পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

রাজধানী সুপার মার্কেট কাউন্সিলরের চাঁদাবাজি, আট ব্যবসায়ীর জিডি

ঢাকা: রাজধানীর টিকাটুলীতে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের নেতা ময়নুল হক মনজুরের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে আট ব্যবসায়ী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

গত বুধবার রাতে রাজধানী ও নিউ রাজধানী সুপার মার্কেটের এই ব্যবসায়ীরা জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ওয়ারী থানায় পৃথক জিডি করেন।

ময়নুল হক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির এক নম্বর সদস্য। তিনি নিজেকে ওই মার্কেটের দোকান মালিক সমিতির সভাপতি বলে দাবি করে আসছেন। এই মার্কেটে ১ হাজার ৭৮৮টি দোকান রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের জিডি করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তপন কুমার সাহা।

বৃহস্পতিবার রাতে তিনি বলেন, এসব জিডির তদন্ত করার জন্য আদালতের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। অনুমতি মিললে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ব্যবসায়ীদের করা পৃথক জিডিতে বলা হয়েছে, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ময়নুল হক রাজধানী ও নিউ রাজধানী সুপার মার্কেট দোকান মালিক সমিতির অবৈধ সভাপতি। তিনি সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে চার বছর ধরে বিভিন্ন অজুহাতে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করে আসছেন। সন্ত্রাসীদের ভয়ে নিরীহ ব্যবসায়ীরা নীরবে চাঁদা দিয়ে আসছেন। ব্যবসায়ীরা ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না। কিন্তু তাঁর চাঁদাবাজি ও জুলুমের মাত্রা অসহনীয় হয়ে পড়লে ব্যবসায়ীরা সম্প্রতি বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ করা শুরু করেন।

পাঁচজন ব্যবসায়ী তাঁদের জিডিতে বলেছেন, ২২ আগস্ট দুপুরে ময়নুল হক নিজে মার্কেটের সামনে গিয়ে ব্যবসায়ীদের হুমকি দেন। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিসাধন ও ব্যবসা করতে দেবেন না বলেও ভয়-ভীতি দেখান।

প্রতিবাদকারী ব্যবসায়ীদের সমিতির কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে কাউন্সিলর ময়নুল শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন বলে একজন ব্যবসায়ী তাঁর জিডিতে উল্লেখ করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল রাতে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ময়নুল হক বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের করা অভিযোগ মিথ্যা। এর আগে র্যাব মার্কেটে অভিযান চালানোর কারণে ব্যবসায়ীরা ভয় পেয়েছেন। র্যাবের ভয়ে ব্যবসায়ীরা তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করছেন। তাঁর দাবি, মার্কেটের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে রসিদ দিয়ে সার্ভিস চার্জ নেন তিনি। তিনি মার্কেট কমিটির সভাপতি হয়েছেন, এটা একশ্রেণির ব্যবসায়ী মেনে নিতে পারেন না।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৮ জুলাই মধ্যরাতে র্যাব-১০-এর একটি দল রাজধানী ও নিউ রাজধানী সুপার মার্কেটে চাঁদাবাজির সময় হাতেনাতে ১১ জনকে আটক করে। কিন্তু রাজনৈতিক চাপে তাঁদের মধ্যে যুবলীগের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমকে ছেড়ে দেয় র‌্যাব। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১০ নেতা-কর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠান। গত সোমবার তাঁদের সাজার মেয়াদ শেষ হয়।

অবশ্য চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা পেয়ে রেজাউল করিমকে সংগঠন থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। সাজা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সানাউল করিম ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও সরকারি কবি নজরুল কলেজের ছাত্র। তিনি রেজাউল করিমের ছোট ভাই।

গতকাল মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, ব্যবসায়ীরা চলতি মাসের প্রথম দিকে আওয়ামী লীগের নেতা ময়নুল ও যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা রেজাউলের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র‌্যাব সদর দপ্তর, র‌্যাব-৩ ও র‌্যাব-১০-এর পরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করেন। কিন্তু প্রতিকার পাননি। পরে তাঁরা থানায় জিডি করেন।

রাতে জানতে চাইলে র‌্যাব-১০-এর পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর বলেন, রাজধানী সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীদের করা চাঁদাবাজির অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। এসবের তদন্ত চলছে। জিডি করার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের থানায় মামলা করতে হবে। র‌্যাবব চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে পুলিশের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেবে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

