অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল
শিরোনাম :
Logo কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত। Logo পাটগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী Logo আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন Logo আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে: মির্জা ফখরুল Logo এনসিপি নেতাদের মানুষ ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের সৌভাগ্য: রাশেদ খাঁন Logo ঢাকায় প্রেমিকাকে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ Logo আরেকজনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে এসে বড় বিপদে যুবক Logo সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ Logo হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত, আটক স্বামী

তিস্তায় পানি বৃদ্ধির ফলে দেখা দিয়েছে বন্যা, মানবেতর জীবনযাপন করছেন হাজারো মানুষ।

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক লালমনিরহাট: উজানের অব্যাহত ঢল ও পানি ভারি বৃষ্টিপাতে তিস্তা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে কাউনিয়া পয়েন্টে শুক্রবার (২১ জুন) দুপুর ১২টা থেকে বিপৎসীমার ৫৫ সেমি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে একই সময় তিস্তা ডালিয়া পয়েন্টে পানি কিছুটা কমে বিপৎসীমার ৪৩ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি বৃদ্ধিতে লালমনিরহাট জেলার ৫ উপজেলার তিস্তা নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে রেখেছে কর্তৃপক্ষ।

এদিন সকাল ৬টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ বিপৎসীমার ৩৩ সেমি নিচে রেকর্ড করা হয়। তবে এই পয়েন্টে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুপুর ১২টা থেকে পানি প্রবাহ কমে বিপৎসীমার ৪৩ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যা স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ১৫ সেমি।

শুক্রবার দুপুরে লালমনিরহাট সদর উপজেলা খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল আনন্দ বাজার ও বাগডোরা এলাকা এবং জেলার আদিতমারী উপজেলা মহিষখোঁচা ইউনিয়নের তিস্তা গোবর্ধন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কয়েকশ পরিবার গত ৪ দিন থেকে পানিবন্দি রয়েছেন। পানিতে তলিয়ে গেছে চলাচলের রাস্তা।

সেই সঙ্গে তলিয়ে গেছে নদী তীরবর্তী স্কুলের খেলার মাঠ। পানি উঠেছে স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিক ও মসজিদে। ফলে অতি কষ্এটে দিন পবিত্র জুমার নামাজ মসজিদ সংলগ্ন রাস্তার এক পাশে আদায় করেছেন মুসল্লিরা।

পানিবন্দি মানুষগুলো বেশি বিপাকে পড়েছে গরু ছাগল ও হাঁস মুরগি নিয়ে। বাড়ি ছেড়ে দুরে উঁচু রাস্তায় গরু ছাগল বেঁধে রেখেছে তারা। ঘরে পানি উঠায় রান্না করতে পারছে না পরিবারগুলো। ফলে তাদের শুকনো খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে এখনো সরকারি ব্যবস্থাপনায় পানিবন্দি মানুষদের শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়নি বলে জানান স্থানীয়রা।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রাশেদীন ইসলাম জানান, প্রচুর বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে তিস্তায় পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চলে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। পানি বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে তিস্তা কাউনিয়া পয়েন্টে। তবে শুক্রবার সকাল থেকে তিস্তা ডালিয়া পয়েন্টে পানি কিছুটা কমেছে।

এদিকে তিস্তায় পানি বৃদ্ধিতে লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, কালমাটি, রাজপুর, গোকুণ্ডা ইউনিয়ন, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, পলাশী ইউনিয়ন, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, শৈইলমারী, নোহালী, চর বৈরাতি ইউনিয়ন, হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, সিঙ্গামারি ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ী এবং পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার বাদাম ক্ষেত, ধান বীজতলা, মিষ্টি কুমড়াসহ অন্যান্য ফসলি জমি পানিতে ডুবে গেছে।

এলাকার কৃষকরিজানান, পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদী তীরবর্তী অনেক ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। গত ৪ দিন থেকে আমরা পানিবন্দি। পানির নিচে লেট্রিন, টিউবওয়েল ও চুলা। রান্না করতে না পেরে পাউরুটি ও টোস্ট বিস্কুট খেয়ে আমরা বেঁচে আছি। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছি।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার রায় জানান, ভারতের সিকিমে বন্যা সৃষ্টি হয়েছে। মূলত, উজানের পানিতেই তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। উজান থেকে আরও ব্যাপকহারে তিস্তা নদীতে পানি প্রবেশ করলে বাংলাদেশ অংশের তিস্তা নদী তীরবর্তী পুরো অঞ্চল প্লাবিত হবে।

