অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন

এমপি পদ বাতিলে ইসিকে আওয়ামী লীগের চিঠি

ঢাকা : আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য ও সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ বাতিলের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে সুপারিশ করেছে আওয়ামী লীগ।

আজ রোববার আওয়ামী লীগের পক্ষে থেকে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো এক চিঠিতে এ সুপারিশ করা হয়। নির্বাচন কমিশনে পাঠানো এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

আজ দুপুরে আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক ও সংসদ সদস্য এডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস নির্বাচন কমিশনে গিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদকের চিঠিটি পৌঁছে দেন। নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম চিঠিটি গ্রহণ করেন। এ সময় মৃণাল কান্তি দাসের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এবিএম রিয়াজুল কবীর কাওসার।

কমিশনে চিঠি দিয়ে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মৃণাল কান্তি দাস। এসময় তিনি বলেন, লতিফ সিদ্দিকী এখন আওয়ামী লীগের কেউ নন। দলের সাধারণ সম্পাদকের চিঠি সম্পর্কে তিনি বলেন, ওই চিঠিতে লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ বাতিলের অনুরোধ করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী গত ২৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.), পবিত্র হজ ও তাবলিগ জামায়াত সম্পর্কে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দেন। তাঁর এই বক্তব্য বাংলাদেশ ও বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে। যে কারণে ২৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় লতিফ সিদ্দিকীকে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইনে বলা হয়েছে, প্রার্থী মানে দল কর্তৃক মনোনীত বা স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ব্যক্তি। অর্থাৎ রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীর স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নির্বাচনের আগে ও পরে নেই। দলের সকল পদ থেকে বহিষ্কার হওয়ায় বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের কেউ নন। যে কারণে তিনি সংসদ সদস্যপদে থাকার আইনগত অধিকার হারিয়েছেন। তাই সংবিধানের ৬৬ (৪) অনুচ্ছেদ, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২ (১) ধারা এবং সংসদের কার্যপ্রণালীর ১৭৮ বিধি অনুযায়ী লতিফ সিদ্দিকীর সদস্যপদ বাতিলের অনুরোধ করছি।

গত ১৩ জুলাই লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ বাতিলের জন্য জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে চিঠি দেন দলটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ওই চিঠিতে বলা হয়, ২০১৪ সালের ২৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় গঠনতন্ত্র অনুসারে লতিফ সিদ্দিকীকে দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়। যেহেতু তার আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদও নেই, সেহেতু এই দলের মনোনয়নে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য পদে তাঁকে বহাল রাখা সমীচীন হবে না। এরপর লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদকে চিঠি দেন স্পিকার। ওই চিঠির সঙ্গে সৈয়দ আশরাফের চিঠিটিও যুক্ত করেন স্পিকার।

চিঠিটি পাওয়ার পর ইসি আওয়ামী লীগ ও লতিফ সিদ্দিকীর কাছে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে। ইসির দেওয়া সময় অনুসারে আজ রোববার শেষ দিনেই ব্যাখ্যা দিয়ে কমিশনে চিঠি পাঠাল আওয়ামী লীগ। এর আগে নির্বাচন কমিশন থেকে চাওয়া বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন লতিফ সিদ্দিকীও।

গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে পবিত্র হজ ও তাবলিগ জামায়াত এবং প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় মন্ত্রিসভা ও দল থেকে অপসারিত হন লতিফ সিদ্দিকী। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের ১৮টি জেলায় অন্তত ২২টি মামলা হয়। দেশে ফিরে আসার পর গত বছরের ২৫ নভেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানো হয়। হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে গত ২৯ জুন কারাগার থেকে ছাড়া পান তিনি।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

এমপি পদ বাতিলে ইসিকে আওয়ামী লীগের চিঠি

আপডেট টাইম : ০৩:০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০১৫

ঢাকা : আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য ও সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ বাতিলের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে সুপারিশ করেছে আওয়ামী লীগ।

আজ রোববার আওয়ামী লীগের পক্ষে থেকে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো এক চিঠিতে এ সুপারিশ করা হয়। নির্বাচন কমিশনে পাঠানো এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

আজ দুপুরে আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক ও সংসদ সদস্য এডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস নির্বাচন কমিশনে গিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদকের চিঠিটি পৌঁছে দেন। নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম চিঠিটি গ্রহণ করেন। এ সময় মৃণাল কান্তি দাসের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এবিএম রিয়াজুল কবীর কাওসার।

কমিশনে চিঠি দিয়ে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মৃণাল কান্তি দাস। এসময় তিনি বলেন, লতিফ সিদ্দিকী এখন আওয়ামী লীগের কেউ নন। দলের সাধারণ সম্পাদকের চিঠি সম্পর্কে তিনি বলেন, ওই চিঠিতে লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ বাতিলের অনুরোধ করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী গত ২৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.), পবিত্র হজ ও তাবলিগ জামায়াত সম্পর্কে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দেন। তাঁর এই বক্তব্য বাংলাদেশ ও বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে। যে কারণে ২৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় লতিফ সিদ্দিকীকে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইনে বলা হয়েছে, প্রার্থী মানে দল কর্তৃক মনোনীত বা স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ব্যক্তি। অর্থাৎ রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীর স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নির্বাচনের আগে ও পরে নেই। দলের সকল পদ থেকে বহিষ্কার হওয়ায় বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের কেউ নন। যে কারণে তিনি সংসদ সদস্যপদে থাকার আইনগত অধিকার হারিয়েছেন। তাই সংবিধানের ৬৬ (৪) অনুচ্ছেদ, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২ (১) ধারা এবং সংসদের কার্যপ্রণালীর ১৭৮ বিধি অনুযায়ী লতিফ সিদ্দিকীর সদস্যপদ বাতিলের অনুরোধ করছি।

গত ১৩ জুলাই লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ বাতিলের জন্য জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে চিঠি দেন দলটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ওই চিঠিতে বলা হয়, ২০১৪ সালের ২৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় গঠনতন্ত্র অনুসারে লতিফ সিদ্দিকীকে দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়। যেহেতু তার আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদও নেই, সেহেতু এই দলের মনোনয়নে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য পদে তাঁকে বহাল রাখা সমীচীন হবে না। এরপর লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদকে চিঠি দেন স্পিকার। ওই চিঠির সঙ্গে সৈয়দ আশরাফের চিঠিটিও যুক্ত করেন স্পিকার।

চিঠিটি পাওয়ার পর ইসি আওয়ামী লীগ ও লতিফ সিদ্দিকীর কাছে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে। ইসির দেওয়া সময় অনুসারে আজ রোববার শেষ দিনেই ব্যাখ্যা দিয়ে কমিশনে চিঠি পাঠাল আওয়ামী লীগ। এর আগে নির্বাচন কমিশন থেকে চাওয়া বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন লতিফ সিদ্দিকীও।

গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে পবিত্র হজ ও তাবলিগ জামায়াত এবং প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় মন্ত্রিসভা ও দল থেকে অপসারিত হন লতিফ সিদ্দিকী। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের ১৮টি জেলায় অন্তত ২২টি মামলা হয়। দেশে ফিরে আসার পর গত বছরের ২৫ নভেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানো হয়। হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে গত ২৯ জুন কারাগার থেকে ছাড়া পান তিনি।