অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল

‘জঙ্গিরা আত্মসমর্পণ করলে আইনি সহায়তা পাবে’

যশোর : যশোর শহরের পুরাতন কসবা বিবি রোডের (কদমতলা) আব্দুল আজিজের বাড়িতে তিন মাস ধরে তালা ঝুলছে। তাদের আত্মীয়স্বজন এবং প্রতিবেশীরাও জানেন না বাড়ির লোকজন কোথায়।

জঙ্গিরা যদি আত্মসমর্পণ করে, তবে পুলিশ তাদের আইনি সহায়তা দেবে। নইলে জঙ্গিদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে জিরো টলারেন্স, তা পুলিশ দেখাবে বলে জানান জেলা পুলিশ প্রধান।

এই বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেন, ‘তদন্ত করেই আমরা দ্বিতীয় দফা ছবি প্রকাশ করেছি। জঙ্গিরা যদি আত্মসমর্পণ করে, তবে পুলিশের কাছ থেকে আইনগত সহায়তা পাবে। নইলে জঙ্গিদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জিরো টলারেন্স দেখাবে।’

সরেজমিনে পুরাতন কসবা বিবি রোডে গেলে স্থানীয়রা এই পরিবারের ছয়জনের জঙ্গি সম্পৃক্ততা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন।
জেলা পুলিশের ছাপানো পোস্টারে রয়েছে‒ যশোর শহরের পুরাতন কসবা কদমতলা এলাকার আব্দুল আজিজের ছেলে তানজিব ওরফে আশরাফুল, তার অনুজ তানজির আহমেদ, বোন মাছুমা আক্তার ও মাকসুদা খাতুন, মাকসুদার স্বামী শাকির আহম্মেদ ও মাসুমার স্বামী নাজমুল হাসানের নাম ও ছবি।

স্থানীয় বাসিন্দা এবং আব্দুল আজিজের প্রতিবেশী রোজ হাসান বলেন, ‘কয়েক মাস আগে এই পরিবারের এক ছেলে পুলিশের হাতে আটক হয়। তার বোন-ভাইও আটক হয়। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে তারা জামিনে বের হয়ে আসে। কিন্তু তারা জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িত, তা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। তবে, মাঝে মধ্যে তাদের বাড়ির ছাদে অপরিচিত লোকজনকে বইপত্রসহ দেখা যেত।’

আরেক প্রতিবেশী ইমতিউজ্জামান বলেন, ‘তানজিব আমার সঙ্গে যশোর বিমানবন্দর মাধ্যমিক স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেয়। একই সঙ্গে খেলাধুলাও করত। কিন্তু কখনোই ভাবতে পারিনি, তারা সবাই নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।’

তিনি বলেন, তানজিব সহপাঠী হলেও তাদের বাড়িতে কখনো যাইনি।
প্রতিবেশী আব্দুল কাদির খান জানান, তানজিব তাদের সঙ্গে খেলাধুলা করত, স্থানীয় মসজিদে নামাজ আদায় করতেও দেখা যেত।

তিনি জানান, মঙ্গলবার রাতে ‘একই পরিবারের ছয় সদস্য জঙ্গি শিরোনামে প্রকাশিত খবরটি পড়ে তানজিবদের পরিবারের বিষয়টি জানতে পারি।’ কয়েক মাস ধরে তিনি এই বাড়িতে কাউকে দেখেন না বলেও জানান।

জেলা যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক এবং প্রতিবেশী হাফিজুর রহমান বলেন, ‘কিছু বই, কম্পিউটারসহ এই পরিবারের ছেলে-মেয়ে আটক হলেও কী কারণে তারা মুক্তি পেয়ে যায় তা তার বোধগম্য নয়।’

কথা হয় কদমতলা এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত কলেজশিক্ষক মওলা বক্সের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা এত কাছে থেকেও কখনোই জানতে পারিনি এই পরিবারের ছেলে-মেয়েরা সব জঙ্গি হয়ে গেছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।’

