পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

ছেলেকে বাঁচাতে যাওয়ায় বাবাকে পিটিয়ে মারলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান

ডেস্কঃ ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও তার সমর্থকদের মারপিটে নিহত হয়েছেন লুৎফর নিকারী নামে এক মাছ ব্যবসায়ী। সোমবার রাত ১১টার দিকে সাতক্ষীরার তালা সদরের নলবুনিয়া বিলে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে মরদেহ নিয়ে মিছিল করে তালা থানা ঘেরাও করে গ্রামবাসী। এ সময় হাজার হাজার গ্রামবাসী ‘খুনিদের ফাঁসি চাই’ স্লোগান দিতে থাকেন।
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী রাসেল জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সরদার মশিয়ার রহমানকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিহত লুৎফর নিকারী (৬৫) তালা সদরের জেয়ালা নিকারীপাড়ার মৃত আইজুল নিকারীর ছেলে। আর আটক মশিয়ার রহমান সরদার তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও তালা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান।
নিহতের ভাতিজা জেয়ালা নলতা গ্রামের রুহুল আমিন নিকারী জানান, নলবুনিয়া বিলের সরকারি খালে মাছ ধরছিলেন লুৎফর নিকারীর ছেলে সেলিম নিকারী। ওই খালের সঙ্গে ভাইস চেয়ারম্যান সরদার মশিয়ার রহমানের মাছের ঘেরের ভেড়ী রয়েছে। খাল থেকে ধরে সেলিমকে আটকে রাখেন মশিয়ারের সহযোগী রনি। এরপর সরদার মশিয়ার ঘটনাস্থলে পৌঁছে বারুইহাটি গ্রামের রনি, ওই গ্রামের মোসলেম শেখের ছেলে তুহিন শেখসহ তিনজন মিলে তাকে মারপিট করেন।
ছেলেকে মারপিটের ঘটনা শুনে বাবা লুৎফর নিকারী ঘটনাস্থলে দৌড়ে যান। সেখানে যাওয়া মাত্রই সরদার মশিয়ার, তুহিন ও রনি তাকেও মারপিট করেন। পরে গ্রামবাসী গিয়ে লুৎফর রহমানকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। সেলিমকেও তার পাশে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।

ওই এলাকার হযরত নিকারী জানান, সেলিম নিকারী বর্তমানে তালা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তার কানের পর্দা ফেটে গেছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। এই সন্ত্রাসী পরিবারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এ ঘটনায় রাতেই পুলিশের জরুরি সেবা সার্ভিস ৯৯৯ এ ফোন দেয় স্থানীয়রা। তারপর রাতেই অভিযান চালিয়ে সরদার মশিয়ারকে আটক করে পুলিশ।

Tag :

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

ছেলেকে বাঁচাতে যাওয়ায় বাবাকে পিটিয়ে মারলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান

আপডেট টাইম : ০৩:৩৬:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২০

ডেস্কঃ ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও তার সমর্থকদের মারপিটে নিহত হয়েছেন লুৎফর নিকারী নামে এক মাছ ব্যবসায়ী। সোমবার রাত ১১টার দিকে সাতক্ষীরার তালা সদরের নলবুনিয়া বিলে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে মরদেহ নিয়ে মিছিল করে তালা থানা ঘেরাও করে গ্রামবাসী। এ সময় হাজার হাজার গ্রামবাসী ‘খুনিদের ফাঁসি চাই’ স্লোগান দিতে থাকেন।
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী রাসেল জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সরদার মশিয়ার রহমানকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিহত লুৎফর নিকারী (৬৫) তালা সদরের জেয়ালা নিকারীপাড়ার মৃত আইজুল নিকারীর ছেলে। আর আটক মশিয়ার রহমান সরদার তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও তালা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান।
নিহতের ভাতিজা জেয়ালা নলতা গ্রামের রুহুল আমিন নিকারী জানান, নলবুনিয়া বিলের সরকারি খালে মাছ ধরছিলেন লুৎফর নিকারীর ছেলে সেলিম নিকারী। ওই খালের সঙ্গে ভাইস চেয়ারম্যান সরদার মশিয়ার রহমানের মাছের ঘেরের ভেড়ী রয়েছে। খাল থেকে ধরে সেলিমকে আটকে রাখেন মশিয়ারের সহযোগী রনি। এরপর সরদার মশিয়ার ঘটনাস্থলে পৌঁছে বারুইহাটি গ্রামের রনি, ওই গ্রামের মোসলেম শেখের ছেলে তুহিন শেখসহ তিনজন মিলে তাকে মারপিট করেন।
ছেলেকে মারপিটের ঘটনা শুনে বাবা লুৎফর নিকারী ঘটনাস্থলে দৌড়ে যান। সেখানে যাওয়া মাত্রই সরদার মশিয়ার, তুহিন ও রনি তাকেও মারপিট করেন। পরে গ্রামবাসী গিয়ে লুৎফর রহমানকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। সেলিমকেও তার পাশে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।

ওই এলাকার হযরত নিকারী জানান, সেলিম নিকারী বর্তমানে তালা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তার কানের পর্দা ফেটে গেছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। এই সন্ত্রাসী পরিবারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এ ঘটনায় রাতেই পুলিশের জরুরি সেবা সার্ভিস ৯৯৯ এ ফোন দেয় স্থানীয়রা। তারপর রাতেই অভিযান চালিয়ে সরদার মশিয়ারকে আটক করে পুলিশ।