অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo বনশ্রীতে মেগা বুকশপ ‘তিলোত্তমা’গ্র্যান্ড ওপেনিং Logo “বাঙ্গরা বাজার থানা সমিতি-ঢাকা’র নির্বাচন সভাপতি মোমেন, সাধারণ সম্পাদক আবির Logo পাটগ্রামে দবির উদ্দিন চিকিৎসা সহায়তা ফাউন্ডেশনের নগদ সহায়তা প্রদান Logo পাটগ্রামে ইহসান ইয়ুথ সার্কেলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি Logo কায়েতপাড়ায় বসতভিটা রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের মানুষের থানায় গণঅভিযোগ Logo পাটগ্রামে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলা, নারীসহ আহত ৪ Logo পাটগ্রামে রাস্তা ভেঙে চলাচল বন্ধ প্রায় দুই হাজার পরিবারের চলাচলে দুর্ভোগ Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

দুদক রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে: জরিপ

ঢাকা: দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ নয়। কিছু ক্ষেত্রে কমিশনের ভূমিকা পক্ষপাতদুষ্ট এবং সকলের বিরুদ্ধে সমানভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করে না। একই সঙ্গে দুর্নীতির বিষয়টিকে বিরোধী দল বা ভিন্ন মতাদর্শের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে এই সংস্থা।

রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ‘দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ উদ্যোগ : বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনের ওপর পর্যালোচনা’- শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এ প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে। সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যদিও চেয়ারম্যান ও কমিশনারদেরকে আপাতভাবে একটি ভালো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হয়, তবুও প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ নয়। কেননা অন্যান্য দেশে এমন প্রতিষ্ঠানে কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি থেকে সার্চ কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটি থেকে আসা নামগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়। এরপর সংসদে মতামতের ভিত্তিতে এই নিয়োগ দেয়া হয়।

কিন্তু বাংলাদেশের এ নিয়োগ অনেকটা গোপনেই হয়। একটি বাছাই কমিটির দ্বারা বাছাইকৃতদের নাম ও যোগ্যতা নিয়োগের আগে প্রকাশ করা হয় না- বলেও যোগ করেন তিনি।

দুদকের আরেকটি দুর্বলতা হচ্ছে কর্মীদের দক্ষতা। নতুন কর্মীদের তদন্ত সম্পর্কে বোঝার ঘাটতি রয়েছে এবং পুরনো কর্মীরা সবসময় দুর্নীতির নতুন ধরন (যেমন অর্থ পাচার ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে দুর্নীতি) ও কৌশল সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

এসময় তদন্ত, প্রতিরোধ, উন্নয়ন ও মামলা পরিচালনার জন্য দুদকে আরও বেশি বরাদ্দ দেয়ার পরামর্শ দেন ড. ইফতেখারুজ্জামান।

এ ব্যাপারে টিআইবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপার্সন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, দুদকে অর্থায়ন কমের কারণে অনেক কাজেরই ঘাটতি থেকে যায়। আবার কখনো কখনো দুর্নীতি প্রতিরোধমূলক কাজে অন্য সহায়তামূলক সংগঠনের সাহায্য নিতে হয়, যা একটা স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের জন্য ভালো নয়।

গবেষণায় প্রতিবেদনে অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে বলা হয়েছে- দুদকের মামলায় সাজা হওয়ার গড় হার ৪০ শতাংশের কম। একটি কার্যকর দুদকের জন্য এই হার আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন।

এছাড়া দুদকের জবাবদিহিতা ও তদারকির ক্ষেত্রে প্রধান উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে বাহ্যিক কোনো তদারকির ব্যবস্থা না থাকা।
গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবি’র সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহজাদা এম আকরাম ও শাম্মী লায়লা ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, ওই প্রতিবেদনের প্রধান গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সালাহউদ্দিন এম আমিনুজ্জামান ও টিআইবি’র উপ-নির্বাহী পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের প্রমুখ।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বনশ্রীতে মেগা বুকশপ ‘তিলোত্তমা’গ্র্যান্ড ওপেনিং

দুদক রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে: জরিপ

আপডেট টাইম : ০৫:২৩:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ অগাস্ট ২০১৬

ঢাকা: দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ নয়। কিছু ক্ষেত্রে কমিশনের ভূমিকা পক্ষপাতদুষ্ট এবং সকলের বিরুদ্ধে সমানভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করে না। একই সঙ্গে দুর্নীতির বিষয়টিকে বিরোধী দল বা ভিন্ন মতাদর্শের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে এই সংস্থা।

রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ‘দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ উদ্যোগ : বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনের ওপর পর্যালোচনা’- শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এ প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে। সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যদিও চেয়ারম্যান ও কমিশনারদেরকে আপাতভাবে একটি ভালো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হয়, তবুও প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ নয়। কেননা অন্যান্য দেশে এমন প্রতিষ্ঠানে কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি থেকে সার্চ কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটি থেকে আসা নামগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়। এরপর সংসদে মতামতের ভিত্তিতে এই নিয়োগ দেয়া হয়।

কিন্তু বাংলাদেশের এ নিয়োগ অনেকটা গোপনেই হয়। একটি বাছাই কমিটির দ্বারা বাছাইকৃতদের নাম ও যোগ্যতা নিয়োগের আগে প্রকাশ করা হয় না- বলেও যোগ করেন তিনি।

দুদকের আরেকটি দুর্বলতা হচ্ছে কর্মীদের দক্ষতা। নতুন কর্মীদের তদন্ত সম্পর্কে বোঝার ঘাটতি রয়েছে এবং পুরনো কর্মীরা সবসময় দুর্নীতির নতুন ধরন (যেমন অর্থ পাচার ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে দুর্নীতি) ও কৌশল সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

এসময় তদন্ত, প্রতিরোধ, উন্নয়ন ও মামলা পরিচালনার জন্য দুদকে আরও বেশি বরাদ্দ দেয়ার পরামর্শ দেন ড. ইফতেখারুজ্জামান।

এ ব্যাপারে টিআইবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপার্সন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, দুদকে অর্থায়ন কমের কারণে অনেক কাজেরই ঘাটতি থেকে যায়। আবার কখনো কখনো দুর্নীতি প্রতিরোধমূলক কাজে অন্য সহায়তামূলক সংগঠনের সাহায্য নিতে হয়, যা একটা স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের জন্য ভালো নয়।

গবেষণায় প্রতিবেদনে অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে বলা হয়েছে- দুদকের মামলায় সাজা হওয়ার গড় হার ৪০ শতাংশের কম। একটি কার্যকর দুদকের জন্য এই হার আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন।

এছাড়া দুদকের জবাবদিহিতা ও তদারকির ক্ষেত্রে প্রধান উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে বাহ্যিক কোনো তদারকির ব্যবস্থা না থাকা।
গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবি’র সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহজাদা এম আকরাম ও শাম্মী লায়লা ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, ওই প্রতিবেদনের প্রধান গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সালাহউদ্দিন এম আমিনুজ্জামান ও টিআইবি’র উপ-নির্বাহী পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের প্রমুখ।