অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

‘‘নজরুলের লেখা থেকেই ‘বাংলাদেশ’ নামটি নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু’’

ডেস্ক : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা থেকেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিয়েছিলেন আমাদের মুক্তির সেই অমর শ্লোগান জয়বাংলা। তার লেখা থেকেই তিনি নিয়েছিলেন আমাদের এই দেশটির নাম বাংলাদেশ। যেটি বঙ্গবন্ধু তার গুরু হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন- আজ থেকে এই দেশটির নাম হবে বাংলাদেশ।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২০তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এসব কথা বলেন।

শনিবার বিকেল তিনটায় কবির বাল্যস্মৃতি বিজরিত দরিরামপুর হাইস্কুল মাঠে নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্মারক বত্তব্য উপস্থাপন করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বাবুর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ধর্ম মন্ত্রণালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সাংসদ রুহুল আমীন মাদানী, বিশ্বভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল, ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক ড. সুভাস চন্দ্র বিশ্বাষ প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, নজরুল ছিলেন কবি, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ, সৈনিক, প্রেমের পূজারী, দেশপ্রেমিক। নিজস্ব চিন্তায় তিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। তৎকালীন কলকাতা মুসলমানদের মাঝে যে ধর্মীয় গোঁড়ামি ছিল তার বিরুদ্ধে নজরুল ছিলেন সর্বদা সোচ্চার। তিনি ছিলেন কবিতার কবি আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন রাজনৈতিক কবি। তাদের মাঝে ছিল এক অপরূপ মিল। বঙ্গবন্ধুই তাকে বাংলাদেশে এনে প্রথম জাতীয় কবির মর্যাদা দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, জীবনের নানা প্রতিকূলতার মধ্যে তার সংগ্রামী জীবন কাটলেও অন্যায়ের কাছে আপস করেননি কখনো কবি নজরুল। স্বাধীকার ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার কারণে ইংরেজ সরকারের জেল জুলুম সহ্য করতে হয়েছে তাকে। অন্যদিকে ধর্ম ব্যবসায়ী ফতোয়াবাজদের মুখোশ খুলে দেওয়ার কারণে তাকে কাফের নামেও অভিহিত হয়েছে। আমরা তার কাছ থেকে লাভ করেছি সাহস, অর্জন করেছি প্রতিবাদের ভাষা।

তিনি বলেন, তিনি শিশু কিশোরদের জন্য লিখেছেন, মুক্তিগামী মানুষের জন্য লিখেছেন, প্রেমময় জীবনের জন্য লিখেছেন, সাম্য ভাতৃত্বের জন্য লিখেছেন, ধর্মের জন্য লিখেছেন, লিখেছেন মর্মের জন্য। আনন্দ বেদনায় লিখেছেন, সম্প্রদায়ের জন্য লিখেছেন, লিখেছেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য। অন্যদিকে তিনি সাংবাদিকতা করেছেন, অভিনয় করেছেন, সঙ্গীত সাধনা করেছেন, ছিলেন রাজনৈতিক ময়দানে, সন্তান লালনের পিতার ভূমিকায় ছিলেন সংসারে।

দীপু মনি আরো বলেন, কবি নজরুল হিন্দু-মুসলমানের সাম্প্রদায়িক বিরোধকে তীব্রভাবে ধিক্কার জানিয়েছেন। তিনি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদের বিরুদ্ধে ও ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে যে রক্ষণশীলতার কুসংস্কার ও পশ্চাৎপদতা ছিল তা দূর করার জন্য তার লেখনি চালিয়েছেন। আমরা তার লেখনিতে দেখি অসাম্প্রদায়ীকতা, তার সঙ্গে মানবিকতা।

এরপর নজরুল মঞ্চে জাতীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। কাল রবিবার নজরুল মঞ্চে ২য় দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

‘‘নজরুলের লেখা থেকেই ‘বাংলাদেশ’ নামটি নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু’’

আপডেট টাইম : ০৯:৩৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০১৯

ডেস্ক : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা থেকেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিয়েছিলেন আমাদের মুক্তির সেই অমর শ্লোগান জয়বাংলা। তার লেখা থেকেই তিনি নিয়েছিলেন আমাদের এই দেশটির নাম বাংলাদেশ। যেটি বঙ্গবন্ধু তার গুরু হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন- আজ থেকে এই দেশটির নাম হবে বাংলাদেশ।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২০তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এসব কথা বলেন।

শনিবার বিকেল তিনটায় কবির বাল্যস্মৃতি বিজরিত দরিরামপুর হাইস্কুল মাঠে নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্মারক বত্তব্য উপস্থাপন করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বাবুর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ধর্ম মন্ত্রণালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সাংসদ রুহুল আমীন মাদানী, বিশ্বভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল, ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক ড. সুভাস চন্দ্র বিশ্বাষ প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, নজরুল ছিলেন কবি, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ, সৈনিক, প্রেমের পূজারী, দেশপ্রেমিক। নিজস্ব চিন্তায় তিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। তৎকালীন কলকাতা মুসলমানদের মাঝে যে ধর্মীয় গোঁড়ামি ছিল তার বিরুদ্ধে নজরুল ছিলেন সর্বদা সোচ্চার। তিনি ছিলেন কবিতার কবি আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন রাজনৈতিক কবি। তাদের মাঝে ছিল এক অপরূপ মিল। বঙ্গবন্ধুই তাকে বাংলাদেশে এনে প্রথম জাতীয় কবির মর্যাদা দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, জীবনের নানা প্রতিকূলতার মধ্যে তার সংগ্রামী জীবন কাটলেও অন্যায়ের কাছে আপস করেননি কখনো কবি নজরুল। স্বাধীকার ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার কারণে ইংরেজ সরকারের জেল জুলুম সহ্য করতে হয়েছে তাকে। অন্যদিকে ধর্ম ব্যবসায়ী ফতোয়াবাজদের মুখোশ খুলে দেওয়ার কারণে তাকে কাফের নামেও অভিহিত হয়েছে। আমরা তার কাছ থেকে লাভ করেছি সাহস, অর্জন করেছি প্রতিবাদের ভাষা।

তিনি বলেন, তিনি শিশু কিশোরদের জন্য লিখেছেন, মুক্তিগামী মানুষের জন্য লিখেছেন, প্রেমময় জীবনের জন্য লিখেছেন, সাম্য ভাতৃত্বের জন্য লিখেছেন, ধর্মের জন্য লিখেছেন, লিখেছেন মর্মের জন্য। আনন্দ বেদনায় লিখেছেন, সম্প্রদায়ের জন্য লিখেছেন, লিখেছেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য। অন্যদিকে তিনি সাংবাদিকতা করেছেন, অভিনয় করেছেন, সঙ্গীত সাধনা করেছেন, ছিলেন রাজনৈতিক ময়দানে, সন্তান লালনের পিতার ভূমিকায় ছিলেন সংসারে।

দীপু মনি আরো বলেন, কবি নজরুল হিন্দু-মুসলমানের সাম্প্রদায়িক বিরোধকে তীব্রভাবে ধিক্কার জানিয়েছেন। তিনি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদের বিরুদ্ধে ও ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে যে রক্ষণশীলতার কুসংস্কার ও পশ্চাৎপদতা ছিল তা দূর করার জন্য তার লেখনি চালিয়েছেন। আমরা তার লেখনিতে দেখি অসাম্প্রদায়ীকতা, তার সঙ্গে মানবিকতা।

এরপর নজরুল মঞ্চে জাতীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। কাল রবিবার নজরুল মঞ্চে ২য় দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।