অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

পাওনা টাকা না দিয়ে আইএস জঙ্গি বলে আলীকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় সিঙ্গাপুরের কোম্পানি

চুয়াডাঙ্গা : জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো চুয়াডাঙ্গার আব্দুল আলীর বাড়ি চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ডোমচরায়। সিঙ্গাপুর থেকে জঙ্গি সন্দেহে ফেরত পাঠানো ২৬ জনের একজন সে। ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর সংশোধনি ২০১৩’র ৭,৮,৯ ও ১৩ ধারায় ২১-১২-২০১৫ তারিখের(মামলা নং ১১) একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো ১৪ জনকেই এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। চুয়াডাঙ্গাতেও তার জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে, তবে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি বলে চুয়াডাঙ্গার সিনিযর সহকারী পুলিশ সুপার ছফি উল্লাহ জানান।

তার পরিবারের সদস্যদের দাবি, তিনি কখনোই জঙ্গিদের সাথে হাত মেলাতে পারেন না। তিনি সংসারের অভাব তাড়াতেই প্রবাসে পরিশ্রম করতেন। বর্তমানে তার বয়স ৪২ বছর। তিনি প্রথমে সংসারের সচ্ছলতা আনতে সৌদি আরব যান। সেখানে ৯ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে আসেন। এর কিছুদিন পর ২০০৭ সালে আব্দুল আলী ও তার ছোট ভাই আনছার আলী সিঙ্গাপুর যান। সম্প্রতি ওই ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আব্দুল আলীর গ্রামের লোকজন বিষয়টি জানতে পারেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মোহাম্মদ আব্দুল আলীর বাড়ি চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ডোমচারা গ্রামে। বাড়ি চুয়াডাঙ্গায় হলেও দেশে থাকাকালে বেশিরভাগ সময়ই তিনি গাজীপুর জেলার টংগী উপজেলার মোজাফা গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে থাকতেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে বড় হওয়ায় দরিদ্র পরিবারে সচ্ছলতা আনতে সৌদি আরব যান মোহাম্মদ আব্দুল আলী। গ্রামবাসী বলছেন, সৌদি আরবের পর সিঙ্গাপুরে দীর্ঘ ৮ বছর অবস্থান করলেও ভাগ্যের চাকা তেমন পরিবর্তন করতে পারেননি আলী। দুই দফায় দীর্ঘ ১৮ বছর প্রবাস জীবনের সঞ্চয় মাত্র দুই কক্ষবিশিষ্ঠ একটি বাড়ি। এরই মধ্যে আইএসর সাথে সম্পৃক্ততার খবরে বিস্মিত তার স্বজনসহ গ্রামের মানুষ।

আব্দুল আলীর স্ত্রী রেখা খাতুন বলেন, গত বছরের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই তারা আলীর কোনো খোঁজ পাচ্ছিলেন না। তার মোবাইলফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। বেশ কয়েকদিন পর এক পরিচিত জনের মাধ্যমে আলীর আটকের বিষয়টি জানতে পারেন তারা।

আলীর বৃদ্ধা মা আমিরন নেছা ও বাবা রুস্তম আলী ছেলের জঙ্গি সম্পৃক্ততার খবরে বিস্মিত। তারা বলেন, সুষ্ঠু তদন্ত হলে ছেলে নিরাপরাধ প্রমাণিত হবে। এজন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

আলীর ছোট ভাই আব্দুল মজিদের দাবি, আলী সিঙ্গাপুরে যে কোম্পানিতে কাজ করতো সেই মালিকের কাছে বেতন-ভাতা বাবদ অনেক টাকা বকেয়া রয়েছে। পাওনা টাকার জন্য চাপ দেয়ায় তাকে মিথ্যা অভিযোগে পুলিশে তুলে দেয় কোম্পানি।

Tag :

বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ

পাওনা টাকা না দিয়ে আইএস জঙ্গি বলে আলীকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় সিঙ্গাপুরের কোম্পানি

আপডেট টাইম : ০২:২৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ জানুয়ারী ২০১৬

চুয়াডাঙ্গা : জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো চুয়াডাঙ্গার আব্দুল আলীর বাড়ি চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ডোমচরায়। সিঙ্গাপুর থেকে জঙ্গি সন্দেহে ফেরত পাঠানো ২৬ জনের একজন সে। ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর সংশোধনি ২০১৩’র ৭,৮,৯ ও ১৩ ধারায় ২১-১২-২০১৫ তারিখের(মামলা নং ১১) একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো ১৪ জনকেই এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। চুয়াডাঙ্গাতেও তার জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে, তবে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি বলে চুয়াডাঙ্গার সিনিযর সহকারী পুলিশ সুপার ছফি উল্লাহ জানান।

তার পরিবারের সদস্যদের দাবি, তিনি কখনোই জঙ্গিদের সাথে হাত মেলাতে পারেন না। তিনি সংসারের অভাব তাড়াতেই প্রবাসে পরিশ্রম করতেন। বর্তমানে তার বয়স ৪২ বছর। তিনি প্রথমে সংসারের সচ্ছলতা আনতে সৌদি আরব যান। সেখানে ৯ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে আসেন। এর কিছুদিন পর ২০০৭ সালে আব্দুল আলী ও তার ছোট ভাই আনছার আলী সিঙ্গাপুর যান। সম্প্রতি ওই ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আব্দুল আলীর গ্রামের লোকজন বিষয়টি জানতে পারেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মোহাম্মদ আব্দুল আলীর বাড়ি চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ডোমচারা গ্রামে। বাড়ি চুয়াডাঙ্গায় হলেও দেশে থাকাকালে বেশিরভাগ সময়ই তিনি গাজীপুর জেলার টংগী উপজেলার মোজাফা গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে থাকতেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে বড় হওয়ায় দরিদ্র পরিবারে সচ্ছলতা আনতে সৌদি আরব যান মোহাম্মদ আব্দুল আলী। গ্রামবাসী বলছেন, সৌদি আরবের পর সিঙ্গাপুরে দীর্ঘ ৮ বছর অবস্থান করলেও ভাগ্যের চাকা তেমন পরিবর্তন করতে পারেননি আলী। দুই দফায় দীর্ঘ ১৮ বছর প্রবাস জীবনের সঞ্চয় মাত্র দুই কক্ষবিশিষ্ঠ একটি বাড়ি। এরই মধ্যে আইএসর সাথে সম্পৃক্ততার খবরে বিস্মিত তার স্বজনসহ গ্রামের মানুষ।

আব্দুল আলীর স্ত্রী রেখা খাতুন বলেন, গত বছরের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই তারা আলীর কোনো খোঁজ পাচ্ছিলেন না। তার মোবাইলফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। বেশ কয়েকদিন পর এক পরিচিত জনের মাধ্যমে আলীর আটকের বিষয়টি জানতে পারেন তারা।

আলীর বৃদ্ধা মা আমিরন নেছা ও বাবা রুস্তম আলী ছেলের জঙ্গি সম্পৃক্ততার খবরে বিস্মিত। তারা বলেন, সুষ্ঠু তদন্ত হলে ছেলে নিরাপরাধ প্রমাণিত হবে। এজন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

আলীর ছোট ভাই আব্দুল মজিদের দাবি, আলী সিঙ্গাপুরে যে কোম্পানিতে কাজ করতো সেই মালিকের কাছে বেতন-ভাতা বাবদ অনেক টাকা বকেয়া রয়েছে। পাওনা টাকার জন্য চাপ দেয়ায় তাকে মিথ্যা অভিযোগে পুলিশে তুলে দেয় কোম্পানি।