রাজধানী সুপার মার্কেট কাউন্সিলরের চাঁদাবাজি, আট ব্যবসায়ীর জিডি

আপডেট টাইম : ০২:৩৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০১৫

ঢাকা: রাজধানীর টিকাটুলীতে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের নেতা ময়নুল হক মনজুরের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে আট ব্যবসায়ী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

গত বুধবার রাতে রাজধানী ও নিউ রাজধানী সুপার মার্কেটের এই ব্যবসায়ীরা জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ওয়ারী থানায় পৃথক জিডি করেন।

ময়নুল হক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির এক নম্বর সদস্য। তিনি নিজেকে ওই মার্কেটের দোকান মালিক সমিতির সভাপতি বলে দাবি করে আসছেন। এই মার্কেটে ১ হাজার ৭৮৮টি দোকান রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের জিডি করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তপন কুমার সাহা।

বৃহস্পতিবার রাতে তিনি বলেন, এসব জিডির তদন্ত করার জন্য আদালতের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। অনুমতি মিললে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ব্যবসায়ীদের করা পৃথক জিডিতে বলা হয়েছে, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ময়নুল হক রাজধানী ও নিউ রাজধানী সুপার মার্কেট দোকান মালিক সমিতির অবৈধ সভাপতি। তিনি সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে চার বছর ধরে বিভিন্ন অজুহাতে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করে আসছেন। সন্ত্রাসীদের ভয়ে নিরীহ ব্যবসায়ীরা নীরবে চাঁদা দিয়ে আসছেন। ব্যবসায়ীরা ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না। কিন্তু তাঁর চাঁদাবাজি ও জুলুমের মাত্রা অসহনীয় হয়ে পড়লে ব্যবসায়ীরা সম্প্রতি বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ করা শুরু করেন।

পাঁচজন ব্যবসায়ী তাঁদের জিডিতে বলেছেন, ২২ আগস্ট দুপুরে ময়নুল হক নিজে মার্কেটের সামনে গিয়ে ব্যবসায়ীদের হুমকি দেন। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিসাধন ও ব্যবসা করতে দেবেন না বলেও ভয়-ভীতি দেখান।

প্রতিবাদকারী ব্যবসায়ীদের সমিতির কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে কাউন্সিলর ময়নুল শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন বলে একজন ব্যবসায়ী তাঁর জিডিতে উল্লেখ করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল রাতে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ময়নুল হক বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের করা অভিযোগ মিথ্যা। এর আগে র্যাব মার্কেটে অভিযান চালানোর কারণে ব্যবসায়ীরা ভয় পেয়েছেন। র্যাবের ভয়ে ব্যবসায়ীরা তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করছেন। তাঁর দাবি, মার্কেটের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে রসিদ দিয়ে সার্ভিস চার্জ নেন তিনি। তিনি মার্কেট কমিটির সভাপতি হয়েছেন, এটা একশ্রেণির ব্যবসায়ী মেনে নিতে পারেন না।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৮ জুলাই মধ্যরাতে র্যাব-১০-এর একটি দল রাজধানী ও নিউ রাজধানী সুপার মার্কেটে চাঁদাবাজির সময় হাতেনাতে ১১ জনকে আটক করে। কিন্তু রাজনৈতিক চাপে তাঁদের মধ্যে যুবলীগের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমকে ছেড়ে দেয় র‌্যাব। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১০ নেতা-কর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠান। গত সোমবার তাঁদের সাজার মেয়াদ শেষ হয়।

অবশ্য চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা পেয়ে রেজাউল করিমকে সংগঠন থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। সাজা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সানাউল করিম ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও সরকারি কবি নজরুল কলেজের ছাত্র। তিনি রেজাউল করিমের ছোট ভাই।

গতকাল মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, ব্যবসায়ীরা চলতি মাসের প্রথম দিকে আওয়ামী লীগের নেতা ময়নুল ও যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা রেজাউলের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র‌্যাব সদর দপ্তর, র‌্যাব-৩ ও র‌্যাব-১০-এর পরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করেন। কিন্তু প্রতিকার পাননি। পরে তাঁরা থানায় জিডি করেন।

রাতে জানতে চাইলে র‌্যাব-১০-এর পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর বলেন, রাজধানী সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীদের করা চাঁদাবাজির অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। এসবের তদন্ত চলছে। জিডি করার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের থানায় মামলা করতে হবে। র‌্যাবব চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে পুলিশের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেবে।