পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে দবির উদ্দিন চিকিৎসা সহায়তা ফাউন্ডেশনের নগদ সহায়তা প্রদান Logo পাটগ্রামে ইহসান ইয়ুথ সার্কেলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি Logo কায়েতপাড়ায় বসতভিটা রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের মানুষের থানায় গণঅভিযোগ Logo পাটগ্রামে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলা, নারীসহ আহত ৪ Logo পাটগ্রামে রাস্তা ভেঙে চলাচল বন্ধ প্রায় দুই হাজার পরিবারের চলাচলে দুর্ভোগ Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই

লাখো মুসল্লির অপেক্ষায় শোলাকিয়া: জামাত সকাল ৯টায়

কিশোরগঞ্জ: লাখো মুসল্লির অপেক্ষায় প্রস্তুত হয়ে সেজেছে উপ-মহাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদগাহ ময়দান শোলাকিয়া। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেও ঈদ-উল-আজহার জামাতের জন্য এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠ বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। এবছর ১৮৮তম ঈদ-উল-আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

শোলাকিয়া ঈদগাহ কমিটি সূত্রে জানা গেছে, এবার ঈদের জামাত শুরু হবে সকাল ৯টায়। এ মাঠের ইমাম আলেম মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ এবছর হজে যাবার কারণে তার পরিবর্তে এবার ইমামতি করবেন মাওলানা হিফজুর রহমান খান।

সুষ্ঠুভাবে জামাত অনুষ্ঠানের জন্য একাধিকবার আয়োজকরা সভায় বসেছেন। মাঠ পরিচালনা কমিটি ও জেলা প্রশাসন বেশ কয়েকবার মাঠ পরিদর্শন করেছেন। ইতোমধ্যে মাঠে পানি সরবরাহসহ মাঠে জমে থাকা বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা দ্রুতগতিতে সম্পূর্ণ এবং মাঠজুড়ে কাতারের লাইন টানা, মাঠ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, ধোয়া-মোছা ও রংয়ের প্রলেপ দেওয়া শেষ করে মাঠকে নামাজের উপযোগী করে তোলার সব প্রস্তুতি শেষ। এখন শুধু চলছে রাতের সাজ-সজ্জার লাইটিংয়ের কাজ।

এদিকে দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিদের আগমনের সুবিধার্থে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ঈদের দিন দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে। এর মধ্যে একটি ট্রেন ভৈরব থেকে সকাল ৬টায় ছেড়ে সকাল ৮টায় পৌঁছবে। আর কিশোরগঞ্জ থেকে বেলা ১২টায় ফিরতি ট্রেনটি ভৈরব পৌঁছাবে দুপুর ২টায়। অপর ট্রেনটি ভোর পৌনে ৬টায় ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে কিশোরগঞ্জ পৌঁছবে সকাল ৮টায়।

অপরদিকে দিকে মুসল্লিদের চিকিৎসার সুবিধার্থে জেলা সিভিল সার্জন অফিস ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে কয়েকটি অস্থায়ী মেডিকেল টিম ঈদগাহ মাঠের আশপাশে মোতায়েনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাছাড়া ঈদকে সামনে রেখে ঈদগাহ মাঠের আশপাশে ও শহরের প্রধান প্রধান সড়কের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়ে তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে।

এ মাঠে জামাতে শরীক হওয়া বিপুলসংখ্যক মুসল্লির দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নামাজ শুরুর ৫ মিনিট পূর্বে ৩টি, ৩ মিনিট পূর্বে ২টি ও ১ মিনিট পূর্বে ১টি শটগানের গুলি ছোঁড়া হবে।

জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি জিএসএম জাফর উল্লাহ জানান, টানা বৃষ্টির ফাঁকে ফাঁকে মাঠে কাজ ও জামাতের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। বৈরি আবহাওয়া থাকলেও মুসল্লিদের নামাজের সুবিধার্থে মাঠে পানি নিষ্কাশনসহ অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে কাজের কিছুটা বেঘাত ঘটলেও এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুতির কাজ শেষ হয়ে গেছে।

এদিকে পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন খান জানান, মুসল্লিদের নির্বিঘেœ নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠ ও এর বাইরে অবস্থায় করবে। মাঠের চার পাশে ২০টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। মাঠের প্রবেশ পথে মুসল্লিদের দেহ তল্লাশিসহ বিভিন্ন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, শোলাকিয়া মাঠের ঈদের জামাত কিশোরগঞ্জকে সারাদেশ ও বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছে। মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর ৬ষ্ঠ বংশধর দেওয়ান মান্নান দাদ খান ১৮২৮ সালে জেলা শহরের পূর্বপ্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় ৭ একর জমির উপর এ ঈদগাহ প্রতিষ্ঠা করেন।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে দবির উদ্দিন চিকিৎসা সহায়তা ফাউন্ডেশনের নগদ সহায়তা প্রদান

