পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

খুলনায় মসজিদের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে গুলিতে দুইজন নিহত, গুলিবিদ্ধ ৭

খুলনা প্রতিনিধি : আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুর্বৃত্তদের গুলিতে খুলনার ফুলতলা উপজেলার মশিয়ালী গ্রামে নজরুল ইসলাম শেখ (৬০) ও গোলাম রসুল শেখ (৩০) নামে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ সময় ৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় এই ঘটনা ঘটে। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে রাত সাড়ে ১০টায় অভিযুক্তদের বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ করেন গ্রামবাসী।

গ্রামবাসী অভিযোগ করেছেন, হামলার সময় অস্ত্রধারীদের নেতৃত্বে ছিলেন শ্রমিক নেতা জাকারিয়া ও বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা জাফরিন। নিহত নজরুল ইসলাম শেখ মশিয়ালী গ্রামের মৃত বারী শেখের ছেলে। তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত আলিম জুট মিলের শ্রমিক ছিলেন। এছাড়া নিহত গোলাম রসুল একইগ্রামের ইউনুস শেখের ছেলে। তিনি রাজমিস্ত্রীর সহকারী হিসেবে কাজ করতেন।

ফুলতলা উপজেলা কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নজরুল ইসলামের বুকে ৩টি এবং গোলাম রসুলের মাথায় ও মুখে দুটি গুলিবিদ্ধ হয়। হাসপাতালের আনার আগেই তারা মারা যান। এ সময় আরও ৭ ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তারা হলেন- সাইফুল (২২), আফসার শেখ (৬৫), শামীম শেখ (২৭), রবি শেখ (৪০), খলিল (৩০), রানা (২২) ও সুজন শেখ (২৩)। এদের কারও মুখে ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুলি লেগেছে। তারা সবাই মশিয়ালী গ্রামের বসবাস করেন।

গ্রামবাসী জানায়, বিভিন্ন সময় আলিম জুট মিলের বকেয়া পাওনা ও শ্রমিক আন্দোলন নিয়ে সরকার সমর্থক শ্রমিক নেতা জাকারিয়া, তার ভাই খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের বহিস্কৃত সহ-সভাপতি জাফরিন হাসান শ্রমিকদের হুমকির মুখে রাখতেন। বিভিন্ন সময় আন্দোলনকারী শ্রমিকদের মারধরও করতেন তারা। এছাড়া একটি মেয়েলি বিষয়কে কেন্দ্র করে ওই গ্রামে বসবাসরত অন্য শ্রমিকদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। গ্রামের শ্রমিকদের শায়েস্তা করতে রাত সাড়ে ৮টায় ৪০/৫০ জনের একটি সশস্ত্র দল নিয়ে গ্রামে প্রবেশ করেন জাকারিয়া ও জাফরিন। তাদের বাঁধা দিলে তারা এলোপাতাড়ি গুলি শুরু করেন। এতে নিরস্ত্র গ্রামবাসী আহত ও গুলিবিদ্ধ হন। এর মধ্যে মশিয়ালী গ্রামের হাড়াতলা এলাকা থেকে দুই জনের মরদেহ ও আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ব্যাপারে খানজাহান আলী থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গুলিতে দুইজন নিহত ও কয়েকদিন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

খুলনায় মসজিদের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে গুলিতে দুইজন নিহত, গুলিবিদ্ধ ৭

আপডেট টাইম : ০৫:৫২:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২০

খুলনা প্রতিনিধি : আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুর্বৃত্তদের গুলিতে খুলনার ফুলতলা উপজেলার মশিয়ালী গ্রামে নজরুল ইসলাম শেখ (৬০) ও গোলাম রসুল শেখ (৩০) নামে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ সময় ৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় এই ঘটনা ঘটে। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে রাত সাড়ে ১০টায় অভিযুক্তদের বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ করেন গ্রামবাসী।

গ্রামবাসী অভিযোগ করেছেন, হামলার সময় অস্ত্রধারীদের নেতৃত্বে ছিলেন শ্রমিক নেতা জাকারিয়া ও বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা জাফরিন। নিহত নজরুল ইসলাম শেখ মশিয়ালী গ্রামের মৃত বারী শেখের ছেলে। তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত আলিম জুট মিলের শ্রমিক ছিলেন। এছাড়া নিহত গোলাম রসুল একইগ্রামের ইউনুস শেখের ছেলে। তিনি রাজমিস্ত্রীর সহকারী হিসেবে কাজ করতেন।

ফুলতলা উপজেলা কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নজরুল ইসলামের বুকে ৩টি এবং গোলাম রসুলের মাথায় ও মুখে দুটি গুলিবিদ্ধ হয়। হাসপাতালের আনার আগেই তারা মারা যান। এ সময় আরও ৭ ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তারা হলেন- সাইফুল (২২), আফসার শেখ (৬৫), শামীম শেখ (২৭), রবি শেখ (৪০), খলিল (৩০), রানা (২২) ও সুজন শেখ (২৩)। এদের কারও মুখে ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুলি লেগেছে। তারা সবাই মশিয়ালী গ্রামের বসবাস করেন।

গ্রামবাসী জানায়, বিভিন্ন সময় আলিম জুট মিলের বকেয়া পাওনা ও শ্রমিক আন্দোলন নিয়ে সরকার সমর্থক শ্রমিক নেতা জাকারিয়া, তার ভাই খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের বহিস্কৃত সহ-সভাপতি জাফরিন হাসান শ্রমিকদের হুমকির মুখে রাখতেন। বিভিন্ন সময় আন্দোলনকারী শ্রমিকদের মারধরও করতেন তারা। এছাড়া একটি মেয়েলি বিষয়কে কেন্দ্র করে ওই গ্রামে বসবাসরত অন্য শ্রমিকদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। গ্রামের শ্রমিকদের শায়েস্তা করতে রাত সাড়ে ৮টায় ৪০/৫০ জনের একটি সশস্ত্র দল নিয়ে গ্রামে প্রবেশ করেন জাকারিয়া ও জাফরিন। তাদের বাঁধা দিলে তারা এলোপাতাড়ি গুলি শুরু করেন। এতে নিরস্ত্র গ্রামবাসী আহত ও গুলিবিদ্ধ হন। এর মধ্যে মশিয়ালী গ্রামের হাড়াতলা এলাকা থেকে দুই জনের মরদেহ ও আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ব্যাপারে খানজাহান আলী থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গুলিতে দুইজন নিহত ও কয়েকদিন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।