অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo মাদক থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ত্রাণমন্ত্রী দুলু Logo গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংসদ ভবন ঘুরিয়ে দেখাবেন এমপি রাজিব প্রধান Logo প্রেমের আড়ালে প্রতারণার ফাঁদ, বড় পর্দায় আসছে সুমন পলাশের ‘ফিল্টার’ Logo লালমনিরহাট সীমান্তে ৬১ বিজিবির অভিযানে ২৮ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য ও মাদক আটক Logo পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ১২ গরু ও মোটরসাইকেল জব্দ Logo প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে লালমনিরহাটে যুবদলের হুইলচেয়ার বিতরণ Logo পাটগ্রামে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক Logo লালমনিরহাট সনাকের নতুন সভাপতি ডা. কাসেম আলী, সহসভাপতি আবু হাসনাত রানা Logo সারের দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ, ডিলারের বিরুদ্ধে কালোবাজারির অভিযোগ Logo জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে নতুন বাজারে রোড শো ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম

লালমনিরহাটে একই উঠোনে মসজিদ ও মন্দির, ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক লালমনিরহাট:
লালমনিরহাটে একই উঠোনে মসজিদ ও মন্দির।
এ যেন ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলছে যুগ যুগ ধরে ।

এক পাশে ধূপকাঠি, অন্য পাশে আতরের সুঘ্রাণ। এক পাশে উলুধ্বনি, অন্য পাশে চলছে জিকির দুটি পৃথক ধর্মীয় উপাসনালয়। যার যা ধর্ম সুষ্ঠুভাবে পালন করে চলছে এখানকার মানুষ।

ধর্মীয় সম্প্রীতির এমন উজ্জ্বল নিদর্শন সৃষ্টি করে চলছে সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাট শহরের পুরান বাজার নামক এলাকায়।

একই আঙিনায় প্রায় ২০০ বছর ধরে সহাবস্থান মন্দির ও মসজিদের।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাগেছে, ১৮৩৬ সালে কালী মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং ওই সময়ে লালমনিরহাট শহরে কালীবাড়ী এলাকার পুরান বাজারে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ধর্মপ্রাণ মুসলমান ব্যবসায়ীরা নামাজ পড়ার জন্য একটি মসজিদের প্রয়োজন হয়েছিল এজন্য মন্দিরের পাশেই একটি ছোট ঘর তোলেন তারা। আর সেটির নামকরণও করা হয় পুরান বাজার জামে মসজিদ।

সেই সময় থেকে এক উঠোনে চলছে দুই ধর্মের দুই উপাসনালয়। পূজা শুরুর আগে মসজিদ ও মন্দির কমিটি বসে সিদ্ধান্ত নেন।

কয়েক যুগ কেটে গেলেও এখন পর্যন্ত মন্দির-মসজিদ নিয়ে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি তারা আশা করছেন আর কখনও ঘটবে ও না ।

ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মন্দির ও মসজিদ দেখতে প্রতিদিন দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসছে সাধারণ মানুষ।

উল্লেখ্য যে, ইতি ইতিপূর্বে য়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতও এই মন্দির ও মসজিদ পরিদর্শন করেছিলেন।

আজানের সময় থেকে নামাজের প্রথম জামায়াত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মন্দিরে ঢাক ও ঢোলসহ যাবতীয় শব্দ বন্ধ থাকে। নামাজের প্রথম জামায়াত শেষ হলে মন্দিরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়ে যায়। এখানে কোনো বিশৃঙ্খলাও হয় না।

শালীনতা বজায় রেখে একই উঠানে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন উভয় ধর্মের মানুষেররা।পুরান বাজার জামে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, ঐতিহ্যবাহী পুরান বাজার মসজিদের পাশেই রয়েছে মন্দির। মসজিদের আগে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবুও এখানে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবশ্রেণির মানুষ স্বাধীনভাবে ঘুরতে আসেন। আমরা মন্দির কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করি। তারাও আমাদের সহযোগিতা করেন। নামাজের সময় মন্দিরের ঢাক-ঢোল বন্ধ রাখা হয়। কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই যুগ যুগ ধরে চলছে এ সম্প্রীতির বন্ধন।

কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী মন্দিরের সভাপতি ও প্রধান পুরোহিত শংকর চক্রবর্তী জানান, ১৮৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এলাকার নামকরণও করা হয় কালীবাড়ী। পরে এখানে বাজার গড়ে উঠলে বাজারের ব্যবসায়ী ও শহরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মন্দিরের পাশেই প্রতিষ্ঠা করেন পুরান বাজার জামে মসজিদ। সেই থেকে এক উঠানে চলছে দুই ধর্মের দুই উপাসনালয়ের কার্যক্রম। সামান্য বিশৃঙ্খলাও হয় না এখানে। জন্মের পর থেকে এভাবে চলতে দেখছেন তিনি।

