পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন

গোলাপগঞ্জে ৩ জনের যাবজ্জীবন

গোপালগঞ্জ : সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির মেধাবী ছাত্র গোলাপগঞ্জের খালেদুজ্জামান খালেদ হত্যার মামলায় প্রধান আসামি কবিরসহ তিন জনের যাবজ্জীবন ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে তাদেরকে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ মনির আহমদ পাটোয়ারী এই রায় দেন।

রায়ে মামলার আট জন আসামির মধ্যে খালাস পেয়েছেন বাকি পাঁচ জন। রায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন- প্রধান আসামি হুমায়ুন কবির ওরফে কবির (২৫), মুকিত আল মাহমুদ ( ২২), ফাহিম আহমদ (২৫)।

রায়ে খালাস পেয়েছেন- কবিরের পিতা সাইব উদ্দিন (৫০), বিয়ানীবাজারের মোহাম্মদপুর গ্রামের মৃত জোয়াদ আলীর পুত্র গৌছ উদ্দিন (৫০), কবিরের মা রিনা বেগম (৪৫), বোন লাকি বেগম (২০) ও অপর বোন ফারজানা ডলি (১৯)।

রায় উপলক্ষে আদালত পাড়ায় কড়া নিরাপত্তায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মামলায় গ্রেফতার পাঁচজনসহ জামিনে থাকা আরো তিন জন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

এসময় খালেদের খুনিদের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন তার আত্মীয় স্বজনসহ খালেদের সহপাঠীরা।

বেলা সোয়া একটার দিকে রায় দেন বিচারক। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্র পক্ষের এপিপি এডভোকেট জসিম উদ্দিন জানান, রায়টি প্রত্যাশিত হয়নি। পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যালোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন তারা। এ সময় উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন খালেদের বাবা ছালেহ আহমদ ছল্লুছ। খালেদের বাবা বলেন, আমি এই রায়ে খুশি নই। আশা ছিল খালেদের খুনিদের ফাঁসি হবে।

তিনি বলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে আমি উচ্চ আদালতে আপিল করবো। আশা করি উচ্চ আদালতে আমরা ন্যায় বিচার পাবো।

এর আগে মামলার দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে একই বিচারক রায়ের দিন ঠিক করে দেন গত ১৭ আগস্ট। রায় কাগজপত্র প্রস্তত না থাকায় রায়ের পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয় ৩০ আগস্ট।

হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরুর পর ১৩ কার্যদিবসে ঘোষিত হলো গোলাপগঞ্জের আলোচিত এই হত্যা মামলার রায়।

উল্লেখ্য, গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের নিমাদল পশ্চিমপাড়া গ্রামের ছালেহ আহমদ ছল্লুছ মিয়ার পুত্র সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির মেধাবী ছাত্র খালেদুজ্জামান খালেদ (২০) কে ২০১৪ সালে ২১ জুলাই বিয়ানীবাজার উপজেলার রামধা উত্তর চন্দগ্রামের সাইব উদ্দিনের পুত্র হুমায়ুন কবির আমন্ত্রণ জানিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে খালেদকে আটক রেখে ইফতারের পুর্ব মুহূর্তে অহেতুক তার সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে কবির ও তার বন্ধু গোলাপগঞ্জের ফুলবাড়ী গ্রামের আব্দুস সত্তারের পুত্র ফাহিম আহমদ(২৫)’সহ ক’জন বন্ধু মিলে মারধর করে নাক-মুখ কস্টেপ দিয়ে মুড়িয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে।

পরে তারা ইফতার শেষে তারাবির নামাজ চলাকালীন সময়ে খালেদের লাশ কুশিয়ারা নদীতে ফেলে দেয়। চার দিন পর ২৫ জুলাই ফেঞ্চুগঞ্জের কাছে খালেদের লাশ কুশিয়ারা নদীতে ভেসে উঠলে আত্মীয়-স্বজনরা সেখানে গিয়ে তার পরিচয় সনাক্ত করেন।

এ ব্যাপারে বিয়ানীবাজার থানায় খালেদের বাবা ছালেহ আহমদ ছল্লুছ ওইদিনই কবির, কবিরের পিতা সাইব উদ্দিন, ওই এলাকার সাবেক মেম্বার গৌছ উদ্দিন, তাদের নিকটাত্মীয় মুকিত আল-মামুন, শিপলুসহ ৫/৬ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ আসামি ধরতে ব্যাপক অভিযান চালায়। পুলিশের তাড়া খেয়ে এক পর্যায়ে কবির ও তার পিতা আদালতে আত্মসমর্পণ করলে কবির নিজে খুন করার কথা স্বীকার করে।

পরবর্তীতে কবিরের সহযোগী ফাহিমকে পুলিশ আটক করলে ফাহিমও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সাত মাস পর ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ আট জনকে অভিযুক্ত করে চার্জসিট প্রদান করে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

