পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

বিয়ে হলেও স্বামীর বিছানায় থাকতে পারে না যেসব মেয়েরা

স্বামী আছে, আছে স্বামীর ঘর এবং সংসারও। কিন্তু সেই ঘর কিংবা সংসারে কার্যত নেই তাদের কোনো অধিকার। এমনকি তরুণী বয়সে স্বামীর ঘর করতে গেলেও বার্ধক্য পর্যন্ত হয়তো স্বামীর সঙ্গে এক ঘর, এক বিছানায় থাকার অধিকারও থাকে না তাদের।

বলছি, ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের পানি-বাইদের কথা। শুধু পানি বহন করার জন্যই যেন তাঁদের জীবন।

কাগজ-কলমে মহারাষ্ট্রে হিন্দু পুরুষদের বহু বিবাহ আইনবিরোধী। কিন্তু এ রাজ্যের বহু গ্রামে এখন নির্বিবাদে পুরুষরা বহু বিবাহ করে চলেছে। এই বহু বিবাহের কারণ কিন্তু আর্থিক কিংবা দৈহিক চাহিদা নয়। শুধু বাড়িতে যাতে পানির অভাব না হয় সেজন্যই বিয়ে করা হয় এদের। যে কারণে এই এলাকায় প্রথম স্ত্রীর পরের স্ত্রীদের বলা হয় ‘পানি-বাই’।

ভারতের খরাপ্রবণ মহারাষ্ট্র রাজ্যের বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ বরাবরই কম। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যায়, এখানকার প্রায় ১৯ হাজার গ্রামে এখন পর্যন্ত সেই অর্থে পরিশ্রুত পানির কোনো সংযোগ নেই। ফলে তেষ্টা মেটাতে কিংবা জীবন ধারণের তাগিদে এই অঞ্চলের প্রতিটি পরিবারকে পানি আনতে যেতে হয় গ্রাম থেকে বেশ কয়েক মাইল দূরে। মালভূমি অঞ্চলের চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে গভীর পাতকুয়া থেকে পানি আনতে তাই পেরিয়ে যায় দিনের একটা বড় অংশ।

বাড়ির গৃহকর্ত্রীরা যদি দিনের প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে পানি বয়ে আনার কাজ করে তাহলে ঘর-সংসারের কাজ করবে কখন! স্বামী, সংসার, ছেলেপুলে সামলাবে কখন? যে কারণে এই অঞ্চলের বেশিরভাগ গ্রামে পুরুষদের মধ্যে দেখা যায় বহু বিবাহের রীতি। আর সেই বহু বিবাহের একমাত্র কারণ, সংসারের জন্য পানির জোগান ধরে রাখা। যার জন্য এ অঞ্চলের প্রায় সংসারেই রয়েছে একজন কিংবা দুজন করে পানি-বাই।

মজার বিষয় হলো, সংসারে পানির জোগান ঠিকঠাক রাখতে সংসারের গৃহকর্ত্রী (প্রথম স্ত্রী) নিজেই ঘটকালি করেন সংসারে সতীন আনার জন্য। তিনি নিজেই কনে দেখে স্বামীর দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় বিয়ের বন্দোবস্ত করে দেন। তবে সতীন ঘরে পা দেওয়ার আগে কড়া শর্ত রাখা হয়, নামে স্বামী হলেও এক বিছানায় কখনই তারা যেন স্বামীর সঙ্গে না থাকে। ফলে বিয়ে করেও সমাজ ও সংসারের বুকে ব্রাত্য (পতিত) থেকে যায় এসব পানি-বাইরা।

শুধু গরিব ঘরের মেয়েরাই নয়, বিধবা নারীদেরও স্রেফ পানি বাইয়ের জন্য বিয়ে করে এই অঞ্চলের পুরুষরা।

মাথায় একের পর এক পানিভর্তি কলসি নিয়ে দিনভর সংসারের জন্য কয়েক মাইল পথ পাড়ি দিয়ে পানি আনার কাজ করে পানি-বাইরা। সংসারে একমাত্র মুখ্য কাজ তাদের এটাই। অবহেলিত এই পানি-বাইদের বয়স বেড়ে গেলে সংসারে আসে ফের নতুন পানি-বাই।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