লাখো মুসল্লির অপেক্ষায় শোলাকিয়া: জামাত সকাল ৯টায়

আপডেট টাইম : ০৬:২৬:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫

কিশোরগঞ্জ: লাখো মুসল্লির অপেক্ষায় প্রস্তুত হয়ে সেজেছে উপ-মহাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদগাহ ময়দান শোলাকিয়া। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেও ঈদ-উল-আজহার জামাতের জন্য এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠ বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। এবছর ১৮৮তম ঈদ-উল-আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

শোলাকিয়া ঈদগাহ কমিটি সূত্রে জানা গেছে, এবার ঈদের জামাত শুরু হবে সকাল ৯টায়। এ মাঠের ইমাম আলেম মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ এবছর হজে যাবার কারণে তার পরিবর্তে এবার ইমামতি করবেন মাওলানা হিফজুর রহমান খান।

সুষ্ঠুভাবে জামাত অনুষ্ঠানের জন্য একাধিকবার আয়োজকরা সভায় বসেছেন। মাঠ পরিচালনা কমিটি ও জেলা প্রশাসন বেশ কয়েকবার মাঠ পরিদর্শন করেছেন। ইতোমধ্যে মাঠে পানি সরবরাহসহ মাঠে জমে থাকা বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা দ্রুতগতিতে সম্পূর্ণ এবং মাঠজুড়ে কাতারের লাইন টানা, মাঠ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, ধোয়া-মোছা ও রংয়ের প্রলেপ দেওয়া শেষ করে মাঠকে নামাজের উপযোগী করে তোলার সব প্রস্তুতি শেষ। এখন শুধু চলছে রাতের সাজ-সজ্জার লাইটিংয়ের কাজ।

এদিকে দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিদের আগমনের সুবিধার্থে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ঈদের দিন দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে। এর মধ্যে একটি ট্রেন ভৈরব থেকে সকাল ৬টায় ছেড়ে সকাল ৮টায় পৌঁছবে। আর কিশোরগঞ্জ থেকে বেলা ১২টায় ফিরতি ট্রেনটি ভৈরব পৌঁছাবে দুপুর ২টায়। অপর ট্রেনটি ভোর পৌনে ৬টায় ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে কিশোরগঞ্জ পৌঁছবে সকাল ৮টায়।

অপরদিকে দিকে মুসল্লিদের চিকিৎসার সুবিধার্থে জেলা সিভিল সার্জন অফিস ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে কয়েকটি অস্থায়ী মেডিকেল টিম ঈদগাহ মাঠের আশপাশে মোতায়েনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাছাড়া ঈদকে সামনে রেখে ঈদগাহ মাঠের আশপাশে ও শহরের প্রধান প্রধান সড়কের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়ে তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে।

এ মাঠে জামাতে শরীক হওয়া বিপুলসংখ্যক মুসল্লির দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নামাজ শুরুর ৫ মিনিট পূর্বে ৩টি, ৩ মিনিট পূর্বে ২টি ও ১ মিনিট পূর্বে ১টি শটগানের গুলি ছোঁড়া হবে।

জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি জিএসএম জাফর উল্লাহ জানান, টানা বৃষ্টির ফাঁকে ফাঁকে মাঠে কাজ ও জামাতের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। বৈরি আবহাওয়া থাকলেও মুসল্লিদের নামাজের সুবিধার্থে মাঠে পানি নিষ্কাশনসহ অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে কাজের কিছুটা বেঘাত ঘটলেও এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুতির কাজ শেষ হয়ে গেছে।

এদিকে পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন খান জানান, মুসল্লিদের নির্বিঘেœ নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠ ও এর বাইরে অবস্থায় করবে। মাঠের চার পাশে ২০টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। মাঠের প্রবেশ পথে মুসল্লিদের দেহ তল্লাশিসহ বিভিন্ন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, শোলাকিয়া মাঠের ঈদের জামাত কিশোরগঞ্জকে সারাদেশ ও বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছে। মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর ৬ষ্ঠ বংশধর দেওয়ান মান্নান দাদ খান ১৮২৮ সালে জেলা শহরের পূর্বপ্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় ৭ একর জমির উপর এ ঈদগাহ প্রতিষ্ঠা করেন।