তিনি আরো বলেন, এখন মানুষ বেশ সচেতন। এলাকায় কোনো ছাত্রমেসে কেউ আর ভাড়া দিচ্ছে না।’

আব্দুল আজিজের শ্যালক কাজী শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ববিতা বেগম বলেন, ‘তানজিবের মা মাজেদা আপা মানসিক রোগী ছিলেন। ওই পরিবারের সঙ্গে আমাদের ঠিক বনিবনাও নেই। কথা হয় না কয়েক বছর। তানজিবের বাবা বরিশালের মানুষ। তিনি মিশরে ছিলেন দীর্ঘদিন। সর্বশেষ তার সঙ্গে দেখা হয়েছে তিন বছর আগে।’

স্থানীয় মহিলা কাউন্সিলর নাসিমা আকতার জলি বলেন, ‘মাজেদা আপার মাথায় সমস্যা ছিল। তিনি প্রায়ই রাস্তায় একা একা বকবক করতেন। এই পরিবারের লোকজনকে ভালো হিসেবেই জানতাম। তারা যে বিপথগামী হয়ে গেছে তা জানা ছিল না। তারা যদি সত্যি জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে থাকে, তাহলে চরম অন্যায় করেছে।’

‘ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনায় ভালো ছিল। কিন্তু তারা যে এমন কোনো কাজে জড়িত সেটি আগে জানা ছিল না’, বলেন কাজী শহিদুল।
তানজিবের মামাতো ভাই কাজী রাজিব হাসান বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে ফুফু বা ফুপাতো ভাইবোনের তেমন কোনো সম্পর্ক ছিল না। ওরা থাকত ওদের মতো, আমরা আমাদের মতো। মাঝেমধ্যে পুলিশ আসত তাদের বাড়ি। তারা কোথায় কী করত- তা জানা নেই।’

Tag :

নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ

‘জঙ্গিরা আত্মসমর্পণ করলে আইনি সহায়তা পাবে’

আপডেট টাইম : ০৪:৩০:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬

যশোর : যশোর শহরের পুরাতন কসবা বিবি রোডের (কদমতলা) আব্দুল আজিজের বাড়িতে তিন মাস ধরে তালা ঝুলছে। তাদের আত্মীয়স্বজন এবং প্রতিবেশীরাও জানেন না বাড়ির লোকজন কোথায়।

জঙ্গিরা যদি আত্মসমর্পণ করে, তবে পুলিশ তাদের আইনি সহায়তা দেবে। নইলে জঙ্গিদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে জিরো টলারেন্স, তা পুলিশ দেখাবে বলে জানান জেলা পুলিশ প্রধান।

এই বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেন, ‘তদন্ত করেই আমরা দ্বিতীয় দফা ছবি প্রকাশ করেছি। জঙ্গিরা যদি আত্মসমর্পণ করে, তবে পুলিশের কাছ থেকে আইনগত সহায়তা পাবে। নইলে জঙ্গিদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জিরো টলারেন্স দেখাবে।’

সরেজমিনে পুরাতন কসবা বিবি রোডে গেলে স্থানীয়রা এই পরিবারের ছয়জনের জঙ্গি সম্পৃক্ততা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন।
জেলা পুলিশের ছাপানো পোস্টারে রয়েছে‒ যশোর শহরের পুরাতন কসবা কদমতলা এলাকার আব্দুল আজিজের ছেলে তানজিব ওরফে আশরাফুল, তার অনুজ তানজির আহমেদ, বোন মাছুমা আক্তার ও মাকসুদা খাতুন, মাকসুদার স্বামী শাকির আহম্মেদ ও মাসুমার স্বামী নাজমুল হাসানের নাম ও ছবি।

