পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

ফেব্রুয়ারী মাসের একটাই শিক্ষা,ভাষাকে ভালোবাসুন

রাকিব হোসেন মিলন
আমরা বাঙালি, বাংলা আমাদের প্রাণের মাতৃভাষা। এই মাতৃভাষার পাওয়ার জন্য রাজপথে নেমে এক সাগর রক্ত ঢেলে দিয়েছিল বাংলার বীর সাহসী সন্তানরা। সেই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতি বছর পালিত হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। পুরো ফেব্রুয়ারী মাসটি ই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে বাংলা ভাষার স্থান সপ্তম। একটি ভাষার বেড়ে ওঠা, প্রচার প্রসারের পেছনে থাকে বহু ত্যাগ সীমাহীন শ্রম ও সাধনা। বাংলা ভাষা আমাদের অত্যন্ত আবেগ ও মর্যাদার সম্পদ। কিন্তু আমরা কি মাতৃভাষা ও আমাদের প্রিয় বাংলা ভাষার মর্যাদা সংরক্ষণ করতে পারছি?

আর্থিক সংগতিসম্পন্ন পরিবার তাদের সন্তানকে বাংলা মাধ্যম স্কুলের পরিবর্তে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ভর্তি করাতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। টকশো রেডিও টেলিভিশন নাটক সভা সেমিনারে বাড়ছে ইংরেজির দাপট। বাংলা ক্রমশ হয়ে পড়ছে গরিবের ভাষা। এর জন্য দায়ী আমাদের রাষ্ট্রীয় মানুসিকতা। আছে আমাদের কার্যকরী উদ্যোগের অভাব। অন্যদিকে ভালো ইংরেজি জানা না থাকলে আজকালের বাজারে চাকরি পাওয়া দুরূহ হয়ে উঠেছে । এজন্যই পারিপার্শ্বিক অবস্থার বিচারে ছেলেমেয়েরা বাংলা ভাষাকে উপেক্ষা করে চলছে প্রতিনিয়ত। বাস্তব বিষয় হলো কথ্য বাংলা একদিকে আঞ্চলিকতায় ভরপুর। অন্যদিকে ইংরেজি শব্দের অপপ্রয়োগে ভারাক্রান্ত আমাদের প্রিয় বাংলা ভাষা।

বলা যায় ভাষার প্রতি অনীহা এবং অশ্রদ্ধা থেকেই এই বিকৃতি। শুধু শিক্ষাদানে নয়, শিক্ষা পদ্ধতিতেও ঘটে গেছে বিবর্তন। তৈরি হয়েছে দুটো শ্রেণি। ইংরেজি স্কুলে পড়া বাংলা লিখতে পড়তে না জানা ‘স্মার্ট’ প্রজন্ম এবং বাংলা মাধ্যমে পড়া ইংরেজিতে দুর্বল লজ্জিত কুণ্ঠিত প্রজন্ম। নতুন নতুন ঢঙে বিকৃত হচ্ছে মৌলিক বাংলা শব্দগুলো। বিদ্যালয়, কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ভাষা প্রেম তেমন ফুটে ওঠে না। পরিবেশে নিজেকে একটু শিক্ষিত বা মার্জিতভাবে উপস্থাপন করার জন্য বাংলা ভাষার মধ্যে ইংরেজি ব্যবহার করে। যাকে আমরা বিরক্ত হয়ে বলছি বাংলিশ! কি ভয়াবহ পরিস্থিতি চিন্তা করা যায়?

