অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন

যেভাবে গ্রেফতার হলো ওবায়দুল

নীলফামারী : ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশার (১৫) হত্যাকারী ওবায়দুল খানকে অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১৩ ঘণ্টার অভিযান শেষে বুধবার সকালে র‌্যাব, পুলিশ ও ডিএমপি পুলিশ জেলার ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়ন থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

তাকে গ্রেফতার করতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই ডোমারে বিশেষ অভিযান চালায় ডোমার থানা পুলিশ। ওবায়দুল ডোমারে অবস্থান করছেন‒এই গোপন সংবাদ পেয়ে ডোমার থানার অফিসার্স ইনচার্জ আহমেদ রাজিউর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকার রমনা থানার উপপরিদর্শক মোশারফ হোসেন-সহ একদল পুলিশ মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে।

ওবায়দুলকে ধরতে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ডোমার ব্র্যাক অফিসে হানা দেয় পুলিশ। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘাতক ওবায়দুল পালিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ ডোমার ব্র্যাক অফিসের অফিস সহকারী সাহাদাত হোসেন ও পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার শাখার ব্র্যাকের অফিস সহকারী ও ওবায়দুলের দুলাভাইয়ের ছোটভাই খুশবুকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

মঙ্গলবার রাতভর পুলিশের বিশেষ অভিযান চললেও বারবার অবস্থান পরিবর্তন করার কারণে গ্রেফতার করার যায়নি তাকে।

বুধবার সকালে ওবায়দুল উপজেলার সোনারায় ইউনিয়ন বাজারে হোটেলে নাস্তা খেতে ঢুকলে ধরনীগঞ্জ এলাকার দুলাল নামের একজন তাকে দেখে চিনে ফেলেন। তিনি ডোমার থানায় খবর দিলে এসআই ফজলুর নেতৃত্বে একদল পুলিশ এসে তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।

তাকে গ্রেফতারের পর নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার জাকির হোসেন খান। দুপুরে রমনা জোনের এডিসি আজিমুল হকের নেতৃত্বে একদল পুলিশ মাইক্রোতে করে তাকে ঢাকার উদ্দেশে নিয়ে যায়।

বীরগঞ্জ উপজেলার মিরাটঙ্গী ইউনিয়নের ৭নং ইউপি সদস্য রইসুল ইসলাম জানান, ওবায়দুলের বাড়ি বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মিরাটঙ্গী গ্রামে। তার বাবা মৃত. আব্দুস সামাদ।ওবায়দুল বৃহস্পতিবার(২৫ আগস্ট) তার বোনের বাড়ি মিরাটঙ্গী আসে। সোমবার (২৯ আগস্ট) দুপুর পর্যন্ত স্থানীয় লাটেরহাট বাজারে শেষ তাকে দেখা যায় বলেও তিনি জানান।

সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রমনা থানার উপপরিদর্শক মোশারফের নেতৃত্বে ও বীরগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় ওবায়দুলের বাড়িতে অভিযান চালায়। তবে এ সময় তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ২৪ আগস্ট উইলস ফাওয়ার স্কুলের সামনের ফুটওভার ব্রিজে রিশাকে ছুরিকাঘাত করেন ওবায়দুল। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সে মারা যায়।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

যেভাবে গ্রেফতার হলো ওবায়দুল

আপডেট টাইম : ০২:৫৪:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ অগাস্ট ২০১৬

নীলফামারী : ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশার (১৫) হত্যাকারী ওবায়দুল খানকে অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১৩ ঘণ্টার অভিযান শেষে বুধবার সকালে র‌্যাব, পুলিশ ও ডিএমপি পুলিশ জেলার ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়ন থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

তাকে গ্রেফতার করতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই ডোমারে বিশেষ অভিযান চালায় ডোমার থানা পুলিশ। ওবায়দুল ডোমারে অবস্থান করছেন‒এই গোপন সংবাদ পেয়ে ডোমার থানার অফিসার্স ইনচার্জ আহমেদ রাজিউর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকার রমনা থানার উপপরিদর্শক মোশারফ হোসেন-সহ একদল পুলিশ মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে।

ওবায়দুলকে ধরতে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ডোমার ব্র্যাক অফিসে হানা দেয় পুলিশ। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘাতক ওবায়দুল পালিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ ডোমার ব্র্যাক অফিসের অফিস সহকারী সাহাদাত হোসেন ও পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার শাখার ব্র্যাকের অফিস সহকারী ও ওবায়দুলের দুলাভাইয়ের ছোটভাই খুশবুকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

মঙ্গলবার রাতভর পুলিশের বিশেষ অভিযান চললেও বারবার অবস্থান পরিবর্তন করার কারণে গ্রেফতার করার যায়নি তাকে।

বুধবার সকালে ওবায়দুল উপজেলার সোনারায় ইউনিয়ন বাজারে হোটেলে নাস্তা খেতে ঢুকলে ধরনীগঞ্জ এলাকার দুলাল নামের একজন তাকে দেখে চিনে ফেলেন। তিনি ডোমার থানায় খবর দিলে এসআই ফজলুর নেতৃত্বে একদল পুলিশ এসে তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।

তাকে গ্রেফতারের পর নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার জাকির হোসেন খান। দুপুরে রমনা জোনের এডিসি আজিমুল হকের নেতৃত্বে একদল পুলিশ মাইক্রোতে করে তাকে ঢাকার উদ্দেশে নিয়ে যায়।

বীরগঞ্জ উপজেলার মিরাটঙ্গী ইউনিয়নের ৭নং ইউপি সদস্য রইসুল ইসলাম জানান, ওবায়দুলের বাড়ি বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মিরাটঙ্গী গ্রামে। তার বাবা মৃত. আব্দুস সামাদ।ওবায়দুল বৃহস্পতিবার(২৫ আগস্ট) তার বোনের বাড়ি মিরাটঙ্গী আসে। সোমবার (২৯ আগস্ট) দুপুর পর্যন্ত স্থানীয় লাটেরহাট বাজারে শেষ তাকে দেখা যায় বলেও তিনি জানান।

সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রমনা থানার উপপরিদর্শক মোশারফের নেতৃত্বে ও বীরগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় ওবায়দুলের বাড়িতে অভিযান চালায়। তবে এ সময় তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ২৪ আগস্ট উইলস ফাওয়ার স্কুলের সামনের ফুটওভার ব্রিজে রিশাকে ছুরিকাঘাত করেন ওবায়দুল। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সে মারা যায়।