন হলে আবার কাজ শুরু হবে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, অপরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করায় এই সেতুর ভবিষ্যৎ আজ অন্ধকারে। সংযোগ সড়ক তৈরির সুযোগ না থাকায় সেতুটির কাজ আর নাও হতে পারে বলে শঙ্কা তাদের মনে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) সুনামগঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ছাতকের সঙ্গে দোয়ারাবাজার উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ছাতক পৌর শহরের বাজনামহল এলাকায় সুরমা নদীর ওপর ২০০৪ সালে এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই বছরের ২৩ শে আগষ্ট ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এরপর সরকারের একটি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০০৭ সালে তত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেতুর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর কোনো কাজ হয়নি। সওজ সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আমিন জানান, ৩০ ভাগ সেতুর কাজ হওয়ার পর ২০১০ সালে অসমাপ্ত কাজ শেষ করার জন্য ৫১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু এর কোনো অগ্রগতি নেই। প্রকল্পটি অনুমোদিত না হলে সেতুর কাজ আর নাও হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন তিনি।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

সুনামগঞ্জের সুরমা সেতু: ‘জলে গেলো’ সরকারের ৮ কোটি টাকা!

আপডেট টাইম : ০৪:৪৭:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০১৫

সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের শিল্পনগরী খ্যাত ছাতক পৌরসভা অধীনস্থ সুরমা নদীর উপর সেতু নির্মাণকাজ থেমে গেছে অনেক আগেই। ২০০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে উপজেলাবাসীর স্বপ্নের এই সেতুর নির্মাণকাজ তিন বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

জানা গেছে, প্রথম বছরে ধুম ধারাক্কাভাবে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুর চারটি পিলার নির্মাণকাজ শেষেই অদৃশ্য কারণে বন্ধ হয়ে পড়ে। যা দীর্ঘ ৮ বছর পরেও আর শুরু হয়নি। নির্মিত এই চারটি পিলার মানুষের কোনো কাজে না আসায় কেবল জলে গেলো ৮ কোটি টাকা। এ যেনো সরকারি মাল, দরিয়ামে ঢাল। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্মাণকাজ শেষ করতে ৫১ কোটি টাকার একটি সংশোধিত প্রকল্প যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। অনুমোদন হলে আবার কাজ শুরু হবে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, অপরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করায় এই সেতুর ভবিষ্যৎ আজ অন্ধকারে। সংযোগ সড়ক তৈরির সুযোগ না থাকায় সেতুটির কাজ আর নাও হতে পারে বলে শঙ্কা তাদের মনে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) সুনামগঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ছাতকের সঙ্গে দোয়ারাবাজার উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ছাতক পৌর শহরের বাজনামহল এলাকায় সুরমা নদীর ওপর ২০০৪ সালে এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই বছরের ২৩ শে আগষ্ট ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এরপর সরকারের একটি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০০৭ সালে তত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেতুর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর কোনো কাজ হয়নি। সওজ সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আমিন জানান, ৩০ ভাগ সেতুর কাজ হওয়ার পর ২০১০ সালে অসমাপ্ত কাজ শেষ করার জন্য ৫১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু এর কোনো অগ্রগতি নেই। প্রকল্পটি অনুমোদিত না হলে সেতুর কাজ আর নাও হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন তিনি।