কায়েতপাড়া ভিটা-মাটি ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের বিক্ষোভ, কোম্পানি ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

তিস্তায় পানি বৃদ্ধির ফলে দেখা দিয়েছে বন্যা, মানবেতর জীবনযাপন করছেন হাজারো মানুষ।

আপডেট টাইম : ০১:৩২:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক লালমনিরহাট: উজানের অব্যাহত ঢল ও পানি ভারি বৃষ্টিপাতে তিস্তা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে কাউনিয়া পয়েন্টে শুক্রবার (২১ জুন) দুপুর ১২টা থেকে বিপৎসীমার ৫৫ সেমি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে একই সময় তিস্তা ডালিয়া পয়েন্টে পানি কিছুটা কমে বিপৎসীমার ৪৩ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি বৃদ্ধিতে লালমনিরহাট জেলার ৫ উপজেলার তিস্তা নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে রেখেছে কর্তৃপক্ষ।

এদিন সকাল ৬টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ বিপৎসীমার ৩৩ সেমি নিচে রেকর্ড করা হয়। তবে এই পয়েন্টে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুপুর ১২টা থেকে পানি প্রবাহ কমে বিপৎসীমার ৪৩ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যা স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ১৫ সেমি।

শুক্রবার দুপুরে লালমনিরহাট সদর উপজেলা খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল আনন্দ বাজার ও বাগডোরা এলাকা এবং জেলার আদিতমারী উপজেলা মহিষখোঁচা ইউনিয়নের তিস্তা গোবর্ধন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কয়েকশ পরিবার গত ৪ দিন থেকে পানিবন্দি রয়েছেন। পানিতে তলিয়ে গেছে চলাচলের রাস্তা।

সেই সঙ্গে তলিয়ে গেছে নদী তীরবর্তী স্কুলের খেলার মাঠ। পানি উঠেছে স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিক ও মসজিদে। ফলে অতি কষ্এটে দিন পবিত্র জুমার নামাজ মসজিদ সংলগ্ন রাস্তার এক পাশে আদায় করেছেন মুসল্লিরা।

পানিবন্দি মানুষগুলো বেশি বিপাকে পড়েছে গরু ছাগল ও হাঁস মুরগি নিয়ে। বাড়ি ছেড়ে দুরে উঁচু রাস্তায় গরু ছাগল বেঁধে রেখেছে তারা। ঘরে পানি উঠায় রান্না করতে পারছে না পরিবারগুলো। ফলে তাদের শুকনো খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে এখনো সরকারি ব্যবস্থাপনায় পানিবন্দি মানুষদের শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়নি বলে জানান স্থানীয়রা।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রাশেদীন ইসলাম জানান, প্রচুর বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে তিস্তায় পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চলে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। পানি বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে তিস্তা কাউনিয়া পয়েন্টে। তবে শুক্রবার সকাল থেকে তিস্তা ডালিয়া পয়েন্টে পানি কিছুটা কমেছে।

এদিকে তিস্তায় পানি বৃদ্ধিতে লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, কালমাটি, রাজপুর, গোকুণ্ডা ইউনিয়ন, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, পলাশী ইউনিয়ন, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, শৈইলমারী, নোহালী, চর বৈরাতি ইউনিয়ন, হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, সিঙ্গামারি ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ী এবং পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার বাদাম ক্ষেত, ধান বীজতলা, মিষ্টি কুমড়াসহ অন্যান্য ফসলি জমি পানিতে ডুবে গেছে।

এলাকার কৃষকরিজানান, পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদী তীরবর্তী অনেক ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। গত ৪ দিন থেকে আমরা পানিবন্দি। পানির নিচে লেট্রিন, টিউবওয়েল ও চুলা। রান্না করতে না পেরে পাউরুটি ও টোস্ট বিস্কুট খেয়ে আমরা বেঁচে আছি। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছি।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার রায় জানান, ভারতের সিকিমে বন্যা সৃষ্টি হয়েছে। মূলত, উজানের পানিতেই তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। উজান থেকে আরও ব্যাপকহারে তিস্তা নদীতে পানি প্রবেশ করলে বাংলাদেশ অংশের তিস্তা নদী তীরবর্তী পুরো অঞ্চল প্লাবিত হবে।