বিয়ে হলেও স্বামীর বিছানায় থাকতে পারে না যেসব মেয়েরা

আপডেট টাইম : ০৩:৫৮:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৫

স্বামী আছে, আছে স্বামীর ঘর এবং সংসারও। কিন্তু সেই ঘর কিংবা সংসারে কার্যত নেই তাদের কোনো অধিকার। এমনকি তরুণী বয়সে স্বামীর ঘর করতে গেলেও বার্ধক্য পর্যন্ত হয়তো স্বামীর সঙ্গে এক ঘর, এক বিছানায় থাকার অধিকারও থাকে না তাদের।

বলছি, ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের পানি-বাইদের কথা। শুধু পানি বহন করার জন্যই যেন তাঁদের জীবন।

কাগজ-কলমে মহারাষ্ট্রে হিন্দু পুরুষদের বহু বিবাহ আইনবিরোধী। কিন্তু এ রাজ্যের বহু গ্রামে এখন নির্বিবাদে পুরুষরা বহু বিবাহ করে চলেছে। এই বহু বিবাহের কারণ কিন্তু আর্থিক কিংবা দৈহিক চাহিদা নয়। শুধু বাড়িতে যাতে পানির অভাব না হয় সেজন্যই বিয়ে করা হয় এদের। যে কারণে এই এলাকায় প্রথম স্ত্রীর পরের স্ত্রীদের বলা হয় ‘পানি-বাই’।

ভারতের খরাপ্রবণ মহারাষ্ট্র রাজ্যের বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ বরাবরই কম। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যায়, এখানকার প্রায় ১৯ হাজার গ্রামে এখন পর্যন্ত সেই অর্থে পরিশ্রুত পানির কোনো সংযোগ নেই। ফলে তেষ্টা মেটাতে কিংবা জীবন ধারণের তাগিদে এই অঞ্চলের প্রতিটি পরিবারকে পানি আনতে যেতে হয় গ্রাম থেকে বেশ কয়েক মাইল দূরে। মালভূমি অঞ্চলের চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে গভীর পাতকুয়া থেকে পানি আনতে তাই পেরিয়ে যায় দিনের একটা বড় অংশ।

বাড়ির গৃহকর্ত্রীরা যদি দিনের প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে পানি বয়ে আনার কাজ করে তাহলে ঘর-সংসারের কাজ করবে কখন! স্বামী, সংসার, ছেলেপুলে সামলাবে কখন? যে কারণে এই অঞ্চলের বেশিরভাগ গ্রামে পুরুষদের মধ্যে দেখা যায় বহু বিবাহের রীতি। আর সেই বহু বিবাহের একমাত্র কারণ, সংসারের জন্য পানির জোগান ধরে রাখা। যার জন্য এ অঞ্চলের প্রায় সংসারেই রয়েছে একজন কিংবা দুজন করে পানি-বাই।

মজার বিষয় হলো, সংসারে পানির জোগান ঠিকঠাক রাখতে সংসারের গৃহকর্ত্রী (প্রথম স্ত্রী) নিজেই ঘটকালি করেন সংসারে সতীন আনার জন্য। তিনি নিজেই কনে দেখে স্বামীর দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় বিয়ের বন্দোবস্ত করে দেন। তবে সতীন ঘরে পা দেওয়ার আগে কড়া শর্ত রাখা হয়, নামে স্বামী হলেও এক বিছানায় কখনই তারা যেন স্বামীর সঙ্গে না থাকে। ফলে বিয়ে করেও সমাজ ও সংসারের বুকে ব্রাত্য (পতিত) থেকে যায় এসব পানি-বাইরা।

শুধু গরিব ঘরের মেয়েরাই নয়, বিধবা নারীদেরও স্রেফ পানি বাইয়ের জন্য বিয়ে করে এই অঞ্চলের পুরুষরা।

মাথায় একের পর এক পানিভর্তি কলসি নিয়ে দিনভর সংসারের জন্য কয়েক মাইল পথ পাড়ি দিয়ে পানি আনার কাজ করে পানি-বাইরা। সংসারে একমাত্র মুখ্য কাজ তাদের এটাই। অবহেলিত এই পানি-বাইদের বয়স বেড়ে গেলে সংসারে আসে ফের নতুন পানি-বাই।