স্থানীয় বাসিন্দা এবং আব্দুল আজিজের প্রতিবেশী রোজ হাসান বলেন, ‘কয়েক মাস আগে এই পরিবারের এক ছেলে পুলিশের হাতে আটক হয়। তার বোন-ভাইও আটক হয়। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে তারা জামিনে বের হয়ে আসে। কিন্তু তারা জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িত, তা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। তবে, মাঝে মধ্যে তাদের বাড়ির ছাদে অপরিচিত লোকজনকে বইপত্রসহ দেখা যেত।’

আরেক প্রতিবেশী ইমতিউজ্জামান বলেন, ‘তানজিব আমার সঙ্গে যশোর বিমানবন্দর মাধ্যমিক স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেয়। একই সঙ্গে খেলাধুলাও করত। কিন্তু কখনোই ভাবতে পারিনি, তারা সবাই নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।’

তিনি বলেন, তানজিব সহপাঠী হলেও তাদের বাড়িতে কখনো যাইনি।
প্রতিবেশী আব্দুল কাদির খান জানান, তানজিব তাদের সঙ্গে খেলাধুলা করত, স্থানীয় মসজিদে নামাজ আদায় করতেও দেখা যেত।

তিনি জানান, মঙ্গলবার রাতে ‘একই পরিবারের ছয় সদস্য জঙ্গি শিরোনামে প্রকাশিত খবরটি পড়ে তানজিবদের পরিবারের বিষয়টি জানতে পারি।’ কয়েক মাস ধরে তিনি এই বাড়িতে কাউকে দেখেন না বলেও জানান।

জেলা যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক এবং প্রতিবেশী হাফিজুর রহমান বলেন, ‘কিছু বই, কম্পিউটারসহ এই পরিবারের ছেলে-মেয়ে আটক হলেও কী কারণে তারা মুক্তি পেয়ে যায় তা তার বোধগম্য নয়।’

কথা হয় কদমতলা এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত কলেজশিক্ষক মওলা বক্সের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা এত কাছে থেকেও কখনোই জানতে পারিনি এই পরিবারের ছেলে-মেয়েরা সব জঙ্গি হয়ে গেছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।’

তিনি আরো বলেন, এখন মানুষ বেশ সচেতন। এলাকায় কোনো ছাত্রমেসে কেউ আর ভাড়া দিচ্ছে না।’

আব্দুল আজিজের শ্যালক কাজী শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ববিতা বেগম বলেন, ‘তানজিবের মা মাজেদা আপা মানসিক রোগী ছিলেন। ওই পরিবারের সঙ্গে আমাদের ঠিক বনিবনাও নেই। কথা হয় না কয়েক বছর। তানজিবের বাবা বরিশালের মানুষ। তিনি মিশরে ছিলেন দীর্ঘদিন। সর্বশেষ তার সঙ্গে দেখা হয়েছে তিন বছর আগে।’

স্থানীয় মহিলা কাউন্সিলর নাসিমা আকতার জলি বলেন, ‘মাজেদা আপার মাথায় সমস্যা ছিল। তিনি প্রায়ই রাস্তায় একা একা বকবক করতেন। এই পরিবারের লোকজনকে ভালো হিসেবেই জানতাম। তারা যে বিপথগামী হয়ে গেছে তা জানা ছিল না। তারা যদি সত্যি জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে থাকে, তাহলে চরম অন্যায় করেছে।’

‘ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনায় ভালো ছিল। কিন্তু তারা যে এমন কোনো কাজে জড়িত সেটি আগে জানা ছিল না’, বলেন কাজী শহিদুল।
তানজিবের মামাতো ভাই কাজী রাজিব হাসান বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে ফুফু বা ফুপাতো ভাইবোনের তেমন কোনো সম্পর্ক ছিল না। ওরা থাকত ওদের মতো, আমরা আমাদের মতো। মাঝেমধ্যে পুলিশ আসত তাদের বাড়ি। তারা কোথায় কী করত- তা জানা নেই।’