এই পরিস্থিতিতে তাদের সামনে যদি কোনো কৃষক কিংবা রিকশাচালক খাঁটি বাংলা ভাষায় কথা বলে তখন তথাকথিত শিক্ষিতরা তাদের বলে নন সফিস্টিকেটেড। অথচ আমাদের এই মাতৃভাষা একদিকে যেমন গৌরবের তেমনি আছে মহান আত্মত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হওয়ার দীর্ঘ ইতিহাস। আমরা বাংলা ভাষার সঠিক মর্যাদা দিতে পেরেছি কি? আমরা কি বিশুদ্ধ বাংলায় কথা বলতে পারি? বাংলা ভাষার বিকৃতি রোধ করতে পেরেছি কি? ভাষা বিকৃত করার পেছনে দায়ী তো আমরাই।

জনতার মধ্যে বাংলা ভাষার এমন বিকৃত রূপ দেখেও সুশীল শ্রেণিরাও চুপচাপ নীরব ভূমিকা পালন করে। শুধু একুশে ফেব্রুয়ারি এলেই রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে কিংবা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে থাকলেই হবে না, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে বাংলা ভাষার বিকৃতি রোধে কার্যকরী উদ্যোগ নিয়ে কাজ করতে হবে। বুকের তাজা রক্ত আর জীবনের বিনিময়ে অর্জিত মাতৃভাষা বাংলার বিকৃত রোধে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমিকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। জনতার মধ্যে বিশুদ্ধ বাংলার সাহিত্যকর্মগুলো ছড়িয়ে দিতে হবে। হৃদয়ে জাগুক বাংলা মায়ের প্রশান্তি।

ইংরেজি ভাষার বিরোধিতা করছি না। ইংরেজি ভাষায় ও আমাদের প্রজন্ম কে দক্ষ হতে হবে। তবে সবার আগে চাই বিশুদ্ধ বাংলার দক্ষতা অর্জন,চর্চা ও এর বিকাশ। আমাদের মাতৃভাষা অর্জনের যে ঐতিহাসিক ত্যাগের ইতিহাস রয়েছে তা পৃথিবীর অন্য কোথায় ও নেই। তাছাড়া মাতৃভাষা কে অবমূল্যায়ন করে কোনো জাতি গোষ্ঠীর লোকজন নিজেদের কে মর্যাদার আসীনে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে নি। তাই আসুন নিজের মা,মাটি ও মাতৃভাষা কে প্রান ভরে ভালোবাসি। মাতৃভাষার সর্বত্র প্রয়োগে কাজ করি।

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

ফেব্রুয়ারী মাসের একটাই শিক্ষা,ভাষাকে ভালোবাসুন

আপডেট টাইম : ০৯:০২:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

রাকিব হোসেন মিলন
আমরা বাঙালি, বাংলা আমাদের প্রাণের মাতৃভাষা। এই মাতৃভাষার পাওয়ার জন্য রাজপথে নেমে এক সাগর রক্ত ঢেলে দিয়েছিল বাংলার বীর সাহসী সন্তানরা। সেই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতি বছর পালিত হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। পুরো ফেব্রুয়ারী মাসটি ই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে বাংলা ভাষার স্থান সপ্তম। একটি ভাষার বেড়ে ওঠা, প্রচার প্রসারের পেছনে থাকে বহু ত্যাগ সীমাহীন শ্রম ও সাধনা। বাংলা ভাষা আমাদের অত্যন্ত আবেগ ও মর্যাদার সম্পদ। কিন্তু আমরা কি মাতৃভাষা ও আমাদের প্রিয় বাংলা ভাষার মর্যাদা সংরক্ষণ করতে পারছি?

আর্থিক সংগতিসম্পন্ন পরিবার তাদের সন্তানকে বাংলা মাধ্যম স্কুলের পরিবর্তে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ভর্তি করাতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। টকশো রেডিও টেলিভিশন নাটক সভা সেমিনারে বাড়ছে ইংরেজির দাপট। বাংলা ক্রমশ হয়ে পড়ছে গরিবের ভাষা। এর জন্য দায়ী আমাদের রাষ্ট্রীয় মানুসিকতা। আছে আমাদের কার্যকরী উদ্যোগের অভাব। অন্যদিকে ভালো ইংরেজি জানা না থাকলে আজকালের বাজারে চাকরি পাওয়া দুরূহ হয়ে উঠেছে । এজন্যই পারিপার্শ্বিক অবস্থার বিচারে ছেলেমেয়েরা বাংলা ভাষাকে উপেক্ষা করে চলছে প্রতিনিয়ত। বাস্তব বিষয় হলো কথ্য বাংলা একদিকে আঞ্চলিকতায় ভরপুর। অন্যদিকে ইংরেজি শব্দের অপপ্রয়োগে ভারাক্রান্ত আমাদের প্রিয় বাংলা ভাষা।

