পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

হোসনী দালানে নিহত কিশোর সানজু শিয়া নয়, সুন্নি

ঢাকা: রাজধানীর হোসনী দালানে তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলায় নিহত কিশোর সাজ্জাদ হোসেন সানজু শিয়া নয়, সুন্নি।

সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত ১৫বছর বয়সী সানজু। তার সহপাঠী, শিক্ষক ও পাড়া প্রতিবেশীরা রোববারও সমবেদনা জানাতে বাডড়তে এসে ভিড় করেছেন। তার পরিবারের সদস্যরা বলছেন, হোসনী দালানের ভেতরে এমন ঘটনা বাংলাদেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। এর সাথে জড়িতদের বিচার না হলে তা হবে সরকারের ব্যর্থতা।

কর্তৃপক্ষ তাদের হয়রানি করছে বলেও অভিযোগ করেছেন, নিহত সাজ্জাদ হোসেন সানজুর পরিবার। ঢাকা জেলার কেরানিগঞ্জের শুভাঢ্যা এলাকায় তাদের বাড়ি।

তার মা রাশেদা জানান, পাঁচ ভাই দু‘বোনের মধ্যে ছোট সানজু। ক্রিকেট খেলা নিয়ে খুব আগ্রহী ছিল সে।

স্থানীয় চরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল। স্কুল ছুটির কারণেই সে তাজিয়ার মিছিলে যাবার ব্যাপারে খুব ইচ্ছা প্রকাশ করছিল। বোমা হামলার ঘটনায় এই পরিবারের আরো তিন জন আহত হয়েছেন। সানজুর ভাবি সুমি বেগম তাদের একজন।

তিনি বলেন, ঘটনার পর সানজুকে নিয়ে যখন হাসপাতালে ছুটছিলেন, তখন কারো সাহায্য পাননি তারা। মাত্র কদিন আগেই তোলা সানজুর একটি ফটোগ্রাফ হাতে নিয়ে ঘরের এক কোনায় বসে ছিলেন বাবা মোহাম্মদ নাসির। সেটি সবাইকে দেখাচ্ছিলেন তিনি।

নাসির বলছিলেন, তারা সুন্নি মুসলিম হলেও শিয়া সম্প্রদায়ের এই আয়োজনে নিয়মিত অংশ নিতেন।হোসেইনী দালানের ভেতরে ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজনে এমন ঘটনাকে বাংলাদেশের জন্য এক দুর্ভাগ্য বলে অভিহিত করেন মোহাম্মদ নাসির। আর এ ঘটনার সাথে জড়িতদের ধরে বিচারের আওতায় না আনা গেলে তা হবে সরকারের ব্যর্থতা।

ঘটনার পর থেকেই বারবার পুলিশ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ডাক পড়ছে এই পরিবারের সদস্যদের। নাসির বলেন, কর্তৃপক্ষের কেউ এখনো আসেননি তার বাড়িতে, বরং তাদেরকেই বারবার ডাকা হচ্ছে। অনেক রাত অবধি থানায় বসিয়ে রাখা হয়েছে।

এই বিষয়টিকে শোক সন্তপ্ত একটি পরিবারের জন্য চরম এক হয়রানি বলেও মনে করছেন তিনি। তবে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখন কিছুই চান না সাজ্জাদ হোসেন সানজুর পরিবার।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

হোসনী দালানে নিহত কিশোর সানজু শিয়া নয়, সুন্নি

আপডেট টাইম : ০৫:৪৪:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৫

ঢাকা: রাজধানীর হোসনী দালানে তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলায় নিহত কিশোর সাজ্জাদ হোসেন সানজু শিয়া নয়, সুন্নি।

সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত ১৫বছর বয়সী সানজু। তার সহপাঠী, শিক্ষক ও পাড়া প্রতিবেশীরা রোববারও সমবেদনা জানাতে বাডড়তে এসে ভিড় করেছেন। তার পরিবারের সদস্যরা বলছেন, হোসনী দালানের ভেতরে এমন ঘটনা বাংলাদেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। এর সাথে জড়িতদের বিচার না হলে তা হবে সরকারের ব্যর্থতা।

কর্তৃপক্ষ তাদের হয়রানি করছে বলেও অভিযোগ করেছেন, নিহত সাজ্জাদ হোসেন সানজুর পরিবার। ঢাকা জেলার কেরানিগঞ্জের শুভাঢ্যা এলাকায় তাদের বাড়ি।

তার মা রাশেদা জানান, পাঁচ ভাই দু‘বোনের মধ্যে ছোট সানজু। ক্রিকেট খেলা নিয়ে খুব আগ্রহী ছিল সে।

স্থানীয় চরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল। স্কুল ছুটির কারণেই সে তাজিয়ার মিছিলে যাবার ব্যাপারে খুব ইচ্ছা প্রকাশ করছিল। বোমা হামলার ঘটনায় এই পরিবারের আরো তিন জন আহত হয়েছেন। সানজুর ভাবি সুমি বেগম তাদের একজন।

তিনি বলেন, ঘটনার পর সানজুকে নিয়ে যখন হাসপাতালে ছুটছিলেন, তখন কারো সাহায্য পাননি তারা। মাত্র কদিন আগেই তোলা সানজুর একটি ফটোগ্রাফ হাতে নিয়ে ঘরের এক কোনায় বসে ছিলেন বাবা মোহাম্মদ নাসির। সেটি সবাইকে দেখাচ্ছিলেন তিনি।

নাসির বলছিলেন, তারা সুন্নি মুসলিম হলেও শিয়া সম্প্রদায়ের এই আয়োজনে নিয়মিত অংশ নিতেন।হোসেইনী দালানের ভেতরে ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজনে এমন ঘটনাকে বাংলাদেশের জন্য এক দুর্ভাগ্য বলে অভিহিত করেন মোহাম্মদ নাসির। আর এ ঘটনার সাথে জড়িতদের ধরে বিচারের আওতায় না আনা গেলে তা হবে সরকারের ব্যর্থতা।

ঘটনার পর থেকেই বারবার পুলিশ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ডাক পড়ছে এই পরিবারের সদস্যদের। নাসির বলেন, কর্তৃপক্ষের কেউ এখনো আসেননি তার বাড়িতে, বরং তাদেরকেই বারবার ডাকা হচ্ছে। অনেক রাত অবধি থানায় বসিয়ে রাখা হয়েছে।

এই বিষয়টিকে শোক সন্তপ্ত একটি পরিবারের জন্য চরম এক হয়রানি বলেও মনে করছেন তিনি। তবে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখন কিছুই চান না সাজ্জাদ হোসেন সানজুর পরিবার।