গোলাপগঞ্জে ৩ জনের যাবজ্জীবন

আপডেট টাইম : ০৩:৫৬:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ অগাস্ট ২০১৬

গোপালগঞ্জ : সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির মেধাবী ছাত্র গোলাপগঞ্জের খালেদুজ্জামান খালেদ হত্যার মামলায় প্রধান আসামি কবিরসহ তিন জনের যাবজ্জীবন ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে তাদেরকে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ মনির আহমদ পাটোয়ারী এই রায় দেন।

রায়ে মামলার আট জন আসামির মধ্যে খালাস পেয়েছেন বাকি পাঁচ জন। রায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন- প্রধান আসামি হুমায়ুন কবির ওরফে কবির (২৫), মুকিত আল মাহমুদ ( ২২), ফাহিম আহমদ (২৫)।

রায়ে খালাস পেয়েছেন- কবিরের পিতা সাইব উদ্দিন (৫০), বিয়ানীবাজারের মোহাম্মদপুর গ্রামের মৃত জোয়াদ আলীর পুত্র গৌছ উদ্দিন (৫০), কবিরের মা রিনা বেগম (৪৫), বোন লাকি বেগম (২০) ও অপর বোন ফারজানা ডলি (১৯)।

রায় উপলক্ষে আদালত পাড়ায় কড়া নিরাপত্তায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মামলায় গ্রেফতার পাঁচজনসহ জামিনে থাকা আরো তিন জন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

এসময় খালেদের খুনিদের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন তার আত্মীয় স্বজনসহ খালেদের সহপাঠীরা।

বেলা সোয়া একটার দিকে রায় দেন বিচারক। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্র পক্ষের এপিপি এডভোকেট জসিম উদ্দিন জানান, রায়টি প্রত্যাশিত হয়নি। পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যালোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন তারা। এ সময় উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন খালেদের বাবা ছালেহ আহমদ ছল্লুছ। খালেদের বাবা বলেন, আমি এই রায়ে খুশি নই। আশা ছিল খালেদের খুনিদের ফাঁসি হবে।

তিনি বলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে আমি উচ্চ আদালতে আপিল করবো। আশা করি উচ্চ আদালতে আমরা ন্যায় বিচার পাবো।

এর আগে মামলার দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে একই বিচারক রায়ের দিন ঠিক করে দেন গত ১৭ আগস্ট। রায় কাগজপত্র প্রস্তত না থাকায় রায়ের পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয় ৩০ আগস্ট।

হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরুর পর ১৩ কার্যদিবসে ঘোষিত হলো গোলাপগঞ্জের আলোচিত এই হত্যা মামলার রায়।

উল্লেখ্য, গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের নিমাদল পশ্চিমপাড়া গ্রামের ছালেহ আহমদ ছল্লুছ মিয়ার পুত্র সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির মেধাবী ছাত্র খালেদুজ্জামান খালেদ (২০) কে ২০১৪ সালে ২১ জুলাই বিয়ানীবাজার উপজেলার রামধা উত্তর চন্দগ্রামের সাইব উদ্দিনের পুত্র হুমায়ুন কবির আমন্ত্রণ জানিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে খালেদকে আটক রেখে ইফতারের পুর্ব মুহূর্তে অহেতুক তার সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে কবির ও তার বন্ধু গোলাপগঞ্জের ফুলবাড়ী গ্রামের আব্দুস সত্তারের পুত্র ফাহিম আহমদ(২৫)’সহ ক’জন বন্ধু মিলে মারধর করে নাক-মুখ কস্টেপ দিয়ে মুড়িয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে।

পরে তারা ইফতার শেষে তারাবির নামাজ চলাকালীন সময়ে খালেদের লাশ কুশিয়ারা নদীতে ফেলে দেয়। চার দিন পর ২৫ জুলাই ফেঞ্চুগঞ্জের কাছে খালেদের লাশ কুশিয়ারা নদীতে ভেসে উঠলে আত্মীয়-স্বজনরা সেখানে গিয়ে তার পরিচয় সনাক্ত করেন।

এ ব্যাপারে বিয়ানীবাজার থানায় খালেদের বাবা ছালেহ আহমদ ছল্লুছ ওইদিনই কবির, কবিরের পিতা সাইব উদ্দিন, ওই এলাকার সাবেক মেম্বার গৌছ উদ্দিন, তাদের নিকটাত্মীয় মুকিত আল-মামুন, শিপলুসহ ৫/৬ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ আসামি ধরতে ব্যাপক অভিযান চালায়। পুলিশের তাড়া খেয়ে এক পর্যায়ে কবির ও তার পিতা আদালতে আত্মসমর্পণ করলে কবির নিজে খুন করার কথা স্বীকার করে।

পরবর্তীতে কবিরের সহযোগী ফাহিমকে পুলিশ আটক করলে ফাহিমও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সাত মাস পর ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ আট জনকে অভিযুক্ত করে চার্জসিট প্রদান করে।