পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo “বাঙ্গরা বাজার থানা সমিতি-ঢাকা’র নির্বাচন সভাপতি মোমেন, সাধারণ সম্পাদক আবির Logo পাটগ্রামে দবির উদ্দিন চিকিৎসা সহায়তা ফাউন্ডেশনের নগদ সহায়তা প্রদান Logo পাটগ্রামে ইহসান ইয়ুথ সার্কেলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি Logo কায়েতপাড়ায় বসতভিটা রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের মানুষের থানায় গণঅভিযোগ Logo পাটগ্রামে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলা, নারীসহ আহত ৪ Logo পাটগ্রামে রাস্তা ভেঙে চলাচল বন্ধ প্রায় দুই হাজার পরিবারের চলাচলে দুর্ভোগ Logo কুষ্টিয়ায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ

ওসিকে বাসা ছাড়তে বাড়িওয়ালার চাপ করোনা আতঙ্কে

ডেস্কঃ করোনা আতঙ্কে ওসিকে বাসা ছাড়তে বাড়িওয়ালার চাপ
করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে এমন আতঙ্কে ঠাকুরগাঁও সদর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারকে বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন এমন অভিযোগ উঠেছে বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে।

শনিবার রাতে এই অভিযোগ করেন ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভুক্তভোগী ওসি (অপারেশন) নাজমুল হক।

ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গত ১১ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার জমিদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা রতন নামে এক ব্যক্তির পাকা ভবনে পরিবারসহ ঘরভাড়া নেন। প্রথমদিকে বাসার মালিকের ব্যবহার ভালো থাকলেও বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে ব্যবহারে পরিবর্তন এসেছে।

বাসার মালিকের ধারণা, সারাদিনে জেলার বিভিন্ন জায়গায় ডিউটি করার ফলে এই পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে হয়তো সেই বাসায় করোনা ছড়াবে।

এছাড়া সেই বাসায় এর আগে কনস্টেবল আলমগীর ও এএসআই জসিম তাদের পরিবার নিয়ে বাস করতেন। তাদেরকেও নানাভাবে হয়রানি করে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করেছেন বাড়ির মালিক।

ওসি নাজমুল হক বলেন, দেশে করোনাভাইরাস মহামারিতে রূপ নেয়ার পর থেকে ঘর ছেড়ে দেয়ার জন্য নানাভাবে চাপ দিতে শুরু করেন ওই বাড়ির মালিক।

তারা মনে করে আমি বাড়িতে করোনাভাইরাস নিয়ে এসেছি। এ কারণে তারা আমাদের চাপ প্রয়োগ করে বাসা ছেড়ে দেবার জন্য। করোনাভাইরাস থেকে মানুষদের জীবন বাঁচাতে আমরা যখন কাজ করছি ঠিক তখন বাড়ি মালিকের এমন আচরণ মনে কষ্টে দেয়। এ সময়ে নতুন করে কোথায় ঘরভাড়া পাব? পুলিশ বলে কি বাড়ির মালিকরা আমাদের মানুষ মনে করে না?

তিনি আরও বলেন, মহামারির এই সময়ে জনগণের জন্য আমাদের মাঠপর্যায়ে কাজ করতে হয় সবসময়। কিন্তু কাজ শেষে বাড়িতে ফিরলে শুনতে হয় বাড়ি মালিকের এমন আচরণ।

সম্প্রতি বাড়ি ছেড়ে দেয়া পুলিশ কনস্টেবল আলমগীর বলেন, করোনার আগে বাড়ি মালিক রতন ও তার স্ত্রী আচরণ স্বাভাবিক ছিল। করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার পর থেকেই ঘর ছেড়ে দিতে মালিক পক্ষ নানা হয়রানি করে। বাধ্য হয়ে ঘর ছেড়ে দিয়েছি।

এ বিষয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভিরুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগেও ওই বাড়ি মালিক দুই পুলিশ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ঘর ছাড়া করেছিল। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বাড়ি মালিক রতনের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

“বাঙ্গরা বাজার থানা সমিতি-ঢাকা’র নির্বাচন সভাপতি মোমেন, সাধারণ সম্পাদক আবির

ওসিকে বাসা ছাড়তে বাড়িওয়ালার চাপ করোনা আতঙ্কে

আপডেট টাইম : ০৯:৫২:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২০

ডেস্কঃ করোনা আতঙ্কে ওসিকে বাসা ছাড়তে বাড়িওয়ালার চাপ
করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে এমন আতঙ্কে ঠাকুরগাঁও সদর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারকে বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন এমন অভিযোগ উঠেছে বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে।

শনিবার রাতে এই অভিযোগ করেন ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভুক্তভোগী ওসি (অপারেশন) নাজমুল হক।

ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গত ১১ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার জমিদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা রতন নামে এক ব্যক্তির পাকা ভবনে পরিবারসহ ঘরভাড়া নেন। প্রথমদিকে বাসার মালিকের ব্যবহার ভালো থাকলেও বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে ব্যবহারে পরিবর্তন এসেছে।

বাসার মালিকের ধারণা, সারাদিনে জেলার বিভিন্ন জায়গায় ডিউটি করার ফলে এই পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে হয়তো সেই বাসায় করোনা ছড়াবে।

এছাড়া সেই বাসায় এর আগে কনস্টেবল আলমগীর ও এএসআই জসিম তাদের পরিবার নিয়ে বাস করতেন। তাদেরকেও নানাভাবে হয়রানি করে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করেছেন বাড়ির মালিক।

ওসি নাজমুল হক বলেন, দেশে করোনাভাইরাস মহামারিতে রূপ নেয়ার পর থেকে ঘর ছেড়ে দেয়ার জন্য নানাভাবে চাপ দিতে শুরু করেন ওই বাড়ির মালিক।

তারা মনে করে আমি বাড়িতে করোনাভাইরাস নিয়ে এসেছি। এ কারণে তারা আমাদের চাপ প্রয়োগ করে বাসা ছেড়ে দেবার জন্য। করোনাভাইরাস থেকে মানুষদের জীবন বাঁচাতে আমরা যখন কাজ করছি ঠিক তখন বাড়ি মালিকের এমন আচরণ মনে কষ্টে দেয়। এ সময়ে নতুন করে কোথায় ঘরভাড়া পাব? পুলিশ বলে কি বাড়ির মালিকরা আমাদের মানুষ মনে করে না?

তিনি আরও বলেন, মহামারির এই সময়ে জনগণের জন্য আমাদের মাঠপর্যায়ে কাজ করতে হয় সবসময়। কিন্তু কাজ শেষে বাড়িতে ফিরলে শুনতে হয় বাড়ি মালিকের এমন আচরণ।

সম্প্রতি বাড়ি ছেড়ে দেয়া পুলিশ কনস্টেবল আলমগীর বলেন, করোনার আগে বাড়ি মালিক রতন ও তার স্ত্রী আচরণ স্বাভাবিক ছিল। করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার পর থেকেই ঘর ছেড়ে দিতে মালিক পক্ষ নানা হয়রানি করে। বাধ্য হয়ে ঘর ছেড়ে দিয়েছি।

এ বিষয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভিরুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগেও ওই বাড়ি মালিক দুই পুলিশ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ঘর ছাড়া করেছিল। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বাড়ি মালিক রতনের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।