এ বিষয়ে,লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্ল্যাহ জানিয়েছেন, এখানকার মানুষ সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থানে বিশ্বাস করেন। এর প্রমাণ এক উঠোনে কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী মন্দির ও পুরান বাজার জামে মসজিদটি।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ত্রাণমন্ত্রী দুলু

লালমনিরহাটে একই উঠোনে মসজিদ ও মন্দির, ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

আপডেট টাইম : ১০:০৪:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০২৩

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক লালমনিরহাট:
লালমনিরহাটে একই উঠোনে মসজিদ ও মন্দির।
এ যেন ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলছে যুগ যুগ ধরে ।

এক পাশে ধূপকাঠি, অন্য পাশে আতরের সুঘ্রাণ। এক পাশে উলুধ্বনি, অন্য পাশে চলছে জিকির দুটি পৃথক ধর্মীয় উপাসনালয়। যার যা ধর্ম সুষ্ঠুভাবে পালন করে চলছে এখানকার মানুষ।

ধর্মীয় সম্প্রীতির এমন উজ্জ্বল নিদর্শন সৃষ্টি করে চলছে সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাট শহরের পুরান বাজার নামক এলাকায়।

একই আঙিনায় প্রায় ২০০ বছর ধরে সহাবস্থান মন্দির ও মসজিদের।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাগেছে, ১৮৩৬ সালে কালী মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং ওই সময়ে লালমনিরহাট শহরে কালীবাড়ী এলাকার পুরান বাজারে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ধর্মপ্রাণ মুসলমান ব্যবসায়ীরা নামাজ পড়ার জন্য একটি মসজিদের প্রয়োজন হয়েছিল এজন্য মন্দিরের পাশেই একটি ছোট ঘর তোলেন তারা। আর সেটির নামকরণও করা হয় পুরান বাজার জামে মসজিদ।

সেই সময় থেকে এক উঠোনে চলছে দুই ধর্মের দুই উপাসনালয়। পূজা শুরুর আগে মসজিদ ও মন্দির কমিটি বসে সিদ্ধান্ত নেন।

কয়েক যুগ কেটে গেলেও এখন পর্যন্ত মন্দির-মসজিদ নিয়ে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি তারা আশা করছেন আর কখনও ঘটবে ও না ।

ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মন্দির ও মসজিদ দেখতে প্রতিদিন দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসছে সাধারণ মানুষ।

উল্লেখ্য যে, ইতি ইতিপূর্বে য়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতও এই মন্দির ও মসজিদ পরিদর্শন করেছিলেন।

আজানের সময় থেকে নামাজের প্রথম জামায়াত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মন্দিরে ঢাক ও ঢোলসহ যাবতীয় শব্দ বন্ধ থাকে। নামাজের প্রথম জামায়াত শেষ হলে মন্দিরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়ে যায়। এখানে কোনো বিশৃঙ্খলাও হয় না।

শালীনতা বজায় রেখে একই উঠানে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন উভয় ধর্মের মানুষেররা।পুরান বাজার জামে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, ঐতিহ্যবাহী পুরান বাজার মসজিদের পাশেই রয়েছে মন্দির। মসজিদের আগে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবুও এখানে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবশ্রেণির মানুষ স্বাধীনভাবে ঘুরতে আসেন। আমরা মন্দির কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করি। তারাও আমাদের সহযোগিতা করেন। নামাজের সময় মন্দিরের ঢাক-ঢোল বন্ধ রাখা হয়। কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই যুগ যুগ ধরে চলছে এ সম্প্রীতির বন্ধন।

কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী মন্দিরের সভাপতি ও প্রধান পুরোহিত শংকর চক্রবর্তী জানান, ১৮৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এলাকার নামকরণও করা হয় কালীবাড়ী। পরে এখানে বাজার গড়ে উঠলে বাজারের ব্যবসায়ী ও শহরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মন্দিরের পাশেই প্রতিষ্ঠা করেন পুরান বাজার জামে মসজিদ। সেই থেকে এক উঠানে চলছে দুই ধর্মের দুই উপাসনালয়ের কার্যক্রম। সামান্য বিশৃঙ্খলাও হয় না এখানে। জন্মের পর থেকে এভাবে চলতে দেখছেন তিনি।

এ বিষয়ে,লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্ল্যাহ জানিয়েছেন, এখানকার মানুষ সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থানে বিশ্বাস করেন। এর প্রমাণ এক উঠোনে কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী মন্দির ও পুরান বাজার জামে মসজিদটি।