বলা যায় ভাষার প্রতি অনীহা এবং অশ্রদ্ধা থেকেই এই বিকৃতি। শুধু শিক্ষাদানে নয়, শিক্ষা পদ্ধতিতেও ঘটে গেছে বিবর্তন। তৈরি হয়েছে দুটো শ্রেণি। ইংরেজি স্কুলে পড়া বাংলা লিখতে পড়তে না জানা ‘স্মার্ট’ প্রজন্ম এবং বাংলা মাধ্যমে পড়া ইংরেজিতে দুর্বল লজ্জিত কুণ্ঠিত প্রজন্ম। নতুন নতুন ঢঙে বিকৃত হচ্ছে মৌলিক বাংলা শব্দগুলো। বিদ্যালয়, কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ভাষা প্রেম তেমন ফুটে ওঠে না। পরিবেশে নিজেকে একটু শিক্ষিত বা মার্জিতভাবে উপস্থাপন করার জন্য বাংলা ভাষার মধ্যে ইংরেজি ব্যবহার করে। যাকে আমরা বিরক্ত হয়ে বলছি বাংলিশ! কি ভয়াবহ পরিস্থিতি চিন্তা করা যায়?

এই পরিস্থিতিতে তাদের সামনে যদি কোনো কৃষক কিংবা রিকশাচালক খাঁটি বাংলা ভাষায় কথা বলে তখন তথাকথিত শিক্ষিতরা তাদের বলে নন সফিস্টিকেটেড। অথচ আমাদের এই মাতৃভাষা একদিকে যেমন গৌরবের তেমনি আছে মহান আত্মত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হওয়ার দীর্ঘ ইতিহাস। আমরা বাংলা ভাষার সঠিক মর্যাদা দিতে পেরেছি কি? আমরা কি বিশুদ্ধ বাংলায় কথা বলতে পারি? বাংলা ভাষার বিকৃতি রোধ করতে পেরেছি কি? ভাষা বিকৃত করার পেছনে দায়ী তো আমরাই।

জনতার মধ্যে বাংলা ভাষার এমন বিকৃত রূপ দেখেও সুশীল শ্রেণিরাও চুপচাপ নীরব ভূমিকা পালন করে। শুধু একুশে ফেব্রুয়ারি এলেই রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে কিংবা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে থাকলেই হবে না, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে বাংলা ভাষার বিকৃতি রোধে কার্যকরী উদ্যোগ নিয়ে কাজ করতে হবে। বুকের তাজা রক্ত আর জীবনের বিনিময়ে অর্জিত মাতৃভাষা বাংলার বিকৃত রোধে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমিকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। জনতার মধ্যে বিশুদ্ধ বাংলার সাহিত্যকর্মগুলো ছড়িয়ে দিতে হবে। হৃদয়ে জাগুক বাংলা মায়ের প্রশান্তি।

ইংরেজি ভাষার বিরোধিতা করছি না। ইংরেজি ভাষায় ও আমাদের প্রজন্ম কে দক্ষ হতে হবে। তবে সবার আগে চাই বিশুদ্ধ বাংলার দক্ষতা অর্জন,চর্চা ও এর বিকাশ। আমাদের মাতৃভাষা অর্জনের যে ঐতিহাসিক ত্যাগের ইতিহাস রয়েছে তা পৃথিবীর অন্য কোথায় ও নেই। তাছাড়া মাতৃভাষা কে অবমূল্যায়ন করে কোনো জাতি গোষ্ঠীর লোকজন নিজেদের কে মর্যাদার আসীনে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে নি। তাই আসুন নিজের মা,মাটি ও মাতৃভাষা কে প্রান ভরে ভালোবাসি। মাতৃভাষার সর্বত্র প্রয়োগে কাজ করি।