পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ Logo নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে আহসানুজ্জামানের দুর্নীতির অভিযোগ Logo গণপূর্তে খালেকুজ্জামান সিন্ডিকেটের ‘রাজত্ব’ দেখার যেনো কেউ নেই Logo মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ০৫ দালালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে Logo সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর মাধুর্যের অনন্য নাম—মারিয়ম ইকো Logo বাউফলে সাংবাদিক এনাকে সংবাদ প্রকাশে বাধা ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন

শুরু হলো রক্তে রাঙ্গানো ভাষার মাস

ডেস্ক: আত্মত্যাগ, অহংকার, চেতনা আর গৌরবের মাস ফেব্রুয়ারি শুরু হলো। মায়ের ভাষার অধিকার আদায়ে ১৯৫২ সালের এই মাসে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলেছিল বাঙালি। সেই আন্দোলন দমাতে ২১ তারিখ চরম রুদ্র রূপ ধারণ করেছিল পাকিস্তানি সরকার। মিছিলের ওপর গুলি চলে। ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হয় বাংলার দামাল ছেলেদের তপ্ত রক্তে। ভাষার মান প্রতিষ্ঠায় বিলিয়ে দেন নিজের প্রিয়তম প্রাণ। আর এই প্রাণের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠা পায় বাংলা ভাষার মর্যাদা।

ভাষা আন্দোলনে সফলতার পর বাঙালি মনোনিবেশ করে স্বাধিকার আন্দোলনে। দীর্ঘ ২৩ বছরের লড়াই-সংগ্রামের মধ্যদিয়ে অর্জিত হয় লাল-সবুজের পতাকা আর একটি সবুজ-শ্যামল ভূখণ্ড। স্বাধিকার আন্দোলনের এই বীজ রোপিত হয়েছিল ভাষা আন্দোলনের মধ্যদিয়েই। তাই তো ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি বাঙালির কাছে এত তাৎপর্যমণ্ডিত। সে কারণে এ মাস এলেই আবেগাপ্লুত হয় বাঙালি। ভাষাপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে নব আবেগে শানিত করে চেতনা। তাই তো ফেব্রুয়ারি বাঙালির অবিনাশী চেতনার অফুরন্ত ঝরনাধারা।
বস্তুত ফেব্রুয়ারি মাস এক দিকে শোকাবহ হলেও অন্য দিকে আছে এর গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। কারণ পৃথিবীর একমাত্র জাতি বাঙালি, যারা নিজেদের ভাষার জন্য এ মাসে জীবন দিয়েছিল।

নানা অনুষ্ঠান আর আনুষ্ঠানিকতায় বাঙালি উদ্যাপন করে ভাষার মাস। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বইপড়ার প্রতি আগ্রহান্বিত করাসহ সার্বিক জ্ঞানচর্চায় উজ্জীবিত করার কাজের বড় অংশ এ মাসকে ঘিরে। বৈশ্বিক মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে এবারের বাস্তবতা ভিন্ন। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত আর স্বাস্থ্যবিধির কড়াকড়ির কারণে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবার আশানুরূপ দেখা যাবে না। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর কেন্দ্রীর কর্মসূচিতে হয়তো ভাটা দেখা যাবে।

করোনা মহামারীর কারনে ইতোমধ্যে অমর একুশে বইমেলা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৮ মার্চ শুরু হবে এই মেলা। যদিও সময়মতো একুশে পদক ঘোষণা হবে। একুশের দিনে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ কর্মসূচি উদ্যাপনের ঘোষণাও এসেছে।

ভাষার জন্য বাংলার দামাল ছেলেদের আত্মত্যাগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মেলে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর। এদিন ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসাবে ঘোষণা করে। এর পর থেকে দিবসটি বিশ্বের ভাষাপ্রেমী অন্য জাতিগুলোও উদ্যাপন করে আসছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে যুবকের মৃত্যুর বিচার দাবিতে লাশ রেখে মহাসড়ক অবরোধ

শুরু হলো রক্তে রাঙ্গানো ভাষার মাস

আপডেট টাইম : ০৭:১৮:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২১

ডেস্ক: আত্মত্যাগ, অহংকার, চেতনা আর গৌরবের মাস ফেব্রুয়ারি শুরু হলো। মায়ের ভাষার অধিকার আদায়ে ১৯৫২ সালের এই মাসে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলেছিল বাঙালি। সেই আন্দোলন দমাতে ২১ তারিখ চরম রুদ্র রূপ ধারণ করেছিল পাকিস্তানি সরকার। মিছিলের ওপর গুলি চলে। ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হয় বাংলার দামাল ছেলেদের তপ্ত রক্তে। ভাষার মান প্রতিষ্ঠায় বিলিয়ে দেন নিজের প্রিয়তম প্রাণ। আর এই প্রাণের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠা পায় বাংলা ভাষার মর্যাদা।

ভাষা আন্দোলনে সফলতার পর বাঙালি মনোনিবেশ করে স্বাধিকার আন্দোলনে। দীর্ঘ ২৩ বছরের লড়াই-সংগ্রামের মধ্যদিয়ে অর্জিত হয় লাল-সবুজের পতাকা আর একটি সবুজ-শ্যামল ভূখণ্ড। স্বাধিকার আন্দোলনের এই বীজ রোপিত হয়েছিল ভাষা আন্দোলনের মধ্যদিয়েই। তাই তো ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি বাঙালির কাছে এত তাৎপর্যমণ্ডিত। সে কারণে এ মাস এলেই আবেগাপ্লুত হয় বাঙালি। ভাষাপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে নব আবেগে শানিত করে চেতনা। তাই তো ফেব্রুয়ারি বাঙালির অবিনাশী চেতনার অফুরন্ত ঝরনাধারা।
বস্তুত ফেব্রুয়ারি মাস এক দিকে শোকাবহ হলেও অন্য দিকে আছে এর গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। কারণ পৃথিবীর একমাত্র জাতি বাঙালি, যারা নিজেদের ভাষার জন্য এ মাসে জীবন দিয়েছিল।

নানা অনুষ্ঠান আর আনুষ্ঠানিকতায় বাঙালি উদ্যাপন করে ভাষার মাস। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বইপড়ার প্রতি আগ্রহান্বিত করাসহ সার্বিক জ্ঞানচর্চায় উজ্জীবিত করার কাজের বড় অংশ এ মাসকে ঘিরে। বৈশ্বিক মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে এবারের বাস্তবতা ভিন্ন। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত আর স্বাস্থ্যবিধির কড়াকড়ির কারণে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবার আশানুরূপ দেখা যাবে না। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর কেন্দ্রীর কর্মসূচিতে হয়তো ভাটা দেখা যাবে।

করোনা মহামারীর কারনে ইতোমধ্যে অমর একুশে বইমেলা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৮ মার্চ শুরু হবে এই মেলা। যদিও সময়মতো একুশে পদক ঘোষণা হবে। একুশের দিনে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ কর্মসূচি উদ্যাপনের ঘোষণাও এসেছে।

ভাষার জন্য বাংলার দামাল ছেলেদের আত্মত্যাগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মেলে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর। এদিন ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসাবে ঘোষণা করে। এর পর থেকে দিবসটি বিশ্বের ভাষাপ্রেমী অন্য জাতিগুলোও উদ্যাপন করে আসছে।